সনাতন ধর্মে পঞ্চক যোগ একটি বিশেষ সময়কালকে নির্দেশ করে। যখন চন্দ্র ধনিষ্ঠা, শতভিষা, পূর্বভাদ্রপদ, উত্তরভাদ্রপদ এবং রেবতী— এই পাঁচটি নক্ষত্রের উপর দিয়ে ভ্রমণ করে, তখন সেই পাঁচ দিনের সময়টিকে পঞ্চক বলা হয়। পঞ্চক কোন দিন বা কোন বারে শুরু হচ্ছে, তার উপর ভিত্তি করে এর নামকরণ এবং প্রভাব ভিন্ন হয়। যখন কোনও পঞ্চক শনিবার থেকে শুরু হয়, তখন তাকে মৃত্যু পঞ্চক বলা হয়। জ্যোতিষশাস্ত্রে এই কালকে অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং অশুভ বলে মনে করা হয়। কারণ এই সময় দুর্ঘটনা, শারীরিক অথবা মানসিক কষ্ট বা বড় ধরনের বিপদের ঝুঁকি বেশি থাকে। পঞ্চকের এই পাঁচ দিন বিশেষ কিছু কাজ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বা অশুভ বলে মনে করা হয়।
আরও পড়ুন:
২০২৬ সালের জুন মাসের মৃত্যু পঞ্চক ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে গত ৬ জুন সন্ধ্যা ৭টা ৩ মিনিটে। এই পঞ্চক চলবে ১১ জুন সকাল ৮টা ১৬ মিনিট পর্যন্ত। মৃত্যু পঞ্চকের অশুভ প্রভাব থেকে বাঁচতে এই দিনগুলিতে আরও বেশি করে ঈশ্বর আরাধনা, বিশেষ করে ভগবান শিব এবং হনুমানজির পুজো ও মন্ত্র জপ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর ফলে সমস্ত রকমের নেতিবাচক শক্তি এবং সঙ্কট থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। কর্পূর, জোয়ান এবং তিনটি লবঙ্গ একটি লাল কাপড়ে বেঁধে তা বাড়ির সদর দরজার ভিতরের দিকে ঝুলিয়ে রাখলে নেতিবাচক শক্তি দূর হয়। পাশাপাশি এই পাঁচ দিনে যে কাজগুলি করলে অমঙ্গলের আশঙ্কা থাকে সেগুলি নিয়ে নীচে বিস্তারে আলোচনা করা হল—
দক্ষিণ দিকে যাত্রা করা
দক্ষিণ দিককে যমরাজ এবং পিতৃপুরুষের দিক বলে মানা হয়। পঞ্চক চলাকালীন বিশেষ কোনও প্রয়োজন ছাড়া দক্ষিণ দিকে ভ্রমণ করা উচিত নয়। এর ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।
আরও পড়ুন:
কাঠ কেনা
এই পাঁচ দিনে কাঠ কেনা, কাঠ কাটা বা খড়-জ্বালানি ইত্যাদি ঘরের এক জায়গায় স্তূপ করে রাখা নিষেধ। বিশ্বাস করা হয় যে, এর ফলে অমঙ্গলের আশঙ্কা থাকে।
বাড়ির ছাদ ঢালাই করা
পঞ্চক চলাকালীন নতুন বাড়ির ছাদ ঢালাই করা বা অত্যন্ত অশুভ বলে মনে করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস যে, এই সময়ে ছাদ ঢালাই করলে সেই ঘরে সুখ-শান্তি থাকে না এবং ধনসম্পত্তির ক্ষতি হয়।
বিছানা তৈরি
এই পাঁচ দিনের মধ্যে নতুন বিছানা অথবা চারপেয়ে কোনও আসবাবপত্র কেনা বা তৈরি করা উচিত নয়। এই জিনিসগুলি পারিবারিক অশান্তি ডেকে আনে।
আর্থিক বিনিয়োগ
মৃত্যু পঞ্চকের সময় বড় কোনও ব্যবসায়িক চুক্তি, আর্থিক বিনিয়োগ অথবা নতুন কোনও শুভ কাজ যেমন বিবাহ বা গৃহপ্রবেশের মতো অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলা উচিত।