• সুচন্দ্রা ঘটক
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

পুজোয় চাই

আঁচ কমুক ক্যাব ভাড়ায়

cab
প্রতীকী চিত্র।

আকাশ একটু মুখ কালো করলেই হলো, চকচক করে ওঠে ক্যাব ডাকার অ্যাপের চোখমুখ। তার উপরে আবার হাওয়ায় উৎসবের গন্ধ। মোবাইলের পর্দায় হাত পড়তেই হল্কা লাগে যেন!

এমনিতেই অভিযোগ, বদনাম কুড়োতে অভ্যস্ত হলুদ ট্যাক্সির দাপট বাড়ে পুজোর সময়ে। তার উপরে বর্ষার শুরু থেকেই বাড়তে শুরু করেছে
অ্যাপ-ক্যাবের সার্জ। ঘোর বর্ষায় এক-এক দিন আট কিলোমিটার পথ যেতে চার-পাঁচশো টাকা ভাড়া
ওঠারও অভিযোগ মিলেছে। সেই
‘জুলুম’ মেনে নিতে হয়েছে বেশির ভাগকেই। বর্ষা কাটার আগেই শুরু হয়ে গিয়েছে পুজোর কেনাকাটার ভিড়। যে সব বাজার চত্বরে চাপ বেশি, সেখান থেকে অ্যাপ-ক্যাব পাওয়াই ভার। টানা মাস কয়েকের হয়রানির পরে আতঙ্কের পারদ বাড়ছে যাত্রীদের। পুজো আসছে, গাড়ির চাহিদা বাড়বে। ভাড়া কি তবে এ বার চার-পাঁচ গুণ হবে? ঠাকুর দেখা তো পরের কথা, কোনও জরুরি দরকারের সময়ে গাড়ি মিলবে তো পুজোর শহরের?

আরও পড়ুন: স্বপ্নাদেশ পেয়ে উঠে যায় বলিদান প্রথা

চিন্তা হবে না-ই বা কেন? প্রশ্ন তোলেন এক আইটি কর্মী। তিনি বলেন, ‘‘ঠিক সময়ে নিউ টাউনে অফিস পৌঁছতে অ্যাপ-ক্যাবেই ভরসা করতে হয়। কিন্তু ভরসা আর রাখা যাচ্ছে না। এখন তো শুধু উপলক্ষের অপেক্ষা। অ্যাপ-ক্যাবে উঠলেই তিন-চার গুণ ভাড়া গোনা এ শহরে যে এক রকম নিয়ম হয়ে গিয়েছে।’’

যাত্রীদের বক্তব্য, দাবি মতো ভাড়া দিতে রাজি না হলে চলাফেরাই দায়। অভিযোগ, পুজোর বাজারের ভিড়ের মাঝে অফিস সেরে ফেরার সময়ে নিউ মার্কেট থেকে লেক টাউন যেতে শেয়ারের গাড়িও হেঁকেছে ৩৫০ টাকা। পেশায় ব্যাঙ্ককর্মী আকাশ মিত্র অনেক ক্ষণ অপেক্ষা করেছেন গ্রহণযোগ্য ভাড়ায় গাড়ি পেতে। আধ ঘণ্টা পরেও ভাড়া না নামলে হতাশ আকাশ বলেন, ‘‘এখন তো কিছুই না, পুজো আসুক। সব টাকা শুধু ট্যাক্সি ভাড়াতেই চলে যাবে বোধ হয়!’’

কসবার স্কুল থেকে মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফেরার সময়ে একই সমস্যায় পড়ছেন যাদবপুরের বাসিন্দা সঙ্গীতা বিশ্বাস। তাঁরও চিন্তা, ‘‘পুজোর যত এগোবে, ততই চড়বে না তো ভাড়া?’’

স্বস্তির আশ্বাস মিলছে না কোনও অ্যাপ-ক্যাব সংস্থার তরফেও। একটি ক্যাব সংস্থা সূত্রে জানানো হয়, তাদের ভাড়া ওঠে-নামে চাহিদার উপরে ভিত্তি করেই। ফলে যে সময়ে যে-সব জায়গায় লোক বেশি, সেই জায়গায়
ভাড়া বেশি। যেমন হয়েছে আকাশবাবুর
ক্ষেত্রে। কেনাকাটায় জমজমাট নিউ মার্কেট চত্বর থেকে রোজ অফিস করে বাড়ি ফেরার ক্যাব পেতে রীতিমতো হয়রান হতে হচ্ছে নিত্যযাত্রীদের।

আরও পড়ুন: আগাম বুকিংয়ে ভোগের হাঁসের ডিম

তবে কি জরুরি পরিস্থিতিতেও আগুন ভাড়া দিয়েই যেতে হবে ডাক্তার দেখাতে কিংবা ট্রেন-প্লেন ধরতে। ঘণ্টা ভিত্তিতে পাওয়া ভাড়ার গাড়িও যে পুজোর সময়ে ঠাকুর দেখার জন্য বাধা থাকে চড়া দাম। সে সব গাড়ি বুক করাও হয়ে যায় মাস খানেক আগে থেকে। ফলে হঠাৎ বিপদেও পাড়ার কোনও ট্র্যাভেলসের গাড়ি ঝট করে মেলে না। অ্যাপ-ক্যাব চালু হতে অনেকেই ভেবেছিলেন, সমস্যা মিটল। তবে কি পাকাপাকি ভাবেই সেই আশায় জল ঢালল অ্যাপ-ক্যাব, প্রশ্ন শহরবাসীর একাংশের।

আশঙ্কা না কাটলেও উব্‌রের আশ্বাস, ঠাকুর দেখতে যত টাকাই লাগুক পুজোর ক’দিন হয়রানি থেকে ছাড় পাবেন অসুস্থেরা। রাজ্য সরকারের
অনুরোধ মেনে, শহরের ১৫টি হাসপাতালের তালিকা তৈরি করেছে ওই সংস্থা। যে কোনও জায়গা থেকেই ওই সব হাসপাতালে যাওয়ার ক্যাব ডাকলে বিল আসবে সার্জ ছাড়া। ওলার
তরফে অবশ্য এমন কোনও ব্যবস্থা হয়েছে বলে জানা যায়নি। সূত্রের খবর, পুজোর শহরে গাড়ির জোগানের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে ভাড়া।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন