• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ভাঙা ঘরের দুর্গাই লন্ডনে

Durga Idol
সৃষ্টি: নন্দিতার কাজ। নিজস্ব চিত্র

বাবা ছিলেন মৃৎশিল্পী। খুব ছোট বয়সেই তাকে হারিয়েছিলেন। পরে হারিয়েছেন মাকেও। মাটির পুতুল গড়ে জীবন সংগ্রামও শুরু সেই তখন থেকেই। তারপর কখন গড়িয়ে গিয়েছে যৌবন। এখন নন্দিতা ৪৭। নিজের ক্ষেত্রে রীতিমতো প্রতিষ্ঠিত। এ বার নন্দিতা দেবনাথের হাতে গড়া শোলার দুর্গা পাড়ি দিচ্ছে লন্ডনে।

দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট শহরের বঙ্গিবাদুরতলা এলাকায় বাড়ি নন্দিতার। আগাগোড়া শোলা কেটে প্রায় আড়াই ফুট উঁচু এক চালার দুর্গা প্রতিমা নিপুন হাতে গড়ে তুলেছেন নন্দিতাদেবী। এটিই যাচ্ছে সাগর পাড়ে। পাশাপাশি বাড়ির পুজোর জন্য মাটির দু’টি দুর্গা প্রতিমাও গড়ছেন তিনি। সরকারি শিল্পীর তালিকায় তার নাম থাকলেও মেলেনি কোনও সরকারি সাহায্য। এমন কি ঋণও পাননি বলে আক্ষেপ করেন।

আরও পড়ুন: পঞ্চাশ বছরে হরেক আকর্ষণ

সারা বছর সরকারি মেলায় পুতুল ও শোলার তৈরি নানা মূর্তি এবং ঘরসজ্জার জিনিস তৈরি করে বিক্রি করেন। তাতেই কোনওমতে গ্রাসাচ্ছাদনের ব্যবস্থা হয়। এ বছর জানুয়ারিতে বালুরঘাটে সরকারি মেলায় তাঁর হাতের কাজ দেখে লন্ডনের এক প্রবাসী বাঙালি অগ্রিম ৫ হাজার টাকা দিয়ে শোলার দুর্গামূর্তি তৈরির বায়না দিয়ে যান। নন্দিতাদেবীর কথায়, ‘‘গতবার চেন্নাইতে শোলার দুর্গামূর্তি গিয়েছে। কিন্তু বড় কিছু গড়ার ইচ্ছে আর্থিক অভাবে পূর্ণ হচ্ছে না। জেলা তথ্য সংস্কৃতি দফতরে শিল্পীর তালিকায় নাম থাকলেও ভাতা মেলেনি।’’

নন্দিতাদেবীর বাবা মতিলালবাবু ও মা অন্নদাদেবী দুজনেই ছিলেন শোলাশিল্পী। মাটির প্রতিমাও গড়তেন। নন্দিতার কথায়, ‘‘আমার এক বছর বয়সে বাবা মারা যান। এরপর মা-ই শোলার কাজ করে আমাকে বড় করে তোলেন।’’ পরবর্তীতে অসুস্থ মাকে দেখাশোনা ও জীবন চালাতে মাটির পুতুল তৈরির ভার কাঁধে নিয়ে নিজের সংসার আর করা হয়নি নন্দিতার। মাটির উপর টিনের ছাউনি দেওয়া ছোট দু’টি ভাঙা ঘর এবং ভেঙে পড়া প্রতিমা গড়ার জায়গাটি ঠিক করে আরও বড় কিছু শিল্প গড়ে তোলার স্বপ্ন থমকে রয়েছে। নন্দিতার কথায়, ‘‘ব্যাঙ্কে আবেদন করেও ঋণ পাইনি।’’ হাতেগোনা মেলা। সম্বৎসর দুর্গা গড়ার ফাঁকে এই ভাঙা ঘরেই স্বপ্ন দেখেন নন্দিতা।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন