দিনভর খাটাখাটনির মধ্যে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা কফি মেজাজ ফুরফুরে করে দেয়। কফির কাপে চুমুক দিলেই স্নায়ু হয়ে ওঠে সতেজ। কিন্তু কী ভাবে সেই কফি খেতে হবে?
ঘন ফেনিল, ক্রিম দেওয়া ক্যাপুচিনো ভালবাসেন সকলেই। কারও আবার পছন্দ আইসক্রিম দেওয়া কোল্ড কফি। তবে যে কফি বাড়িয়ে দিতে পারে আয়ু, কমাতে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি, সেই কফি এই ভাবে খেলে চলে না।
আমেরিকার ‘দ্য জার্নাল অফ নিউট্রিশন’-এ প্রকাশিত রিপোর্ট বলছে, দিনে এক কাপ কফি খেলে মৃত্যুর ঝুঁকি কমে ১৬ শতাংশ, দুই কাপ খেলে ১৭ শতাংশ। হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর ঝুঁকি কমে কফি খেলে। তবে দুধ চিনি দেওয়া কফি নয়, সেই কফি হতে হবে চিনি ছাড়া। কালো কফি উপকারী।
আমেরিকাবাসী ১০ হাজার মানুষের উপরে বিষয়টি নিয়ে সমীক্ষা চালানো হয় ১০ বছর ধরে। দেখা যায়, যাঁরা দুধ-চিনি ছাড়া কফি খেয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ফল ভাল হয়েছে। যদিও এই সমীক্ষারও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে প্রাথমিক ভাবে স্পষ্ট যে কালো কফি উপকারী।
কেন কফি স্বাস্থ্যকর
কফিতে রয়েছে পলিফেলস, একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের জন্য শরীরের যা ক্ষতি হয়, তা রুখতে সাহায্য করে উপাদানটি। চিনি এবং দুধ পলিফেনলসের কার্যকারিতা হ্রাস করে না, তবে চিনি হার্ট-বান্ধব নয়। চিনিতে ওজনও বাড়ে।
শুধু হার্টের ঝুঁকি নয়, পরিমিত কফি পানে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকিও কমে। পাবমেডে ২০১৭ সালে প্রকাশিত একটি সমীক্ষা রিপোর্টে প্রকাশ, নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কিছুটা হলেও কমাতে পারে কফি। তবে চিনি এবং দুধ ছাড়াই তা খেতে হবে।
কতটা খাওয়া দরকার
কফি হার্টের অসুখের ঝুঁকি কমায়, কমিয়ে দেয় ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকিও। হার্ট বা ফ্যাটি লিভারের সমস্যা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে গেলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ফলে বিভিন্ন প্রত্যঙ্গকে সুস্থ রেখে মত্যুর ঝুঁকি কমায় কফি। তবে চিকিৎসকেরা মনে করাচ্ছেন, উপকারী হলেও সারা দিনে যথেচ্ছ কফি খাওয়া চলে না। তা ক্ষতিকর। তার বদলে সারা দিনে এক থেকে তিন কাপ কফি চলতে পারে।