কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলার সংক্রমণ প্রায় মহামারীর পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। আফ্রিকা মহাদেশ জুড়ে তাণ্ডব করছে ইবোলা ভাইরাস। সে নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও। আফ্রিকা থেকে যাতে এই সংক্রমণ অন্য দেশে ঢুকতে না পারে, সে কারণে অনেক দেশই সতর্কতা জারি করেছে। ভারতেও সম্প্রতি দিল্লিতে আয়োজিত ভারত-আফ্রিকা চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলন (ইন্ডিয়া-আফ্রিকা ফোরাম সামিট) স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইবোলা ভাইরাসকে ঠেকাতে টিকা আগে তৈরি হলেও তা তেমন ভাবে কার্যকরী হয়নি। তাই নতুন করে ইবোলার প্রতিষেধক তৈরির পথে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া।
গত কয়েক বছর ধরে মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকায় মহামারীর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইবোলা ভাইরাস। ভারতে প্রথম ইবোলা ভাইরাস হানা দেয় ২০১১ সালে। তার পর ২০১৪ সালে দিল্লিতে ইবোলায় আক্রান্ত হন আরও এক জন। ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি’র পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েক বছরে ভারতে ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন বা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, এমন মানুষের সংখ্যা প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার। তবে যে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় পেশাগত ও অন্যান্য কারণে মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলিতে রয়েছেন বা ওই সব দেশ থেকে যাওয়া-আসা করেন নিয়মিত, তাঁদের জন্য বিষয়টি আশঙ্কারই বটে।
আরও পড়ুন:
ইবোলার টিকা আগে তৈরি হলেও তার কার্যকারিতা সে ভাবে প্রমাণিত হয়নি। টিকা ট্রায়ালের পর্যায়েই ছিল। তা ছাড়া ইবোলার সংক্রমণ ঠেকাতে তেমন চিকিৎসা পদ্ধতিও নেই। অথচ ইবোলার সংক্রমণ মারাত্মক পর্যায়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) জানিয়েছে, ইবোলার পাঁচ রকম প্রজাতির খোঁজ পাওয়া গিয়েছে, যার মধ্যে তিনটি খুবই সংক্রামক। এদের সংক্রমণে মৃত্যুর হার বেশি। তাই এমন প্রজাতিকে ঠেকাতেই প্রতিষেধক প্রয়োজন। সে টিকা তৈরির কাজই শুরু করেছে পুণের সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া। ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মিলে নতুন টিকা তৈরির কাজ চলছে বলে জানা গিয়েছে। সিরাম জানিয়েছে, আর ২০ থেকে ৩০ দিনের মধ্যেই এ টিকা বাজারে নিয়ে আসার চেষ্টা করবে তারা।
ভাইরাসটির মূল বাহক এক প্রজাতির ফলখেকো বাদুড়। তারা ভাইরাসটি বহন করে, তবে নিজেরা আক্রান্ত হয় না। পরে ওই বাদুড় থেকে বিভিন্ন প্রাণীর দেহে রোগটির সংক্রমণ ঘটে। আর কোনও ভাবে কেউ আক্রান্ত প্রাণীদের মাংস খেয়ে ফেললে বা সংস্পর্শে এলেই ইবোলা ভাইরাসটি অজান্তেই ঢুকে পড়ে তার শরীরে। তার পর সেই মানুষটির রক্ত বা দেহরস (যেমন হাঁচি, কাশি) থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে অন্য মানুষের দেহে। ইবোলার সংক্রমণ হলে শুরুতে জ্বর, সর্দি-কাশি, পেটের সংক্রমণ হয়, ধীরে ধীরে হার্ট, লিভার ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। শরীরের ভিতরে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। একাধিক অঙ্গ বিকল হতে থাকে। শেষে মৃত্যু ঘটে রোগীর।