হোটেল-রেস্তরাঁয় খেয়ে আসার পরে বমি ভাব বা ডায়েরিয়ায় নাজেহাল হলে বুঝতে হবে, খাবার থেকে বিষক্রিয়া হয়েছে। গরমের সময় ফুড পয়জ়নিংয়ে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেশি থাকে। সে কারণেই চিকিৎসকেরা বারে বারে সতর্ক করে বলেন যে, রাস্তায় বিক্রি হওয়া খাবার, কাটা ফল বা লস্যি-শরবতের মতো পানীয় না খেতে। শিশু ও বয়স্কদের তো বিশেষ করে সাবধান করা হয়। কারণ, খাবারে জন্মানো কিছু ব্যাক্টেরিয়া থেকে বিষক্রিয়ার আশঙ্কা বাড়ে। ই কোলাই, সালমোনেল্লা, স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়া, ব্যাসিলাম সিরিয়াসের মতো কিছু ব্যাক্টেরিয়া খাদ্যে বিষক্রিয়ার জন্য দায়ী। যদি বিষক্রিয়ার কারণে বমি, পেটখারাপ বন্ধ না হয়, তা হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ তো খাবেনই, পাশাপাশি ঘরেও বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে।
বমি ও পেটখারাপের মতো সমস্যা শুরু হলেই ওষুধ কিনে খেতে বারণ করছেন চিকিৎসকেরা। বরং ভরসা রাখছেন ইলেকট্রল ওয়াটার বা ওআরএসে। কারণ, বমি ও মলের সঙ্গে শরীর থেকে অনেকটাই জল বেরিয়ে যায়। আর সেই জলের সঙ্গে শরীরের প্রয়োজনীয় খনিজও বেরিয়ে যায়। তাই নুন, চিনির জল করে রোগীকে খাওয়ানো যেতে পারে। একসঙ্গে বেশি জল খাওয়াবেন না। কারণ বমি হওয়ার প্রবণতা থাকলে খালি পেটে বেশি জল খেলে সেটাও বমি হয়ে যাবে। জল-মুড়ি বা নুন-চিনি-জল দিয়ে ভাত খেতে পারেন। মুড়ি ও ভাত থেকে রোগী শর্করা পাবেন, ফলে শক্তি পাবে। অন্য দিকে নুনও পাবেন। সোডিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট হবে না।
খাদ্যে বিষক্রিয়া হলে বাড়়িতে কী কী খেলে শরীর দ্রুত চাঙ্গা হয়ে উঠবে?
গরম পরলেই খাদ্যে বিষক্রিয়ার সমস্যা বেড়ে যায়। পুষ্টিবিদ শ্বেতা চক্রবর্তী বলেন, ‘‘এই সময় বাইরের জল, খাবার থেকে যতটা দূরে থাকা যায়, ততটাই ভাল। তবে এক বার সমস্যা শুরু হলে ওষুধের পাশাপাশি ডায়েটের দিকেও নজর রাখ একান্ত জরুরি। এই সময় ডায়েটে ৫ টি জিনিস রাখতেই হবে।’’
১) প্রথমেই ওআরএস খেতে হবে, ইচ্ছে না করলেও খেতে হবে। ওআরএস তৈরির সঠিক পদ্ধতি মেনে চলতে হবে। প্যাকেটে যে অনুপাতে ওআরএস বানানোর নির্দেশ দেওয়া থাকবে, সে ভাবেই খেতে হবে, না হলে কোনও উপকারই হবে না। কেউ যদি স্বাদ বাড়াতে কম জলে এক প্যাকেট ওআরএস গুলে দেন, সে ক্ষেত্রে রোগীর ডায়েরিয়া বেড়ে যেতে পারে।
২) এই সময় কিন্তু শরীর থেকে অনেকটা জল বেরিয়ে যায় এবং ডিহাইড্রেশন হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই বেশি করে জল খেতেই হবে।
৩) মাছ, মাংস বা ডিম দিয়ে নয়, এই সময় সব্জি সেদ্ধ করে স্যুপ বানিয়ে খান। স্বাদ বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন প্রকার সব্জি দিতে পারেন। সব সব্জি সেদ্ধ করে বেটে নিয়ে স্যুপ বানালে স্বাদ বাড়বে, খেতেও সুবিধা হবে।
৪) এই সময় রুটি না খাওয়াই ভাল। ভাত খেতে হবে। এতে শরীরে শক্তির সঞ্চার হবে।
৫) এই সময় ডায়েটে আলুসেদ্ধ রাখলে ভাল হয়।