• শুভাশিস ঘটক
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

থিমে চ্যালেঞ্জার দক্ষিণ শহরতলি

vishnupur
কোথাও ছৌ নাচ। কোথাও বিষ্ণুপুরের মদনমোহন মন্দির।

কোথাও ছৌ নাচ। কোথাও বিষ্ণুপুরের মদনমোহন মন্দির। কোথাও আবার নদিয়ার কুটির শিল্প। কেউ নিয়ে যাচ্ছে দার্জিলিং। কেউ বা দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে পাড়ি দিয়েছে ইউরোপে। নাকতলা-বেহালার সঙ্গে টক্কর দিতে এ বার ঘুঁটি সাজিয়েছে সোনারপুর-বারুইপুর-মহেশতলা-বজবজ।

সোনারপুরে জোর টক্কর নদিয়া আর পুরুলিয়ার। সোনারপুর রিক্রিয়েশন ক্লাব নিয়ে যাবে পুরুলিয়ায়। হ্যারিকেনের আলোয় নাচ দেখাবেন ছৌ শিল্পীরা। চার দিকের ইট-পাথরের জঙ্গলের মাঝে হাজির পাহাড়-নদী ঘেরা পুরুলিয়া। আদিবাসী ছাপ মণ্ডপের পরতে পরতে। কোদালিয়া মিতালি সঙ্ঘ মণ্ডপে তুলে আনছে নদিয়ার কুটির শিল্প। ঝুড়ি, বেত ও কুলো দিয়ে সাজিয়ে তোলা হবে প্রবেশপথের দু’ধার। সাবেক রূপে পূজিত হবেন দুর্গা।

কিছুটা দূরেই গড়িয়ার সংগঠনীতে দর্শকদের মনে হবে, তাঁরা এসেছেন বিষ্ণুপুরের মদনমোহন মন্দিরে। ধানের তুষ ও পাট দিয়ে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। বিভিন্ন মোটিফে দেখানো হবে বিষ্ণুপুরের সংস্কৃতি। প্রতিমা সাবেক।

আরও পড়ুন: পুজোর বাঁশ আর আলো যেন রূপকথার আখ্যান

বারুইপুরের প্রগতি সঙ্ঘের এ বারের উপহার দার্জিলিং। মণ্ডপ জুড়ে থাকবে টয়ট্রেন, চা-বাগান, রোপওয়ে। উদ্যোক্তারা বলছেন, মণ্ডপের চারপাশে থাকবে বরফ। দর্শনার্থীরা পাহাড়ি পরিবেশ উপভোগ করবেন এখানে। বৈচিত্র আরও আছে। বারুইপুরের ফুলতলা পুজো কমিটি মণ্ডপ সাজাচ্ছে কয়েক হাজার মুখোশ দিয়ে। তার মধ্যে ফুটিয়ে তোলা হবে পৌরাণিক ঘটনা। মূল মণ্ডপ দক্ষিণ ভারতীয় মন্দিরের আদলে।

বিভিন্ন আকারের খড়ম দিয়ে রামায়ণের চরিত্র দেখাবে সোনারপুরের হরিহরতলা মানিকপুর পুষ্পদল পুজো কমিটি। থিম ‘রামের খড়মে রামায়ণ’। প্রতিমা একচালার। বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ে দর্শকদের সচেতন করবে সোনারপুরের এলাচী রামচন্দ্রপুর মিলন সঙ্ঘ। দর্শকদের দেওয়া হবে একটি করে চারাগাছ। সূর্য দেবতার মুখের আদলে মণ্ডপ। থাকবে বনসৃজনের পরিবেশ।

বারুইপুর পুজো উৎসব সঙ্ঘের থিম ত্রিনয়ন। ফাইবারের মণ্ডপের চারপাশে কৃষ্ণের বাঁশির আদলে থাকবে ২০টি গেট। ওই অঞ্চলেরই সাত-আট পল্লিপুজো কমিটি মণ্ডপে ফুটিয়ে তুলবে স্বর্গলোক। তুলো ও দড়ি দিয়ে মণ্ডপসজ্জা।

আরও পড়ুন: পুজো-তারাদের থিমে হাজির শিল্পীও

থিম খুঁজতে দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি দিয়েছে বাটানগরের মহেশতলা নিউল্যান্ড। স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া সিটি তারামণ্ডলের অনুকরণে মণ্ডপ তৈরি করছে তারা। তাদের থিম শূন্য থেকে মহাশূন্যে। আলোর কাজে ফুটিয়ে তোলা হবে মহাকাশের নানা বিস্ময়।

কথায় বলে, ‘সব তীর্থ বার বার, গঙ্গাসাগর এক বার’। সেই গঙ্গাসাগরের কপিলমুনির আশ্রম তৈরি করছে বজবজ কেন্দ্রীয় পুজো কমিটি। সেখানে সপরিবার পূজিত হবেন দুর্গা। মণ্ডপের চারপাশ এবং আলোর কাজে আশ্রমের ধ্যানগম্ভীর পরিবেশ।

বজবজের ডি এন ঘোষ পুজো কমিটির থিম কন্যাশ্রী। আলোকসজ্জায় দেখানো হবে প্রকল্পের সাতকাহন। পাঠশালার আদলে মণ্ডপে দুর্গার অধিষ্ঠান। বজবজ কালীনগর সর্বজনীনের পুজোয় গ্রাম্য বধূ রূপে হাজির দেবী। তিনি অস্ত্রহীন। শান্তির পরিবেশে অশুভ শক্তির বিনাশে শুভ শক্তির বিকাশের বার্তা দেবে এই পুজো। মণ্ডপ জুড়েও গ্রামের পরিবেশ।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন