• সুচন্দ্রা দে, কাটোয়া
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

শিবপুজোর পরেই প্রাণ পান পার্বতী

Puja Parikrma
প্রস্তুতি: শিবলুনে প্রতিমা তৈরি। নিজস্ব চিত্র

দুর্গা এখানে একেবারেই শিবের ঘরণী। স্বামীকে ফলমূল নিবেদন না করে পুজো শুরু হয় না। বোধনের দিনেও শিবপুজোর পরেই দুর্গামূর্তিতে প্রাণ‌ প্রতিষ্ঠা করেন পুরোহিত। শতাধিক বছর ধরে এমনই রীতি কেতুগ্রামের শিবলুন চট্টোপাধ্যায় বাড়িতে।

শোনা যায়, বরাবরই এই পরিবারের গৃহদেবতা শিব। পূর্বপুরুষ তারিণী ভট্টাচার্য স্বপ্নাদেশ পেয়ে দেবী দুর্গার পুজো শুরু করেন। তাঁর ছেলে নারদমোহনের কোনও ছেলে না থাকায় মেয়ে সুবর্ণাসুন্দরীর হাতেই পুজোর সমস্ত দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়। তাঁর বংশধরেরাই এখনও পুজো চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে পুজোর দায়িত্বে রয়েছেন পঞ্চম পুরুষ নারায়ণচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘একসময় এই পুজোয় ব্রাহ্মণ ছাড়া অন্যদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু আমার মা এই নিয়ম তুলে দেন। গ্রামের সকলেই এখন আনন্দে উৎসব যোগ দেন।’’

আরও পড়ুন: শিল্পীর ভাবনায় নিজস্বী

কাঠা দশেক জায়গার উপর শিবমন্দির লাগোয়া দুর্গামন্দির। দুর্গামন্দিরে বছরভর কাঠামো থাকলেও শিবমন্দিরে রোজ নিয়ম মেনে পুজার্চনা করেন বাড়ির ছোট ছেলে পীযূষ চট্টোপাধ্যায়। কথিত আছে, রোজ রাতে নিজের মন্দির থেকে বেরিয়ে দুর্গা শিবমন্দিরে যান। এরকমই যাওয়ার পথে একদিন শুয়েছিলেন পাড়ার গোয়ালা নবকুমার ঘোষ। শিবমন্দিরে ঢুকতে বাধা পাওয়ায় দেবী তাঁকে ধাক্কা দেন। ছিটকে পড়েন নবকুমার। তারপরেই সংস্কার করে পাকা মন্দির নির্মাণ করেন চট্টোপাধ্যায় পরিবার। বংশপরম্পরায় মন্দিরের ভেতরেই একচালা দেবীমূর্তি তৈরি করেন বাবুসোনা সূত্রধরের পরিবার।

আরও পড়ুন: প্রাক পুজোর বুক-ডন আর দু’টি জিলিপির আখ্যান

রীতি অনুযায়ী গ্রামে ষষ্ঠীর ভোরে ঘট ভরতে যাওয়ার সূচনা হয় চট্টোপাধ্যায় পরিবার থেকেই। সাতটি বাড়ির পুজো কর্তারা চট্টপাধ্যায় পরিবারে জড়ো হওয়ার পরেই গঙ্গায় ঘট নিয়ে যাওয়া হয়। পুজোর চারদিন ‘একভাপা’ নামে বিশেষ অন্নভোগ দেওয়া হয় দেবীকে। হেঁসেলে নয়, বাড়ির মেয়ে-বৌ’রা মন্দিরের পাশের মাঠের উনুন জ্বালিয়ে দেবীর এই ভোগ তৈরি করেন। অষ্টমীতে প্রথমে ২৮ প্রদীপ জ্বেলে দেবীকে আলোকিত করা হয়। তারপরে পড়শিদের সঙ্গে নিয়ে চলে আতসবাজির খেলা। নবমীতে চালকুমড়ো ও আখ বলি দেওয়া হয়। পরিবারের মেয়ে বিমলা মুখোপাধ্যায়, জামাই কৃষ্ণকিশোর মুখোপাধ্যায়েরা বলেন, ‘‘আমাদের পুজো মানেই শিবলুনে আসা। বনেদিয়ানা বজায় রাখতে না পারলেও গ্রামের সকলের সঙ্গে পুজোর আনন্দ ভাগ করে নিই।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন