উপসর্গ জ্বর, পেটে ব্যাথা, বমি ও খাওয়ায় অরুচি। রাজনগরের তাঁতিপাড়ায় এমন উপসর্গে আক্রান্ত বেশ কিছু রোগীর জন্ডিস হয়েছে বলে জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে তেমনই ইঙ্গিত মিলেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার চিন্ময় মণ্ডলও।

হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রের খবর, গত এক মাস ধরে ওই গ্রামের বাসিন্দারদের জন্ডিসের আক্রান্ত হওয়ার খবর রয়েছে। আক্রান্তদের অধিকাংশই শিশু কিশোর কিশেরী। গ্রামবাসীদের দাবি, জন্ডিসে আক্রান্তের সংখ্যা শাতাধিক। যদিও মেডিক্যাল অফিসার চিন্ময় মণ্ডল বলেন, ‘‘জনা পনেরো শিশুর জন্ডিস হয়েছে বলে জেনেছি। তবে পরিস্থিতি এমনই কেউ জ্বরে আক্রান্ত হলেই জন্ডিস আক্রান্ত হয়েছে বলে ধরে নিচ্ছেন।’’

একই কথা জানিয়েছেন জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক  হিমাদ্রি আড়ি। সিএমওএইচ বলেন, ‘‘ঘটনার কথা জেনেছি। ইতিমধ্যেই মেডিক্যাল টিম এলাকায় গিয়েছে।’’

স্থানীয় বাসিন্দারা অবশ্য স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে খুশি নন। তাঁরা বলছেন, এত সংখ্যক বাসিন্দা আক্রান্ত। কিন্তু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ তেমন ভাবে নেয়নি প্রশাসন। জন্ডিসে আক্রান্ত বছর তেরোর সুদেষ্ণা দত্তের বাবা প্রশান্ত দত্ত, বছর নয়ের ভারতজ্যোতির বাবা দুর্গা শঙ্কর ভক্ত, বছর আটেকের বিশ্বজিৎ দাসের বাবা নন্দদুলাল দাস, বছর তিনেকের দীপান্বিত ভক্তের বাবা গোবিন্দ ভক্তরা বলছেন, তাঁরা ব্যক্তিগত উদ্যোগেই চিকিৎসা করাচ্ছেন।

বাসিন্দাদের আরও দাবি, ‘‘পানীয় জলের জন্য গ্রামে বেশ কয়েকটি নলকূপ থাকলেও অধিকাংশই পানীয় জলের জন্য অনুপযুক্ত। কিন্তু যেগুলি ভাল বলে ব্যবহার করি পানীয় জলের জন্য, সেগুলিতে কোনও সামস্যা হল কিনা কে জানে’ গত একমাস ধরে ঘরে ঘরে এমন অসুখ বিসুখ চলছে প্রশাসনের আরও তৎপর হওয়া উচিত ছিল।’’

জলের জন্যই সমস্যা এমনটা মনে করছে জেলা স্বাস্থ্য দফতরও। সিএমওএইচ বলেন, ‘‘ইতিমধ্যেই প্রতিটা নলকূপের জলের নমুনা পরীক্ষার জন্য পিএইচই, ও ব্লক প্রশাসনকে বলা হয়েছে। রিপোর্ট এলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

রাজনগরের বিডিও দীনেশ মিশ্র বলেন, ‘‘ওই গ্রামে নলকূপগুলির জলের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা করানো হয়েছে। রিপোর্টও এসে যাওয়ার কথা।’’