বাসে দাঁড়িয়ে আছেন। আচমকাই মনে হবে চারদিক দুলে উঠল। ঘুম থেকে ওঠার সময়ে দেখবেন, চারপাশটা বনবন করে ঘুরছে। তার পর আরও খানিক ক্ষণ ঝিমুনি ভাব। মনে হবে মাথার উপর কয়েক মণের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে কেউ। ঘাড় নিচু করে মোবাইল দেখার সময়ে মনে হবে, মাথাটা ঘুরেই চলেছে। ভার্টিগোর সমস্যা থাকলে এমন হয়। আবার মাইগ্রেনের সমস্যা যাঁদের আছে, তাঁদেরও গরমের সময়ে মাথা ঘোরা, মাথা যন্ত্রণা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। এক বার শুরু হলে ব্যথা কমার নামই নেই। একটা গোটা দিন তো বটেই, টানা দুই থেকে তিন দিন ধরে দেখবেন মাথা ব্যথা ভোগাচ্ছে। এই ধরনের মাথা ব্যথা একটানা চলতে থাকলে চিকিৎসকেরা মাইগ্রেনের ব্যথা কি না তা পরীক্ষা করে দেখেন। একটা সময়ে মনে করা হত, বয়স্করাই বুঝি এমন ব্যথায় ভোগেন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, কমবয়সিদের মধ্যেও মাইগ্রেনের ব্যথা দিন দিন বাড়ছে। বাড়ছে ভার্টিগোর সমস্যাও। এ সমস্যার সমাধান হতে পারে সহজ কিছু আসনে।
ভার্টিগো থাকলে মাথা নীচু করে সব রকম ব্যায়াম করা যায় না। জিমে গিয়ে ওজন তুলে ভারী ব্যায়াম তো নয়ই। তাই সহজ কিছু যোগাসনেই সমস্যার সমাধান হতে পারে।
কী কী আসন অভ্যাস করতে পারেন?
থাম্ব ট্র্যাকিং
এই ব্যায়ামে মাথা ঘোরা, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসার মতো সমস্যা কমবে। পাশাপাশি, শরীরের ভারসাম্যও ঠিক থাকবে। সোজা হয়ে বসে যে কোনও একটি বস্তুর দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করুন। দেওয়ালে টাঙানো কোনও ছবি বা ঘরের কোনও বস্তুর দিকে একদৃষ্টিতে চেয়ে থাকুন। এ বার দৃষ্টি সে ভাবেই স্থির রেখে ধীরে ধীরে মাথা ডান দিক-বাঁ দিক এবং উপর-নীচে ঘোরাতে থাকুন। মাথা ঘোরানোর সময়েও আপনার চোখ যেন ওই বস্তুর দিকেই স্থির থাকে।
আরও পড়ুন:
উত্তনাসন
ম্যাটের উপর সোজা হয়ে দাঁড়ান। কোমর, পিঠ থাকবে টান টান। এ বার কোমর থেকে শরীর ঝুঁকিয়ে দুই হাতের তালু দিয়ে মাটি স্পর্শ করার চেষ্টা করতে হবে। তবে হাঁটু ভাঙলে হবে না। শরীরচর্চা করার অভ্যাস না থাকলে খুব বেশি ক্ষণ এই অবস্থান ধরে রাখতে পারবেন না। মোটামুটি ১০ সেকেন্ড মতো থেকে আবার প্রথম অবস্থানে ফিরে আসুন।
ভস্ত্রিকা প্রাণায়াম
পিঠ সোজা রেখে বসুন। এ বার গভীর ভাবে শ্বাস টানুন। কিছু ক্ষণ ধরে রেখে শ্বাস ছেড়ে দিন। প্রতি ক্ষেত্রে যতটা শ্বাস নেবেন, ততটাই ছাড়তে হবে। তিন থেকে ছ’মিনিট এই প্রাণায়ামটি করা উচিত। শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, সাইনাসের সমস্যা থাকলে এই প্রাণায়াম দারুণ উপকারী। কমবে ভার্টিগো বা মাইগ্রেনের মতো সমস্যাও।