• নিজস্ব সংবাদদাতা, ময়ূরেশ্বর
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বন্দুক দেগেই এখনও সন্ধিপুজো

puja
সাফসুতরো: ময়ূরেশ্বরের কুণ্ডলা গ্রামে। নিজস্ব চিত্র।

জমিদারি গিয়েছে, গিয়েছে সেই বোলবোলা। পলেস্তারা আর খি লান ছেড়ে ছেড়ে পড়ছে। শ্যাওলা ধরা দেওয়ালের সোঁদা গন্ধে জমিদার বাড়ির সর্বাঙ্গে কেমন যেন দৈন্যতার ছাপ। পুজো কার্যত মাতৃদায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। চাঁদা আর যৎসামান্য দেবোত্তর জমির আয়ে সেই দায় পালন করে চলেছেন বর্তমান প্রজন্ম। তবু সেদিনের সেই আভিজাত্যের প্রতীক ধরে রেখেছে জমিদারবাড়ি। আজও কুণ্ডলা গ্রামে বন্দুক দেগেই সন্ধিপুজোর সূচনা হয়।

প্রচলিত রয়েছে, প্রায় তিন শতাধিক বছর আগে বর্ধমান জেলার সিতহাটী গুড়পাড়া থেকে প্রভুরাম মুখোপাধ্যায় নামে এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ ময়ূরেশ্বরের কুণ্ডলা গ্রামে তেজারতি কারবার করে বিত্তশালী হন। তিনিই ওই গ্রামে দুর্গা পুজোর প্রচলন করেন। সেই পুজোই কুণ্ডলার জমিদারবাড়ির পুজো হিসাবে পরিচিত। পরবর্তীকালে অবশ্য আরও দু’তরফ পুজো প্রচলন করেন। কিন্তু বড়ো তরফের পুজোই আদি এবং প্রাচীন বলে পরিবারের দাবি।

আরও পড়ুন: পুজো মণ্ডপে কাটাপ্পা-বাহুবলী

শাক্তমতে পুজো হলেও এককালে ওই পুজোর রমরমাই ছিল আলাদা।

সাত দলের বাজনা-সহ দোলা আনা আর বিসর্জনের শোভাযাত্রার কথা এলাকার লোকের মুখে মুখে ফিরত। সেই সময় নিরাপত্তা এবং জমিদারবাড়ির আভিজাত্যের প্রতীক হিসাবে বিবেচিত হত বন্দুক। সেই বন্দুক দেগেই অষ্টমীর সন্ধিপুজোর সূচনা হত। পুরুষানুক্রমে বন্দুক দাগার কাজটি করে চলেছেন ৪৫ বছরের গোরাচাঁদ মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘এখন তো বন্দুক কোনও কাজেই লাগে না। তবু প্রথা রক্ষার্থে রাখতে হয়েছে। প্রতিবছর নবীকরণ করা থেকে শুরু করে কলকাতায় গুলি কিনে আনতে হয়। তারপর পুজো এলেই সারাবছর পড়ে থাকা বন্দুক নামিয়ে যত্ন নেওয়ার কাজ চলে। পর কয়েকটা গুলি করে ঝালিয়ে নিতে হয়। বলা তো যায় না, যদি ‘মিস’ হয় তাহলে ঘোর অমঙ্গল।’’

হারানো দিনের সেই সব স্মৃতি আজও চোখের সামনে ভাসে ৮০ বছরের বিভুদান মুখোপাধ্যায়, সমীর মুখোপাধ্যায়, ৭০ বছরের কমলা মুখোপাধ্যায়, হিঙ্গুল মুখোপাধ্যায়দের। তাঁরা জানান, এখন একটাই বন্দুক। তাই গুলি না হওয়া পর্যন্ত খুব দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। কিন্তু একদিন জমিদারবাড়িতে ১০/১২টা বন্দুক ছিল। কর্তারা সব ধোপদুরস্ত ধুতি-পাঞ্জাবি পড়ে গোল হয়ে আকাশের দিকে বন্দুক তাক করে দাঁড়াতেন।

আরও পড়ুন: মণিপুরি নাচের ছন্দ সিউড়ির চৌরঙ্গিতে

বাচ্চারা তো ভিড় জমাতই, মহিলারাও মণ্ডপ থেকে দেখতেন সেই বন্দুক দাগা। তারপরে কার কর্তা কেমন পারদর্শী তা নিয়ে পুজো ক’দিন চলত হাসি-ঠাট্টা, খুনসুটি। অকৃতকার্য হলে ছাড় পেতেন না কর্তারাও। একান্তে গৃহিনীর মুখ ঝামটা খেতে হত তাঁদেরও। পরিবারের বর্তমান প্রজন্মের সুব্রত মুখোপাধ্যায়, পলাশ মুখোপাধ্যায়রা বলেন, ‘‘পুজো বর্তমানে আমাদের কাছে মাতৃদায়ের সামিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যের সাহার্য্য নিয়েও মাতৃদায় উদ্ধার করতে হয়। আমাদেরও আজ জমিদারবাড়ির পুজোয় নিজেদের পাশাপাশি অন্যের কাছেও চাঁদা নিতে হয়।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন