• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

দমদমে গুজরাতের শিল্পকলা

Durga Puja
সজ্জা: ‘মাতা নি পাছেড়ি’-র কাজ দেখাচ্ছেন শিল্পী সঞ্জয়। —নিজস্ব চিত্র।

ওঁরা যাযাবর। সপরিবার ঘুরে বেড়াতেন এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশ। নিত্য সঙ্গী প্রতিকূলতা। আর এই প্রতিকূলতা থেকে ওঁদের রক্ষা করতেন দেবী মা।

সেই মা কখনও সিংহবাহিনী। কখনও বা তিনি সওয়ার হয়েছেন ষাঁড়, কুমির, ঈগলের পিঠে। গুজরাতের ওই যাযাবর বাগরি গোষ্ঠী নিচু জাত বলে ওঁদের মন্দিরে ঢোকার অনুমতি ছিল না এক সময়। তাই নিজেরাই মায়ের পুজো করতেন চার পাশে চাদর ঘিরে, মাথার উপরে চাঁদোয়া টাঙিয়ে। আর সেই চাঁদোয়া এবং চাদর জুড়ে ওঁরা ফুটিয়ে তুলতেন তিন রঙের চিত্র। সব চিত্রেরই মধ্যমণি দেবী মা।

সেই চিত্রিত চাদরের নাম ওঁদের ভাষায়, ‘মাতা নি পাছেড়ি’। আর চাঁদোয়াকে ওঁরা বলেন ‘চন্দার্ঘ’। মোদীর দেশের সেই শিল্পকলাই এ বার কলকাতার পুজোর অন্যতম আকর্ষণ। দমদম পার্ক তরুণ সঙ্ঘের মণ্ডপ সাজাতে সঙ্গীসাথী-সহ ইতিমধ্যেই শহরে হাজির আমদাবাদের সঞ্জয় মনুভাই চিতারা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাপড়ের উপরে লাল-মেরুন, কালো, সাদার নকশা তুলছেন সঞ্জয়রা।

সঞ্জয় বোঝালেন, ‘‘এটা এক ধরনের ব্লক পেন্টিং। ৩০০ বছর ধরে বংশানুক্রমে আমরা এই কাজটা করে আসছি। এক সময়ে এই মাতা নি পাছেড়ি-র শিল্পী পাওয়া যাচ্ছিল না। এখন আবার সারা বিশ্বে আমাদের এই শিল্পকলার দারুণ চাহিদা তৈরি হয়েছে।’’ জানালেন, তিনি নিজেই এই কাজ নিয়ে হিল্লি-দিল্লি করে বেড়াচ্ছেন প্রায়ই। ‘‘শুধু ভেষজ রঙেই নকশা তুলি আমরা’’— বললেন সঞ্জয়।

আরও পড়ুন: উৎসবের শহরে বেড়িয়ে আসুন আফ্রিকা থেকে

কিন্তু কেবল তিনটি রংই কেন ব্যবহার করেন সঞ্জয়রা?

‘‘লাল আর মেরুন, প্রকৃতি মায়ের রং। কালো অনাচারের প্রতীক। আর সাদা মানে পবিত্রতা। প্রকৃতি মা সব অনাচার সরিয়ে পৃথিবীকে শুদ্ধ করছেন, এটা বোঝানোর জন্যই ওই তিন রঙের ব্যবহার হয় মাতা নি পাছেড়ির কাজে,’’ সঞ্জয়ের পাশ থেকে বললেন গোপাল পোদ্দার। গুজরাতের ওই যাযাবর জনজাতির শিল্পকে কলকাতার পুজোয় ব্যবহার করার বুদ্ধিটা তাঁরই। গুজরাতের একটি মেলায় গিয়ে ওই ব্লক পেন্টিংয়ের ছাপায় ঘেরা মঞ্চ চোখ টেনেছিল গোপালের। খোঁজ নিয়ে গোটা ইতিহাসটা জেনেছেন গোপাল।

এখন মাতা কি পাছেড়ি-র নকশা দিয়ে মণ্ডপ তো হল। কিন্তু ওঁরা তো কাঠের মূর্তি গড়তে পারেন না। মাটির কাজও জানেন না। তা হলে প্রতিমা গড়বে কে? ওই শিল্পের আঁকার আদলে দেবী মায়ের পাথরের মূর্তি তৈরির জন্য অবশেষে পাওয়া গেল ওড়িশার রঘুরাজপুরের শ্রীধর মহারাণাকে।

দমদম পার্ক তরুণ সঙ্ঘের মণ্ডপে এখন চাঁদের হাট। গোপাল পোদ্দার মিলিয়ে দিয়েছেন গুজরাত আর ওড়িশার দুই লোক-শিল্পীকে। পাথর কুঁদে প্রতিমা তৈরি করছেন শ্রীধর। আর কাপড়ে নকশা তোলার ফাঁকে ওড়িশার মূর্তি শিল্পীকে পরামর্শ দিচ্ছেন গুজরাতের সঞ্জয়। একে অপরের ভাষা বোঝেন না। ভাঙা-ভাঙা হিন্দি জুড়ে দিয়েছে দুজনকে। দুই লোকশিল্পীর ভাবনার মেলবন্ধনে জন্ম নিচ্ছে শহরের পুজোর নয়া চমক।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন