দিনের বেলা গায়ে জ্বালা ধরানো রোদ। বেড়েই চলেছে অস্বস্তি। তাপপ্রবাহের মাঝেই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হয় অনেককে। কাউকে আবার রোদ মাথায় নিয়ে কাজও করতে হয়। সে ক্ষেত্রে গরম থেকে বাঁচতে অনেকেই ভেজা কাপড় বা গামছা মাথায় বা ঘাড়ে পেঁচিয়ে নেন। ক্ষণিকের জন্য হলেও তাতে আরাম পাওয়া যায়। তবে প্রশ্ন উঠতে পারে, এতে কি হিটস্ট্রোক থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়? পথচলতিরা প্রায়শই এই টোটকা প্রয়োগ করেন। কিন্তু তা কি ঝুঁকি কমাতে পারে?
খানিক স্বস্তি দেওয়ার জন্য এই টোটকার গুরুত্ব অবশ্যই রয়েছে, কারণ কাপড়ে থাকা জল ধীরে ধীরে বাষ্প হয়ে উড়ে যায়, আর সেই সময়ে শরীরের উপরিভাগ থেকে কিছুটা তাপ টেনে নেয়। একে বলা হয় ‘ইভাপোরেটিভ কুলিং’ বা বাষ্পীভবনের মাধ্যমে শীতলীকরণ। ঠিক যে পদ্ধতিতে ঘাম শরীর ঠান্ডা করতে সাহায্য করে। কিন্তু এই টোটকা হিটস্ট্রোক বা প্রবল তাপপ্রবাহজনিত অসুস্থতায় সম্পূর্ণ সুরক্ষা দিতে পারে না।
তাপপ্রবাহ থেকে বাঁচার জন্য কোন পন্থা সঠিক? ছবি: সংগৃহীত
এই টোটকার কার্যকারিতা সব পরিবেশে এক রকম নয়। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে জল সহজে শুকোয় না। ফলে বাষ্পীভবনের গতি কমে যায় এবং ঠান্ডা হওয়ার প্রভাবও কমে আসে। অর্থাৎ কলকাতার মতো যে যে এলাকায় আর্দ্রতা বেশি, সেখানে এই উপায়ে সাময়িক আরাম পেলেও, তা খুব পাকাপাকি ভাবে সুরক্ষা দিতে পারে না।
ভেজা কাপড় মাথায় দিলেই যে আপনি নিরাপদ, এমন ভাবনাও বিপদ ডেকে আনতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এই নিরাপত্তাবোধের পরিপোক্ত ভিত্তি নেই। এই কৌশল নিয়ে অনেকের মনে এমন আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়ে যায় যে, আর জল খাওয়া, বিশ্রাম নেওয়া বা রোদ এড়ানোর মতো বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দেন না। আর তার ফলেই বেড়ে যায় হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি। তা ছাড়া দীর্ঘ ক্ষণ ভেজা কাপড় মাথায় থাকলে কারও কারও মাথা ব্যথা, সাইনাসের যন্ত্রণা বা ত্বকে জ্বালা হতে পারে। কাপড় পরিষ্কার না হলে মাথার ত্বকেও সংক্রমণ হতে পারে। তবে ক্ষণিকের স্বস্তির জন্য অবশ্যই এই কৌশলের গুরুত্ব রয়েছে।
তা হলে সঠিক উপায় কী?
চিকিৎসকদের মতে, তাপপ্রবাহ থেকে সত্যিকারের সুরক্ষার জন্য আরও কিছু বিষয় অত্যন্ত জরুরি। কারণ, হিটস্ট্রোকের মতো পরিস্থিতি হলে শরীরের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে চলে যেতে পারে। সেই অবস্থায় শরীর আর তাপকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তাই কেবল সিক্ত কাপড় বা গামছা এই পরিস্থিতিকে সামাল দিতে পারে না। সে ক্ষেত্রে কী কী করা উচিত?
· নিয়মিত জল এবং ওআরএস পান করা
· দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে রোদে না বেরোনোর চেষ্টা করা
· ঢিলেঢালা ও হালকা রঙের পোশাক পরা, যাতে বায়ু চলাচল করতে পারে
· বার বার বিশ্রাম নেওয়া
· যতটা সম্ভব ঠান্ডা জায়গায় থাকা
তবে চিকিৎসকদের মতে, এখনকার তাপপ্রবাহ আগের তুলনায় অনেক বেশি তীব্র ও বিপজ্জনক। তাই শুধু ঘরোয়া টোটকার উপর নির্ভর না করে শরীরের সতর্কবার্তাও বুঝতে হবে। মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, বমি বমি ভাব, শরীর অত্যন্ত গরম হয়ে যাওয়া বা বিভ্রান্তি দেখা দেওয়া— এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন।
তবে ক্ষণিকের স্বস্তির জন্য ভেজা কাপড় মাথায় পেঁচাতে পারেন। সে ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি—
· পরিষ্কার সুতির কাপড় ব্যবহার করুন
· বরফশীতল জল নয়, ঠান্ডা বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার জল ব্যবহার করুন
· অতিরিক্ত জল চেপে ফেলে দিন
· কাপড় শুকিয়ে গেলে আবার ভিজিয়ে নিন
· দীর্ঘ ক্ষণ একই ভেজা কাপড় মাথায় রাখবেন না