• রজতেন্দ্র মুখোপাধ্যায়
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

কবে দেখব মা দুগ্‌গার মুখ

Durga Puja
নিজস্ব চিত্র।

Advertisement

এখন যেমন সপ্তমীর সাত দিন আগে থেকেই প্যান্ডেলে-প্যান্ডেলে প্রতিমার আবরণ উন্মোচন করা হয়ে থাকে, নয়ের দশকেও বাঙালি সেটা কল্পনা করতে পারত না। পাড়ায় ঠাকুর আসত তৃতীয়া বা চতুর্থীর দিন একটু বেশি রাতে, ম্যাটাডর বা লরিতে চড়ে। আমরা তখন হয়তো ভেতরবাড়ির খাবারঘরে সবে রুটি দিয়ে ছানার ডালনা মুড়িয়ে মুখে তুলছি— হঠাৎ আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে ভেসে এল, ‘দুর্গা মাইকি জয়!’ অমনি সারা শরীরে খেলে যেত এক আশ্চর্য শিহরণ। মনে হত, পুজো সত্যিই এসে গেছে। বড় হয়ে অনেক বার ভেবেছি, আচ্ছা, বাঙালির পুজোর স্লোগানে হিন্দিতে ‘দুর্গা মাই কি জয় বা জয় দুর্গা মাই কি...’ বলে চেঁচানোর কারণ কী? বাংলায় কি এইরকম জুতসই একটি শব্দমালা তৈরি করা যেত  না?

আসলে সেই প্রাচীন সময় থেকে মা দুর্গার মূর্তি কাঁধে তুলে বা গাড়িতে করে, বনেদি বাড়িগুলোতে বা পাড়ার প্যান্ডেলে যে সমস্ত শক্তপোক্ত মানুষ পৌঁছে দিতেন, তাঁদের বেশির ভাগই ছিলেন বিহার বা উত্তরপ্রদেশের মানুষ। নিজেদের আনন্দ এঁরা যে মাতৃভাষাতেই প্রকাশ করবেন সেটাই তো স্বাভাবিক। আমাদের ছোটবেলায় ষষ্ঠীর দিন ভোরবেলায় ঠাকুরের মুখ প্রথম দেখতে পাওয়া যেত। পঞ্চমীর দিন সকালে পুজোমণ্ডপে গেলে নজরে পড়ত মা দুর্গা নিজের বাহিনী নিয়ে একটি বড়সড় কাপড় বা তেরপলের নীচে গা-ঢাকা দিয়ে বসে আছেন।

সেই ঢাকনার কোনও একটি জায়গা একটু তুলে ধরলেই হয় সিংহের থাবা, নয় ইঁদুরের ল্যাজ কিংবা সাদা হাঁসের ডানা অথবা অসুরের টুকটুকে লাল নাগরার একটা অংশ দেখতে পাওয়া যেত। ছিটেফোঁটা দেখতে পেলেই সারা শরীরে শিহরণ বয়ে যেত। তাই মণ্ডপের মধ্যে ছোটরা হঠাৎ নিচু হলেই বড়রা বলে উঠতেন, ‘না, এখন নয়, এখনও সময় হয়নি! কাল থেকে সব দেখতে পাবে।’

পরের দিন থেকে আলোয় উজ্জ্বল মণ্ডপে মা দুগ্‌গার মুখটাই যেন নজরে পড়ত সবার আগে। দেবীর মুখের ঘামতেল আরতির সময় কেমন চকচক করত। বড় বড় চোখ দু’টো অসুরের ওপর রেগে যাওয়ার ফলে যেন আরও বড় দেখাত। আবার বিজয়া দশমীর দিন দেবীর মুখে যখন এয়োস্ত্রীরা সন্দেশ ছোঁয়াতেন বা সিঁথিতে চওড়া করে সিঁদুর পরিয়ে দিতেন, তখন ওই চেনা চোখ দুটো থেকেই যেন খুশি উপচে পড়ত। কিন্তু তার কিছু ক্ষণের মধ্যে আদিগঙ্গার ঘাটে ভাসানের পরে জলতলে ভেসে থাকা দেবীর যে মুখটকু, তার মধ্যে চোখ দু’টি যেন কী আশ্চর্য করুণ! বাঁশের খুঁটিতে খড়ের কাঠামো বানিয়ে, তার ওপর মাটি লেপে যে প্রতিমা বানানো, পোটোর তুলিতে আঁকা তার চোখ দু’টোয় এত ধরনের এক্সপ্রেশন তৈরি হয় কী  করে! এটা কি সত্যি না মনের ভুল?

কার্টুন: দেবাশীষ দেব।

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন