পরিচালক প্রশান্ত নীল কেবল বলেছিলেন, একটু রোগা হলে ভাল হয়। কারণ, চিত্রনাট্য লিখেছিলেন সে ভাবেই। এই বাক্যটিই যেন চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে নেন দক্ষিণী সুপারস্টার জুনিয়র এনটিআর। চার মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ নতুন এক রূপে আবির্ভূত হন নায়ক। রোগা, ছিপছিপে, স্পষ্ট পেশির ভাঁজ, সুঠাম দেহ। যেন চেনা দায়!
চরিত্রের প্রয়োজনে অভিনেতাদের শরীরের গঠন বদলে ফেলার ঘটনা নতুন নয়। কখনও ওজন বাড়ানো, কখনও আবার হু হু করে কমিয়ে ফেলা— পর্দায় নিখুঁত দেখানোর জন্য তারকারা খুবই পরিশ্রম করেন। সম্প্রতি প্রশান্তের কথায় জানা যায়, তাঁর নতুন ছবি ‘ড্রাগন’-এ এক হত্যাকারীর চরিত্রে অভিনয়ের জন্য জুনিয়র এনটিআর এমন মাত্রায় নিজেকে বদলে ফেলেন যে, তাঁকে চেনাই কঠিন হয়ে পড়ে। চার মাসে প্রায় ১৫-১৬ কেজি ওজন ঝরিয়ে ফেলেন তিনি।
ওজন ঝরিয়ে নতুন রূপে এনটিআর। ছবি: সংগৃহীত
ছবির প্রস্তুতির
সময়ে চরিত্রের কথা মাথায় রেখে অল্প মেদ ঝরাতে বলে যেন বিপাকে পড়ে যান পরিচালক।
কারণ, তার পর আর এনটিআরকে
থামানো যায়নি। পরবর্তী চার মাস কোনও শুটিং করেননি। কেবল কঠোর শারীরচর্চা, নিয়ন্ত্রিত
খাদ্যাভ্যাস আর প্রতি মুহূর্তে নিয়ম মেনে দ্রুত ওজন কমাতে শুরু করেন। প্রথম দু’মাসেই এতটা রোগা হয়ে
যান যে, এক এক সময়ে খুব দুর্বল এবং ফ্যাকাশে দেখাতে শুরু করেছিল। পরিবার থেকে
বন্ধুবান্ধব, সকলেই চিন্তিত হয়ে পড়েন এনটিআরের
স্বাস্থ্য নিয়ে। তাঁরা দোষারোপ করেন পরিচালককেই। কিন্তু পরিচালকের হাতে আর কিছুই
ছিল না। সকলেই তাঁকে থেমে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু এনটিআর থামেননি। অভিনেতা
তাঁর পরিচালককে বলেছিলেন, ‘‘তুমি ঠিক যে ভাবে
চরিত্রটিকে ভেবেছ, সেটাই আমি হয়ে উঠতে চাই।’’
কিন্তু সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে মাত্র চার মাসে ১৫ কেজি ওজন কমানো বেশ কষ্টকর এবং বিপজ্জনক হতে পারে। সাধারণত এত দ্রুত ওজন কমাতে গেলে কঠোর ভাবে ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার খেতে হয়, নিয়মিত ব্যায়াম করতে হয় এবং পেশাদারদের পর্যবেক্ষণে থাকতে হয়। দ্রুত ওজন কমানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল শরীরের পেশি বজায় রাখা। তাই প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার এবং শক্তিবর্ধক ব্যায়াম অত্যন্ত জরুরি। না হলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, পেশি ক্ষয় হতে পারে, বিপাকক্রিয়াও ধীর হয়ে যেতে পারে। তাই এই নিয়ম মেনে ওজন কমানো সকলের জন্য শ্রেয় নয়। অতিরিক্ত ক্যালোরি কমিয়ে দেওয়া, অত্যধিক শারীরচর্চা বা কড়া ডায়েট হরমোনের ভারসাম্য, মানসিক স্বাস্থ্য, শক্তির উপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি ফলও মেলে না কখনওসখনও।