• নিজস্ব প্রতিবেদন
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সারদা মা-ই এখানে মা দুর্গা

pujo
এই আশ্রম শ্রীশ্রীমায়ের পুজোর মাধ্যমে শারদ উতসবে দুর্গা বন্দনা করে।

প্রায় কুড়ি বিঘা জমিতে গড়ে উঠেছে শ্রীরামকৃষ্ণ প্রেমবিহার আশ্রম। ফুলে ফুলে ঘেরা এই আশ্রমের বাগানের কোলে দুটি পুকুর। একটি মায়ের ও একটি ঠাকুরের। সারদাদেবী নামাঙ্কিত পুকুরের জল ব্যবহৃত হয় পুজোর যাবতীয় কাজে। শ্রীরামকৃষ্ণ নামের পুকুরটিতে বিসর্জন হয় মৃন্ময়ীমূর্তির। 

অনাথ ও হাতে গোনা কয়েকজন সাধু-ব্রহ্মচারী নিয়ে গড়ে উঠেছে যে আশ্রম সেখানে এখন নানা সমাজসেবামূলক কাজের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে সারদা-দুর্গাপুজোর নানা প্রস্তুতি। সারদাদেবীকে দুর্গারূপে পুজো করা হয় হাওড়া জেলার আমতার খড়িয়প আশ্রমে। স্বামী বিবেকানন্দের কাছে সারদাদেবী ছিলেন ‘জীবন্ত দুর্গা'। তাই তো পথ চলা শুরু মায়ের কথা মাথায় রেখে, ‘তরকারির খোসাটিও গরুর প্রয়োজন। তাই তাকে ফেলে না দিয়ে তাকে গুছিয়ে প্রাণীটির মুখের সামনে তুলে ধরাটাও একটা কাজ’। সহজ কথাটি সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দিয়েছিলেন জীবের প্রতি সেবা-কর্ম ও সম্মানের দর্শন। এই আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এগিয়ে চলেছে শ্রীরামকৃষ্ণ প্রেমবিহার আশ্রম। পরিচালনা করছেন আশ্রম-আচার্য স্বামী সম্বুদ্ধানন্দ।

কলকাতার চিড়িয়ামোড়ের প্রধান কার্যালয়ে মহালয়ার দিন সন্ধ্যায় অসংখ্য মায়েদের নানা উপাচারে আরতি করে ‘মাতৃবরণ’ অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা করে আশ্রম। সারদা-উতসবের এটিই সূচনা-পর্ব। পঞ্চমীর গভীররাতে খড়িয়পে মৃন্ময়ীদেবী আসেন কুমোরটুলি থেকে। দেবীকে প্রদীপ-চামর-ধূপ-শঙ্খধ্বনি দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে সারদাদেবীকে স্থাপন করা হয় মূল মন্দির থেকে মণ্ডপে। শুরু হয় বিভিন্ন শাস্ত্রীয় পাঠ ও সাধন কর্ম। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে দেবীর বোধন-আমন্ত্রণ-অধিবাসের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় পুজো।

আরও পড়ুন: পুজো মণ্ডপে কাটাপ্পা-বাহুবলী

শুধু পুজোপাঠে থেমে নেই মূল কার্যালয় দমদম শ্রীরামকৃষ্ণ প্রেমবিহার আশ্রম। আর্তের সেবায় পাশে আশ্রম বরাবরই থাকে। পাশে দাঁড়ান শিষ্য-ভক্তের দলও। শাখাআশ্রম হাওড়ার খড়িয়পকে কেন্দ্র করে বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যাদুর্গতদের পাশে থাকা এখন প্রতি বছরের সেবা। এখানেই নির্মাণ হচ্ছে শ্রীরামকৃষ্ণ, সারদাদেবী ও স্বামী বিবেকানন্দের মায়ের বিশাল মন্দির। যেখানে থাকতে পারবে আশ্রমে আশ্রিত বালকেরা। উত্তর ২৪ পরগণার গুমাশাখায় স্বনির্ভরগোষ্ঠীর মহিলাদের দ্বারা কুটিরশিল্প ‘সমাজমন্দির’ তৈরি হয়েছে, সেখান থেকে শহরে আসে নানা সাংসারিক খাদ্যদ্রব্য ও মশলা। চাষাবাদ নিজস্ব জমিতে এলাকার পুরুষ দ্বারা হচ্ছে। নানা ধরণের হাতের কাজে যুবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রাথমিক স্কুলে আসে এলাকার শিশুরা। এ ছাড়া প্রতি রবিবার ভ্রাম্যমান চিকিৎতসা-গাড়ি খড়িয়প, গুমা ও বীরভূমের কীরণাহারে পালাবদল করে রোগীর চিকিতসা চালায়। শাখার কাজ ছড়িয়ে পড়েছে কলকাতার চালতাবাগান ও নিউব্যারাকপুর কেন্দ্রে। নানা মানুষের সাহায্যে আশ্রম-মুখপত্র ‘অভিলাষ’ প্রকাশিত হয় ত্রৈমাসিক সংখ্যায়।

স্বামীজির ছোট বোন যোগীন্দ্রবালার বিয়ে হয়েছিল আমতার খড়িয়প গ্রামের জমিদার বাড়িতে। স্বামিজীর মৌলিক চিন্তার মধ্যে নারী জাগরণের স্থান ছিল বিশেষ ভাবে। তারই প্রকাশ দেখেছিলেন স্বামীজি ভগিনীর মধ্যে। মাত্র বাইশ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। সেই মৃত্যু স্বামীজির মনে প্রবল আলোড়ন তুলেছিল। তাঁরই শ্বশুরবাড়ির জমিতে গড়ে উঠেছে এই সেবামূলক প্রতিষ্ঠান।

আরও পড়ুন: মণ্ডপ যেন লোকশিল্পের গ্যালারি

দুর্গা সকল শক্তির আধার ও নারীশক্তির প্রতীক। তাই আশ্রম শ্রীশ্রীমায়ের পুজোর মাধ্যমে শারদ উতসবে দুর্গা বন্দনা করে। ষষ্ঠীতে কয়েক হাজার নতুন বস্ত্রদান করা হয় দুঃস্থ মায়েদের। মহাষ্টমীতে প্রায় হাজার কুড়ি নারায়ণ সেবা হয় আশ্রমপ্রাঙ্গণে। উত্তর কলকাতার একটি ঘরে কয়েকজন বালককে নিয়ে স্বামী সম্বুদ্ধানন্দ স্বামীজি সমাজসেবার আলোচনা করতেন। তাঁকে কেন্দ্র করে ১৯৯৬তে আমতার আশ্রম গড়ে উঠলেও দুর্গাপুজো শুরু হয় ১৯৯৯ থেকে। এখানে দেবীর বিসর্জন নেই, হয় ঘর বদল। দশমীতে সারদাদেবী ফিরে যান শ্রীরামকৃষ্ণের পাশে, আশ্রম-মন্দিরে। । 

 

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন