Advertisement
E-Paper

গলার সামনের ছোট্ট গ্রন্থির কাঁধে অজস্র দায়িত্ব, তাই থাইরয়েডকে সুস্থ না রাখলে বিপদ! রইল নিয়মতালিকা

থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের বিপাকক্রিয়া, শক্তি উৎপাদন, হৃৎস্পন্দন, শরীরের তাপমাত্রা, ওজন হ্রাস বা বৃদ্ধি এবং আরও নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। থাইরয়েডের সমস্যা ধরা পড়লে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে, কিন্তু তার পাশাপাশি যাপনেও কিছু পরিবর্তন আনা দরকার।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬ ১৪:৪০
থাইরয়েডের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে কী কী নিয়ম মানতে হবে?

থাইরয়েডের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে কী কী নিয়ম মানতে হবে? ছবি: সংগৃহীত।

ওজন হঠাৎ বেড়ে বা কমে যাওয়া, সব সময়ে ক্লান্ত লাগা, ঘুমের সমস্যা, চুল পড়া, মেজাজের ওঠানামা— এই সব লক্ষণের নেপথ্যে অনেক সময়ে দায়ী হতে পারে থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা। গলার সামনের অংশে থাকা ছোট্ট এই গ্রন্থি বিপাকক্রিয়া, শক্তি উৎপাদন, হৃৎস্পন্দন, শরীরের তাপমাত্রা, ওজন হ্রাস বা বৃদ্ধি এবং আরও নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। এটি খাবার থেকে আয়োডিন নিয়ে হরমোন (টি৪ এবং সক্রিয় টি৩) তৈরি করে, যা আপনার শরীরের প্রতিটি কোষকে নির্দেশ দেয়, কত দ্রুত তাদের কাজ করতে হবে।

থাইরয়েডের সমস্যা ধরা পড়লে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে, কিন্তু তার পাশাপাশি যাপনেও কিছু পরিবর্তন আনা দরকার। কিছু স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও থাইরয়েডের স্বাভাবিক কাজকর্মকে সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে সাহায্য করে। রইল সেই তালিকা—

থাইরয়েডের স্বাস্থ্যরক্ষায় ৬টি নিয়ম।

থাইরয়েডের স্বাস্থ্যরক্ষায় ৬টি নিয়ম। ছবি: সংগৃহীত

১. খাওয়ার নিয়ম: ধীরে ধীরে, ভাল করে চিবিয়ে খেতে হবে। কারণ, আপনার পেট ভরে যাওয়ার সঙ্কেত খানিক দেরিতে যায় মস্তিষ্কে। সময়টি প্রায় ২০ মিনিট। ফলে খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্ক বুঝে উঠতে পারে না, কতটা খাওয়া হল, কতটা পেট ভরল। তাই মস্তিষ্ককে সময় দেওয়া দরকার। যাতে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে। থাইরয়েডের সমস্যার কারণে যদি বিপাকীয় স্বাস্থ্য আগে থেকেই বিগড়ে থাকে, তা হলে অবশ্যই এই নিয়ম মেনে চলা উচিত।

২. পুষ্টিকর খাবার: থাইরয়েডের সুস্থতার সঙ্গে খাবারের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই খাদ্যতালিকায় রাখুন, ডিম, মাছ, ডাল, বাদাম, বীজ, শাকসব্জি, দানাশস্য জাতীয় খাবার। তবে কোনও নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদান অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করাও ঠিক নয়। সুষম আহারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মাথায় রাখবেন, কোনও সব্জি কাঁচা খাবেন না, তাতে অন্ত্রে সমস্যা হতে পারে। গ্লুটেন এবং দুগ্ধজাত পণ্য যথাসম্ভব কম খাওয়া ভাল এই সময়ে।

৩. নিয়মিত শারীরচর্চা: ব্যায়াম শুধু ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য নয়, থাইরয়েডের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে। নিয়মিত হাঁটা, সাঁতার, যোগাসন কিংবা হালকা শক্তিবর্ধক ব্যায়াম শরীরের বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি, ক্লান্তি কমানো এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। হাঁটাহাঁটি করলে রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। তার প্রভাব পড়ে থাইরয়েড গ্রন্থিতে।

৪. প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান: ভিটামিন ডি, আয়োডিন, সেলেনিয়াম, জ়িঙ্ক এবং আয়রনের মতো খনিজ থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বলা যেতে পারে, এই সমস্ত উপাদানের প্রয়োজন রয়েছে থাইরয়েড গ্রন্থির সুস্থতার জন্য।

৫. পর্যাপ্ত ঘুম: ঘুমের সঙ্গে হরমোনের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে বিভিন্ন হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি দিন ৭-৮ ঘণ্টা ভাল ঘুমের প্রয়োজন। নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোতে যাওয়া এবং নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। এতে থাইরয়েড গ্রন্থিতেও ভাল প্রভাব পড়বে।

৬. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: দীর্ঘ দিনের মানসিক চাপ শরীরের হরমোনের ভারসাম্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত উদ্বেগ ও চাপ থাইরয়েডের সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাই ধ্যান, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, যোগচর্চা, বই পড়া কিংবা পছন্দের কাজের জন্য সময় বার করা প্রয়োজন। যদি পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়, সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অবসাদের ওষুধও খেতে হতে পারে।

Thyroid Problems Thyroid Tips
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy