• পার্থপ্রতিম আচার্য
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

মায়ের দশটি অস্ত্রের আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা

Durga Puja

Advertisement

মা দুর্গার অস্ত্রগুলি লক্ষ্য করলেই আমাদের বোধগম্য হবে যে তিনি কী দেখাতে চাইছেন, কী শিক্ষা পেতে পারি শঙ্খ, চক্র, তরোয়াল, গদা, পদ্ম, তির, ধনুক, বজ্র, ত্রিশূল, খড়্গ, অভয়মুদ্রা থেকে।

শঙ্খ: অর্থাৎ প্রণবধ্বনি যা অন্য  সমস্ত শব্দকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। আমাদের শরীরের মধ্যে প্রতি মুহূর্তে ধ্বনিত হচ্ছে, যা যোগাভ্যাস দ্বারা শোনা সম্ভব। প্রণবধ্বনি ও...উ...ম। ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর, তিনের শক্তি একত্র হয়ে ‘ওঁ’ শব্দের সৃষ্টি।

চক্র: মা দুর্গার তর্জনীর ওপর প্রতিষ্ঠিত। অর্থাৎ তর্জনী দ্বারা তিনি সমস্ত জগৎসংসারকে এই বার্তা দিচ্ছেন যে, আপনি আচরি ধর্ম অপরে শিখাও। ন্যায়নিষ্ঠ ও কর্তব্যপালন সুচারু ভাবে করাই আমাদের ধর্ম।

তরোয়াল: নির্দেশ করে শানিত বুদ্ধি যা দিয়ে ক্ষতিকর রিপু ধ্বংস করা যায়।

গদা: নির্দেশ করে হনুমানজিকে। অর্থাৎ আত্মসমর্পণ। হনুমানজির মতো শুভশক্তির কাছে আমাদের আত্মসমর্পণ করতে হবে। ভাবতে হবে জীবনে সুখ-দুঃখ যা-ই আসুক সবই ঈশ্বরের প্রেরিত। এটাই আমাদের ক্রোধ, পরশ্রীকাতরতা নামক রিপুকে ধ্বংস করতে পারে এবং জীবনে শান্তি আনতে সাহায্য করে।

পদ্ম: পাঁকে থেকেও নিজেকে পাঁকমুক্ত করে, সদাহাস্যময় বিচরণ করার প্রতীক পদ্ম।

তির-ধনুক: রামের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত। রামের মতো শত বাধার মধ্যেও নিজের বিবেকবুদ্ধির দ্বারা অবিচল ও চরিত্রবান থাকাটাই আমাদের কর্তব্য।

বজ্র: অসীম সাহস ও স্থির লক্ষ্যের প্রতীক। মহিষাসুর যখন বিভিন্ন রূপ ধারণ করে দুর্গাকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল সেই সময় দেবী বজ্রের মতো নিজের সাহস ও লক্ষ্যকে স্থির রেখে পরাস্ত করেছিলেন অসুরকে। অর্থাৎ, আমাদের পঞ্চরিপু যখন আমাদের বিভিন্ন ভাবে মোহগ্রস্ত করে ভুল পথে চালনা করে, সেই সময় আমরা যদি নিজেকে সংযত রেখে, মনের সাহস অটুট রাখি তা হলে নিজেদের লক্ষ্যে নিশ্চিত ভাবে পৌঁছতে পারব।

ত্রিশূল: দেবী দুর্গা যোগবলে তৃতীয় নয়নের অধিকারিণী। আমাদের শরীরের তিনটি নাড়ি— ইড়া, পিঙ্গলা ও সুষুম্না। শ্বাসগ্রহণ ও বর্জন, সবই হয় ইড়া ও পিঙ্গলার দ্বারা। যোগক্রিয়া দ্বারা এই শ্বাসপ্রশ্বাসকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় চালনা করলে সুষুম্না জাগ্রত হয়। মানুষ সাধারণ থেকে অসাধারণ হয়ে ত্তঠে এই সুষুম্নাকে জাগ্রত করতে পারলে। তখনই ঠিক ভ্রু দু’টোর মাঝখানে জেগে ওঠে তৃতীয় নয়ন। ডান চোখ নির্দেশ করে সূর্য (সৃষ্টি), বাম চোখ চন্দ্র (সংরক্ষণ) এবং মধ্যনয়ন নির্দেশ করে অগ্নি (ধ্বংস)। এই তিনের সমন্বয়ে অসম্ভব শক্তি সঞ্চারিত হয় শরীরে। তাই দেখা যায়, ত্রিশূল দ্বারাই তিনি বিনাশ করেছেন অশুভ শক্তি অসুরকে। দুর্গারই কোমল রূপ কমলা, সরস্বতী এবং প্রচণ্ডরূপ চণ্ডী, কালী।

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন