• অনুপ চট্টোপাধ্যায়, কুন্তক চট্টোপাধ্যায়
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বিভেদ ভুলে সমন্বয়, বুঝিয়ে দিচ্ছে থিম

puja parikrama
প্রতীকী ছবি।

দেশজুড়ে ধর্ম নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছেই। কিন্তু শারদোৎসব যে ধর্মের বিভেদকে ছাপিয়ে আক্ষরিক অর্থেই সামাজিক মেলবন্ধনের ক্ষেত্র সেই বার্তাই এ বার দিচ্ছে মহানগর! কোথাও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকেই থিম করেছে পুজো কমিটি, কোথাও আবার হিন্দু-মুসলিম শিল্পীরা এক সঙ্গেই তৈরি করছেন দেবী আরাধনার মণ্ডপ।

মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ার পুজো কালীঘাট মিলন সঙ্ঘের থিম এ বার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। শিল্পী যুগল সৌমিক ও পিয়ালী সেখানে তুলে ধরছেন বাঙালির চিরাচরিত সহিষ্ণুতাকেই। পুজোকর্তারা বলছেন, এই সম্প্রীতিই মানবতাকে তার লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে পারে। সম্প্রীতির থিমে তুলে ধরা হচ্ছে বাংলাদেশের ফকিরের লেখা গান।

হরিদেবপুরের ৪১ পল্লির পুজোয় ঢুকলেই চোখে পড়বে বিরাট এক রামধনু, আসলে যা সাতটি ধর্মের মেলবন্ধন। শিল্পী গৌরাঙ্গ কুইল্যা যাকে ঢেকে দিচ্ছেন কালো মেঘে। ভিতরে থাকছে এক বিরাট অক্টোপাস, আট হাতে আট ধর্মের ফলা নিয়ে যে আক্রমণ করছে পৃথিবীতে আসা সদ্যোজাতকে। প্রতিমা অস্ত্র ধারণ করেননি, অস্ত্রকে পায়ে মাড়িয়ে মাতৃরূপে হাজির হবেন তিনি। পুজোকর্তা দীপঙ্কর চট্টোপাধ্যায় বলছেন, ‘‘মণ্ডপে সাত ধর্মের প্রতীক হিসেবে সাতটি হাত থাকছে। দর্শকেরা চাইলে সেই হাতে রাখি পরাতে পারবেন।’’

আরও পড়ুন: স্বপ্নাদেশ পেয়ে উঠে যায় বলিদান প্রথা

কসবায় রাজডাঙা নব উদয় সঙ্ঘের পুজো এ বার থিম এ বার ‘মার্গ দ্যা ওয়ে’। মানুষের মধ্যে কোনও ভেদ নেই। শরীরে, চলনে, বলনে পৃথিবীর সকলেই এক। কিন্তু ভেদাভেদ এনেছে ধর্ম। কিন্তু যে ধর্মেরই হোন না কেন, অন্তিমে সকলকে যেতে হবে একই জায়গায়। সেই চিত্রই তুলে ধরেছেন শিল্পী সুশান্ত পাল। মণ্ডপে ঢোকার ৬টি প্রবেশপথ থাকছে। গির্জা, হিন্দু মন্দির, মসজিদ, বৌদ্ধ মন্দির, গুরুদ্বার এবং জৈন মন্দির। যে পথ দিয়েই যান না কেন, এসে মিলতে হবে এমন একটা জায়গায় যেখানে সব ধর্ম এক হয়ে গিয়েছে। অঝোর ধারায় বৃষ্টি পড়ছে। তার ভেতর দিয়ে পৌঁছতে হবে চার দিকে ধোঁয়া পরিবেষ্টিত অন্য এক লোকে। দৃশ্যমান হবে এক অপরূপা নারী। নিচে এক পাটাতনে খোদাই করা থাকবে সপরিবার দেবী দশভূজা।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে এখন বড়ই সচেতন রাজ্য। এ বার পুজোর থিমে সেই ভাবনাকেই স্থান দিয়েছে উত্তর কলকাতার পাথুরিয়াঘাটা স্ট্রিট পাঁচের পল্লি। মণ্ডপ জুড়ে ঘণ্টা আর প্রদীপ। হর পার্বতী থেকে যিশু, গুরুনানক— সকলেরই মূর্তি থাকবে। মাথার উপরে থাকবে সূর্য। আর বৌদ্ধমূর্তির ধাঁচে দেবী দুর্গা। রাজ্য পর্যটন দফতরের পুজো মানচিত্রে ঠাঁই মিলেছে এই পুজোরও।

আরও পড়ুন: পুজো-তারাদের থিমে হাজির শিল্পীও

বেহালার রায়বাহাদুর রোডের নেতাজি সঙ্ঘেরও থিমেও উঠে আসছে সম্প্রীতির বার্তা। শুধু তাই নয় বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধিরও প্রতিবাদ করছে ক্লাব কমিটি। ডায়মন্ড হারবারের এক দল মুসলিম ছাত্রী সহপাঠীর বিয়ে রুখে দিয়েছিল। সেই ছাত্রীদেরও পুজোয় এনে কুর্নিশ জানাচ্ছে পুজো কমিটি। বেহালা ক্লাবও স্ফটিকের সাজে সর্ব ধর্মের মিলনকেই তুলে ধরছে।

দক্ষিণ শহরতলির পূর্বাচল জাগরী সঙ্ঘে ‘রং দিয়ে সং’-এর থিম পুরোটাই রূপ পাচ্ছে শিল্পী পিন্টু মোল্লার হাতে। পুজো কমিটির এক সদস্য বলছেন, ‘‘গত বছরও পিন্টুই আমাদের থিম মেকার ছিল। এই পুজো যতটা আমাদের, ততটাই ওর।’’ পূর্ব কলকাতা সর্বজনীনেও থিম রূপ পাচ্ছে শিল্পী আসরফ আলি শেখের হাতে। ভিআইপি রোড সংলগ্ন অর্জুনপুর আমরা সবাই ক্লাবেও এ বার ‘অন্তর্যামী’ থিমকে তুলে ধরতে হাতে-হাত ধরেছেন দুই সম্প্রদায়ের শিল্পীরা। মূল ভাবনা নতুন শিল্পী সুজিত লালের। থিম ফুটিয়ে তুলতে তাঁকে সাহায্য করছেন মিহিরলাল শেখ এবং আরও কয়েক জন মুসলিম শিল্পী। প্রতিমা রূপ পাচ্ছে পরিমল পালের হাত ধরে। কয়েক বছর আগে ‘ছোট্ট দুগ্গা’ গড়ে নজর কেড়েছিল এই পুজো। এ বারে সুজিত-মিহিরলাল-পরিমলের যৌথ প্রয়াস কতটা নজর কাড়ে সেটাই দেখার। উত্তরের বেলগাছিয়া সর্বজনীনের এ বারের থিম মেলাবেন তিনি মেলাবেন।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন