Advertisement
E-Paper

৪ বছর বয়সে সুগার, গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতে জ়েরেভ দেখালেন সাফল্যের পথে ডায়াবিটিস কোনও বাধাই নয়

শৈশব থেকে ইনসুলিন নিতে হয়। টাইপ ১ ডায়াবিটিসের সঙ্গে লড়তে লড়তেই নিজের স্বপ্নপূরণ করে ফেলেছেন জার্মানির খেলোয়াড় আলেকজ়ান্ডার জ়েরেভ। গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতে গোটা বিশ্বকে দেখালেন, ডায়াবিটিস আসলে কোনও বাধাই নয়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬ ১২:৩৫
Managing Blood Sugar Since Childhood, 29-Year-Old Alexander Zverev Wins His First Grand Slam

শৈশবে ডায়াবিটিস কী ভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন জ়েরেভ? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

তিন বার গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে হারার পর চতুর্থ বারে বাজিমাত করেছেন আলেকজ়ান্ডার জ়েরেভ। জার্মানির খেলোয়াড় ফরাসি ওপেনের ফাইনালে ইতালির ফ্লাভিয়ো কোবোল্লিকে হারিয়ে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতে নিয়েছেন। টেনিস কোর্টের প্রতিপক্ষ কিন্তু তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। জীবনের অধিকাংশ সময় জুড়ে এমন এক প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে জ়েরেভকে, যা কোর্টের ও পারে থাকা প্রতিপক্ষকে হারানোর চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। এই প্রতিপক্ষের নাম টাইপ-১ ডায়াবিটিস, যা তাঁকে ভোগাচ্ছে সেই ৪ বছর বয়স থেকে। শৈশবেই সুগারের সঙ্গে মোকাবিলা, প্রতি দিন ইনসুলিনের ঝক্কি সামলিয়েও ২৯ বছরের টেনিস তারকা দেখিয়েছেন সাফল্যের লড়াইয়ে ডায়াবিটিস কোনও বাধাই নয়।

বয়স্কদের যে ধরনের ডায়াবিটিস হয়, তা টাইপ-২। শিশুদের হয় টাইপ-১। টাইপ-১ ও টাইপ-২-এর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ইনসুলিন হরমোন। ছোটদের ক্ষেত্রে ইনসুলিনের ঘাটতি হয়। তাদের অগ্ন্যাশয়ে যে বিটা কোষগুলি ইনসুলিন তৈরি করে, তা নষ্ট হয়ে যায়। ইনসুলিন ক্ষরণ না হওয়ায় রক্তে শকর্রার মাত্রা বেড়ে যায়। এর জন্য টাইপ-১ ডায়াবিটিস থাকলে ইনসুলিন নিতেই হয়। ২৫ বছর ধরে ইনসুলিন ইঞ্জেকশন নিচ্ছেন আলেজ়ান্ডার জ়েরেভ। নিয়মিত সুগারের মাত্রা পরিমাপ করা, নিয়ম মেনে ইনসুলিন নেওয়া এবং স্বাস্থ্যের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা তাঁর প্রাত্যহিক জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার পরেও ফিটনেসে কোনও খামতি রাখেননি তারকা খেলায়োড়।

শৈশবে টাইপ-১ ডায়াবিটিস চিন্তার, সতর্ক থাকতে হবে অভিভাবকদের

মাত্র ৪ বছর বয়সে সুগার ধরা পড়েছিল জ়েরেভের। শৈশবে ডায়াবিটিস অনেকেরই হয়। ইদানীং সে হার আরও বেড়েছে। টাইপ-১ ডায়াবিটিস কেন হয়, তার যথাযোগ্য কারণ বোঝা যায় না। দিল্লির ‘সোসাইটি ফর অ্যাপ্লায়েড স্টাডিজ়’, কল্যাণীর ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োমেডিক্যাল জিনোমিক্স’ (এনআইবিএমজি)-সহ আরও বেশ কিছু ভারতীয় প্রতিষ্ঠান এই নিয়ে গবেষণা করে। অনেকেই ভাবেন, বাবা-মায়ের ডায়াবিটিস থাকলে তা জন্মের সময়ে সন্তানেরও হতে পারে। জিনগত কারণ এর জন্য দায়ী হলেও তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। মায়ের কোনও শারীরিক সমস্যা, পুষ্টির অভাব বা অন্তঃসত্ত্বাকালীন অবস্থায় ভাইরাসের সংক্রমণ হলে, তা থেকেই নবজাতকের ডায়াবিটিস হতে পারে।

শিশুর টাইপ-১ ডায়াবিটিস হলে তার কিছু লক্ষণ আগে থেকেই প্রকাশ পায়। যেমন, প্রবল জলতেষ্টা, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ, খিদে বেড়ে যাওয়া, ওজন হ্রাস, ক্লান্তিবোধ। এই ধরনের উপসর্গ দেখে অধিকাংশ অভিভাবকই বুঝতে পারেন না। ফলে চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি হয়।

ছোট থেকে টাইপ-১ ডায়াবিটিস ধরা পড়লে তা সামাল দেওয়ার একটাই উপায়, তা হল ইনসুলিন ইঞ্জেকশন। সেই সঙ্গে খাওয়াদাওয়া নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। কোনও ভাবেই শিশুর ওজন বাড়তে দেওয়া যাবে না। নিয়মিত শারীরিচর্চাও করতে হবে। নিয়মিত গ্লুকোমিটারে দেখে নিতে হবে রক্তে শর্করার মাত্রা। ডায়াবেটিক শিশুর জ্বর,সর্দি-কাশি হলে কী ধরনের ওষুধ খাওয়াতে হবে, কখন খাওয়াতে হবে, তা চিকিৎসকের থেকে জেনে নেওয়াই জরুরি। পাশাপাশি, নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করাতে হবে।

Alexander Zverev grand slam The Fench Open Diabetes
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy