• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

উৎসবের শহরে বেড়িয়ে আসুন আফ্রিকা থেকে

Durga Puja
সপ্তসুর: বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র দিয়ে সেজে উঠছে কাশী বোস লেনের পুজোমণ্ডপ। ছবি: সুমন বল্লভ।

ওঁরা সবাই যেন এক এক জন দশভুজা। কৃষ্ণনগরে গিয়ে প্রতিমা পছন্দ করা, স্পনসর ধরা, চাঁদা তোলা তো আছেই। পুজোর আয়োজন, পুরোহিতের সঙ্গে কথা বলাতেও ভরসাও ওঁরা। পাটুলি ঘোষপাড়া সবর্জনীনের পুজোয় মহিলারাই সব। ১৭তম বর্ষে তাঁদের নিবেদন ইস্কন মন্দিরের আদলে মণ্ডপ। পুজোর আনন্দটাই ওঁদের থিম।

গড়িয়া মিতালি সঙ্ঘের থিম এ বার ‘সৃষ্টির উল্লাস’। বাঁশ দিয়ে যে কত ধরনের অলঙ্করণ সম্ভব, তা দেখাবে দক্ষিণ শহরতলির এই পুজো। শিল্পীর নিপুণ হাতে গড়ে ওঠা বাঁশের মণ্ডপে মায়ের ন’টি রূপ। বাঘা যতীন রবীন্দ্র পল্লির যুবক সঙ্ঘ আবার উপহার দিচ্ছে আফ্রিকার গ্রাম। ঠিক যেমনটা দেখা যায় সিনেমায়। উপরি পাওনা কলকাতায় বসবাসকারী আফ্রিকার বাসিন্দাদের গাওয়া আফ্রিকার মাটির গান। গাঙ্গুলিবাগানের অরুণোদয়ের পুজোয় প্রতি বারের মতোই থাকছে প্রাণের ছোঁয়া।

পথে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুরু করেছেন ‘সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ’। তাকেই থিম হিসেবে বেছেছে কেন্দুয়া শান্তি সঙ্ঘ। দুর্ঘটনায় মৃত্যু নয়, বেঁচে থাকার কথা বলবে এই পুজো। গাড়ির যন্ত্রাংশ, হেলমেট দিয়ে হচ্ছে মণ্ডপ। প্রতিমার মাথায়ও থাকবে হেলমেট। থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আলোয় সিগন্যাল সম্পর্কে সচেতনতার প্রচার চলবে। পাটুলির যাত্রা শুরু সঙ্ঘে আবার দেখা যাবে উমার গ্রাম।

রায়পুর ক্লাবের এ বছরের থিম ‘আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে’। স্মরণ করা হবে প্রজাবৎসল রাজা সুবোধচন্দ্র মল্লিককে। রাজবাড়ির আদলে মণ্ডপ, প্রতিমা সাবেক। বাঘা যতীন তরুণ সঙ্ঘের থিম ভক্তিতে শক্তি। উত্তরের শিল্পী প্রশান্ত পাল এ বার পাড়ি দিয়েছেন দক্ষিণে। তাঁরই হাতে নতুন রূপ পাচ্ছে বাঘা যতীনের পুরনো এই পুজোটি।

আরও পড়ুন: জিএসটি-র গেরোয় দশভুজাও

বাঁশদ্রোণী সম্মিলিত-র পুজোয় এ বার যিনি কৃষ্ণ, তিনিই কালী, তিনিই দুর্গা। গোটা মণ্ডপে থাকছে পশ্চিম মেদিনীপুরের তলতা ও মুরলী বাঁশের তৈরি অসংখ্য ঝুড়ির কাজ। লক্ষ্মীনারায়ণ কলোনির সংগঠনী সঙ্ঘের মণ্ডপ বিষ্ণুপুরের মদনমোহন মন্দিরের আদলে।

যাদবপুর নর্থ রোড সর্বজনীনের থিম ‘সবুজায়ন ও পরিবেশ বাঁচাও’। সভ্যতার বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে কাটা পড়ছে গাছপালা। বাড়ছে দূষণ, বন্যা। তাই এ বার সবুজায়নকে থিম বেছে নেওয়া হয়েছে। গ্লোবের আকৃতির মণ্ডপের ভিতরে সাবেক দুর্গা। সামঞ্জস্যপূর্ণ আলো।

দৃষ্টিহীনেরা পুজোর অনেক আনন্দই উপভোগ করতে পারে না। তাঁদের চোখের আলো ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার নিয়েছে যাদবগড় মৈত্রী সঙ্ঘের পুজো। তাঁদের এ বারের থিম ‘মরণোত্তর চক্ষুদান’। সেই থিমের উপরে দাঁড়িয়ে মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে। এই মণ্ডপে দৃষ্টিহীনেরা স্পর্শের মাধ্যমে প্রতিমা দেখতে পারবেন বলে দাবি পুজো উদ্যোক্তাদের।

রজত জয়ন্তী বর্ষে টালিগঞ্জ আজাদগড় ওড়িশার পিপলি শিল্পকে ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। পুরীর রথ ঢাকতে যে কারুকাজ করা কাপড় ব্যবহার করা হয়, তাই দিয়ে হচ্ছে মণ্ডপসজ্জা। দূর থেকে দেখলে মণ্ডপটিকে রথের মতো লাগবে।

নেতাজিনগর নাগরিক বৃন্দের পুজোয় দেখা যাবে বাংলা, বিহার ও ওড়িশার লোকশিল্প। পুজোর থিম তাই ‘অঙ্গ,বঙ্গ, কলিঙ্গ’। ওই অঞ্চলেরই নেতাজিনগর দুর্গোৎসব কমিটির এ বারের ভাবনা ‘মন্দিরে মা মনোরমা’। আজাদগড় সেবক সঙ্ঘের পুজোর এ বারের আকর্ষণ বাহুবলী দর্শন।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন