• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

অনাময়

বন্ধ ক্যাথ-ল্যাব, সমস্যায় মেডিক্যালের হৃদরোগীরা

বছরভরের রক্ষণাবেক্ষন নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে চুক্তির পুনর্নবীকরণ না হওয়ায় বেশ কয়েক দিন ধরেই ক্যাথ-ল্যাব খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ফলে গত কয়েকদিন ধরেই বর্ধমান মেডিক্যালের সুপার স্পেশালিটি শাখা অনাময়ে বন্ধ রয়েছে অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি ও অ্যাঞ্জিওগ্রাম। কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি থাকা রোগীদের পরিজনের ক্ষোভ, ক্যাথল্যাব চালু না থাকায় জরুরি দুটি পরীক্ষা বন্ধ হয়ে রয়েছে। অথচ হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট বিভাগের চিকিৎসকেরাও ক্যাথল্যাব কবে থেকে চালু হবে তার সদুত্তর দিতে পারছেন না। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আশা, দু’এক দিনের মধ্যেই ওই ল্যাবটি চালু হয়ে যাবে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বছর তিনেক আগে ক্যাথল্যাব চালু হয় অনাময়ে। তারপর থেকে প্রায় আট হাজার রোগীর অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি হয়েছে। বর্ধমান জেলা তো বটেই পাশের পুরুলিয়া, বীরভূম, হুগলি ও ভিন রাজ্য ঝাড়খণ্ডের একটা বড় অংশের মানুষ চিকিৎসার জন্য আসেন এখানে। এখনও প্রতিদিন গড়ে ৪-৫ জনের অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি হয়। এ ছাড়াও প্রতিদিন গড়ে ১৪ থেকে ১৫ জন রোগীর অ্যাঞ্জিওগ্রাম করেন ক্যাথল্যাবের কর্মীরা। এ ছাড়া বর্ধমান শহরের পাশ দিয়ে যাওয়া দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের উপর হাসপাতালটি অবস্থিত হওয়ায় রাস্তায় আচমকা হৃদরোগে আক্রান্ত বহু যাত্রীও এখানে আসেন। ফলে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে জরুরি পরিষেবাটি বন্ধ থাকায় মুশকিলে পড়েছেন রোগীরা।

দশ দিন আগে অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করানোর জন্য বীরভূমের রামপুরহাট থানার পসওয়া গ্রাম থেকে অনাময়ে ভর্তি হয়েছেন নিত্যগোপাল মাল। মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডেপুটি সুপার অমিতাভ সাহার কাছে গিয়ে নিত্যগোপালবাবুর পরিজনেরা ক্ষোভ জানান। নিত্যগোপালবাবুর ছেলে নকুলচন্দ্রবাবুর অভিযোগ, “অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করানোর জন্য বাবাকে ভর্তি করানো হয়েছে। কিন্তু যন্ত্র খারাপ থাকায় তা এখন করানো হবে না বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। আবার একই সঙ্গে ওই পরীক্ষা করানোর জন্য চিকিৎসক কুড়ি হাজার টাকা জোগাড় করে রাখতে বলেছেন। কী কারণে ওই টাকা লাগবে তার সঠিক ব্যাখ্যা চিকিৎসক দেননি।” ডেপুটি সুপার তাঁদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, চিকিৎসক কী কারণে টাকা লাগার কথা বলেছেন, তা তিনি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি থাকা বর্ধমানের কাদিগাছি গ্রামের শ্রীকান্ত দে, রায়নার নিমাই মালিকদেরও ক্ষোভ, “বেশ কয়েকদিন ধরে ক্যাথ-ল্যাব বন্ধ রয়েছে। অথচ সুপার স্পেশালিস্ট হাসপাতাল বলে গালভরা নাম দেওয়া হয়েছে!” মেমারির বড়োরা গ্রামের মহম্মদ বসিরও হতাশ গলায় বলেন, ‘‘আমাদের বাড়ির ১৮ বছরের ছেলের অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি হবে। সময় যত যাচ্ছে, দুশ্চিন্তা বাড়ছে।’’

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্যাথ-ল্যাবটি রক্ষণাবেক্ষনের জন্য একটি বহুজাতিক সংস্থার সঙ্গে বার্ষিক ২৭ লক্ষ টাকার চুক্তি হয়েছে বর্ধমান মেডিক্যালের। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরও রক্ষণাবেক্ষনের জন্য মেডিক্যাল কলেজগুলিকে অনুদান দেয়। কিন্তু বেশ কয়েক মাস আগে ওই সংস্থার সঙ্গে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। আবার রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরও নতুন করে আর্থিক অনুদানের অনুমোদন দেয় নি। এই অবস্থায় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুরোধে ওই সংস্থা রক্ষণাবেক্ষনের দায়িত্ব সামলেছিল। কিন্তু তারাও সম্প্রতি হাত গুটিয়ে নিয়েছে। ফলে বন্ধ পড়ে রয়েছে ল্যাবটি।

শুধু ক্যাথ-ল্যাবই নয়, মাস খানেক আগে বসানো সিটিস্ক্যান যন্ত্রটিও দিন কয়েক ধরে খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে সাধারণ রোগী, বিশেষ করে পথ দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত লেগেছে এমন রোগীদের ক্ষেত্রে সমস্যাটা বেশি করে দেখা দিচ্ছে বলে চিকিৎসকদের একাংশ জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, “মাথায় আঘাত আগলে সিটি স্ক্যান করে পরীক্ষ করা এখন বাধ্যতামূলক পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। এ অবস্থায় সিটি স্ক্যান যন্ত্র খারাপ হয়ে পড়ে থাকলে সঠিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে তো বাধা হবেই। আমরা ওই যন্ত্র সারানোর জন্য কর্তৃপক্ষকে বলেছি।”

হাসপাতালের ডেপুটি সুপার এ দিন বলেন, “স্বাস্থ্য দফতর বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষনের জন্য আর্থিক অনুদান অনুমোদন করেছে। আশা করছি, বৃহস্পতিবার থেকে ক্যাথ-ল্যাব চালু হয়ে যাবে।’’ সিটি স্ক্যানও খুব দ্রুত চালু করা হবে বলে তাঁর আশ্বাস।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন