×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২৪ জুন ২০২১ ই-পেপার

শ্যামা মা কী আমার কালো...

১২ অক্টোবর ২০১৪ ০০:০০

শারদীয়ার হার্দিক শুভকামনা জানাই সকল সুধী পাঠকবৃন্দকে। মঙ্গলময় হোক সবার জীবন, সমগ্র ভুবন ও চরাচর। দুর্গোত্‌সবের দিনগুলো সবার আশা করি সুন্দর ও সুস্থতায় কেটেছে। হে দুর্গতিনাশিনী—মর্তলোকের আর্তিহারিণি—মা গো, তোমার কৃপায় আমাদের জীবনে দাও আধি ব্যাধিহীন নিরবচ্ছিন্ন সুখ ও সমৃদ্ধি। শান্তি ও আনন্দ।

আগমনী গান নিয়ে মায়ের আবাহন এবং ‘পুজো আসছে’ যত দিন পর্যন্ত এই অপেক্ষাটা ছিল, যত দিন মাথার ওপর আশ্বিনের আকাশটায় ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘগুলো তুমুল শরত্‌পনা দেখাচ্ছিল, তত দিন ছিল অন্য রকম। ও দিকে হোয়াটস আপ, ফেসবুক, ইনস্ট্রাগ্রাম, ট্যুইটারে নাগাড়ে মাঠেঘাটে কাশফুলের ছবি, ঢাক বাদ্যির ছবি, দুর্গার ত্রিনয়নের ছবি, কুমোরটুলির অর্ধনির্মিত প্রতিমার ছবি, নির্মীয়মাণ মণ্ডপের ছবি বন্ধুরা আপলোড করছে। সব মিলিয়ে বেশ ভালই চলছিল। তার সঙ্গেই চলছিল কলকাতায় কিছু দিনের ঝটিকা সফর, ঘরদোর পরিপাটি সাফসুতোরের হ্যাপা, পুজোয় বেড়াতে যাওয়ার অন লাইন হোটেল বুকিং, কেনাকাটা—হাজারো ব্যস্ততা।

তার পরই তো শরতের অরুণ আলোর অঞ্জলি মেখে, বচ্ছরকার অপেক্ষা ঘুচিয়ে মা চলে এলেন মণ্ডপে। যদিও মুম্বইয়ে নবরাত্রি উত্‌সব শুরু হয়ে গিয়েছিল আগেই। সেখানেও ‘মাতা কি চৌকি’ পুজোপাট-ডান্ডিয়া-গরবা নাচ নিয়ে মেতে থাকা। ‘নবমী নিশি’ আসতেই মন কাতর।

Advertisement

‘নবমী’ আসলেই জগজ্জননী মায়ের ওপর এক রাশ অভিমান আর ছেলেমানুষি অনুযোগটা মনে গাঢ় হয়। এ কেমনতর মর্তে আসা মা গো? হে সর্বেশ্বরী, হে পালয়িত্রী, হে জগত্‌পালিনি এই হাতেগোনা মাত্র ক’টা দিনের জন্য এসেই খুশির ছোঁয়া লাগিয়েই পতিগৃহে ফিরে যাওয়া। আরও কয়েকটা দিন বেশি থাকলে কি এমন ক্ষতি হত। কৈলাসে তো আর আকাশ ভেঙে পড়ত না—বরং আমরা একটু বেশি ক’টা দিন ছুটির আবহে, ফুর্তিতে কাটাতে পারতাম।

‘দশমী’ পরম্পরা অনুযায়ী ‘নীলকণ্ঠ পাখি’ উড়িয়ে দেওয়া হয় আকাশে। মর্তবসীর বিশ্বাস এই নীলকণ্ঠ পাখি স্বর্গে পৌঁছে উমা মায়ের স্বর্গে ফেরার আগাম সমাচার দেবাদিদেব মহাদেবের কাছে জানিয়ে রাখবে। মর্তবাসীর কাছে দেবী পার্বতীর বিদায়কালে নীলকণ্ঠ পাখি উড়িয়ে দেওয়া এক গভীর বেদনার দ্যোতক। ইদানীং অবশ্য নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বিজয়া দশমীর প্রারম্ভে নারী যাপনে স্বকীয় বোঝাপড়ায় আলোকিত থাকে শাঁখা ও সিঁদুর। নৈমিত্তিক শুভাশুভ। দেবী মায়ের পায়ে প্রণাম করে পরিবারের প্রতি, স্বামীর প্রতি, স্বজনের প্রতি, নানান সম্পর্কের মঙ্গলার্থে বিবাহিতা মহিলারা শ্রদ্ধায় শাঁখা ছোঁয়ান কপালে। মহিলারা পরম্পরা ঐতিহ্য মেনে লাল পাড় সাদা বা অফ হোয়াইট রঙের তসর সিল্ক পরে শরদে প্রত্যেকেই পরমেশ্বরী। মায়ের মুখে পান পাতা মিষ্টি, ধূপ প্রদীপের আরতি করে বরণ করেন মহিলারা। সধবা মহিলারা দেবী প্রতিমার সিঁথিতে ছুঁইয়ে দেন সিঁদুররেখা। দেবীর কপালে এঁকে দেন সিঁদুর চিহ্ন। এয়ো স্ত্রীরা এর পর পুজোবেদি থেকে নেমে পরস্পর মেতে ওঠেন সিঁদুর খেলায়।

পরিবারের মঙ্গল কামনায় এমন ঐতিহ্যবরণ চিত্র আজও বিশ্বায়ন সংস্কৃতির যুগেও পুজোমণ্ডপে চোখে পড়ে। বাংলা ও বাঙালির চিরাচরিত লৌকিক কৃষ্টির ঐতিহ্য কিন্তু আজও থেকে যায়। যে বিষণ্ণতার আবহ তৈরি হয়েছিল, যে চোখ ছলছল বেদনাভার একটু আগে পর্যন্তও ছিল—তা যেন নিমেষেই উধাও মণ্ডপে উপস্থিত মহিলাদের হাসি, সিঁদুর মাখামাখি আর হুল্লোড় কলকাকলিতে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম, যুগ থেকে যুগান্তরে, প্রত্যন্ত গ্রাম গ্রামান্তর থেকে শহর-শহরতলি, নগর মহানগর—পশ্চিমি সংস্কৃতির অনুকরণীয় কেতার সঙ্গে তাল মিলিয়েও কোথায় যেন থেকে যায় বাঙালির মাটির গন্ধের যোগাযোগ। বাঙালিত্বের এই মাখো মাখো আঘ্রাণকে আজও সামাজিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পরম্পরায় জারিত রাখার প্রয়াস। ও দিকে ঢাকের তালে বিসর্জনের সুর—‘ঠাকুর থাকবে কতক্ষণ ঠাকুর যাবে বিসর্জন।’ তার পর দিন গড়াতে না গড়াতেই আশ্বিন মাসের অমাবস্যা তিথিতে শুরু হবে দীপান্বিতা কালীপুজো। অপরূপ আলোকসজ্জা ও আতসবাজির উত্‌সবের মধ্যে সারারাতব্যাপী হবে কালী পুজো।

“ওঁ ক্রীং কাল্যই নমঃ

ওঁ কপালিন্যই নমঃ

ওঁ হ্রিং শ্রিং ক্রীং

পরমেশ্বরী কালিকায়ৈ স্বাহা

গায়ত্রী কালিকায়ৈ বিদ্মহে

শ্মশানবাসিনৌ ধীমহি।

তন্নো ঘোরে প্রচোদয়াত্‌।।

তন্ত্রের আরাধ্যা দেবী ব্রহ্মময়ী যাঁকে শ্রীশ্রী দুর্গা, শ্রীশ্রী কালী, শ্রীশ্রীসরস্বতী, শ্রীশ্রীলক্ষ্মী নামে পুজো করা হয়ে থাকে। “ওঁ ক্রীং কালিকায়ৈ নমঃ” মন্ত্রে দেবীকে আবাহন করা হয়। দুর্গা-চণ্ডী-কালী-একই সত্তায় মহাশক্তি রূপে পরিণত হয়েছেন। ‘দেবঃ তেজঃ সম্ভবা’ রূপে তিনিই কালী কাত্যায়নী, চণ্ডী রূপে তিনি বধ করেন চণ্ড-মুণ্ড অসুরদ্বয়কে। দুর্গা রূপে বধ করেন দুর্গমাসুরকে, আবার তিনিই কালী রূপে পান করেন রক্তবীজ অসুর-রক্ত। বহু নামেই তিনি বিরাজিতা। কালী, মাতঙ্গী কালী, ছিন্নমস্তা কালী, শ্মশানকালী, কালা কালী, ভৈরব বা ভদ্রকালী, ষোড়শী কালী, কমলা কালী, ধুমাবতী কালী। এই সব নাম ও রূপের বাইরেও মহাশক্তি সর্বত্র বিরাজ করছেন। জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে, বৃক্ষে, লতায়, ঔষধিতে, মানবের দেহে, মনে, প্রাণে, বুদ্ধিতে, অহঙ্কারে। সবেতেই আছেন। তিনি আছেন মানব চেতনায়, স্মৃতিতে, শ্রদ্ধায়, নিদ্রায়, ক্ষুধায়, তৃষ্ণায়, ক্ষমায়, লজ্জায়, শান্তিতে, ভ্রান্তিতে, শক্তিতে। মাতৃ রূপে, তিনি সর্বত্রই সংস্থিতা।



তিনি আদ্যাশক্তি মহামায়া। কোথাও তিনি দুর্গা ও কালীর যৌথ রূপ। দেবীর অর্ধাংশে দুর্গা ও অধিকাংশ কালী। দুর্গার অংশটি পঞ্চভুজা ও কালী অংশটি দ্বি-ভুজা। তিনি কালিকা, তিনি শ্যামা, তিনি ভবতারিণী। তান্ত্রিক মতে আবার তিনি ‘অষ্টধা’ বা ‘অষ্টবিধ’। এই ‘অষ্টধা’ হলেন চামুণ্ডাকালী, দক্ষিণী কালী, ভদ্রকালী, রক্ষাকালী, শ্মশান কালী, মহাকালী, শ্রীকালী।

কালিকাপুরাণে আমরা দেখি আদি শক্তি রূপে তিনি যোগীদের মন্ত্র ও তন্ত্র উদঘাটনে তত্‌পর। তিনি চতুর্ভুজা, খড়গধারিণী, বরাভয়দায়িনী, নরমুণ্ডধারিণী। তিনি লোলজিহ্বা ও মুণ্ডমালা বিভূষিতা। তিনি মুক্তকেশ, কৃষ্ণবর্ণা, শিববক্ষে দণ্ডায়মানা মাতৃমূর্তি। তিনি মূলত শাক্তদের দ্বারা পূজিতা হন এবং একাধারে দশমহাবিদ্যার প্রথমা দেবী ও বিশ্বসৃষ্টির আদি কারণ। অন্ধকারবিনাশিনী তিনিই,

দেবতা তথা শুভাশুভ শক্তির সম্মিলিত রূপ।

“ওঁ করালবদনাং ঘোরাং মুক্তকেশীং

চতুর্ভুজাম।

কালিকাংম দক্ষিণাং দিব্যাং মুণ্ডমালা

বিভূষিতাম।।”

প্রাক আর্য যুগ থেকেই ভারতে শক্তি উপাসনা প্রচলিত। সেই যুগে মানুষ প্রাকৃতিক শক্তির ভয়াল রূপকে ঠিকমতো ব্যাখ্যা করতে পারত না। প্রাকৃতিক নানান দুর্যোগের কাছে তারা তখন নিতান্ত অসহায়। সেই হেতু তারা সেই সমস্ত অলৌকিক ও দুর্জয় শক্তিকে দেবতাজ্ঞানে পুজো করত। প্রকৃতিকে স্বয়ং শস্যশ্যামলা মাতৃরূপে তথা মাতৃশক্তিরূপিণী জগদম্বা রূপে কল্পনা করা হত। শ্রীশ্রীচণ্ডীতেও মহামায়াকে পরাশক্তির আধাররূপিণী রূপে কল্পনা করা হয়েছে। কালিকাপুরাণে আমরা দেখি, আদি শক্তিরূপে তিনি যোগীদের মন্ত্র ও মন্ত্রের মর্ম উদঘাটনে তত্‌পর। পরমানন্দা সত্ত্ববিদ্যাধারিণী জগন্ময়ী রূপ তাঁর। বীজ থেকে যেমন অঙ্কুরের নির্গমন হয় এবং জীবের ক্রমবিকাশ হয় তেমনই সেই সর্ব সৃজনই তাঁর সৃষ্টিশক্তি। মুণ্ডকোপনিষদে মহাকালী স্বয়ং কালী, করালি, মনোজবা, সুলোহিতা, সধুম্রবর্ণা, বিশ্বরূচি, স্ফুলিঙ্গিনী, চঞ্চলজিহ্বা ইত্যাদি নামে ভূষিতা হন।

“মহাকালেন চ সমং বিপরীতরতাতুরাম।

সুপ্রসন্নূদনাং স্মেরানন সরোরুহাম।”

নানা বৈচিত্রের সমাহারে কালী মাতাকে আবাহন করা হয় কারণ তিনি সনাতনী, কাত্যায়নী, মহামায়া, অপরাজিতা। চণ্ডী, কালী, শতাক্ষী, কৌশিকী, ভীষ্মা, ভামরী, ভৈরবী, শাকম্ভরী, কপালিনী, রক্তদন্তিকা, বিন্ধবাসিনী, দুর্গা। তিনি ‘শক্তিরূপেণ সংস্থিতা।’



বাংলায় আশ্বিনের ঘোর অমাবস্যায় কালীপুজোর প্রচলন করেন নবদ্বীপের সেই সময়ের প্রখ্যাত তান্ত্রিক কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ। তিনি যে পদ্ধতিতে পুজোর পৌরোহিত্য করতেন, সেই পদ্ধতিকে বলা হত ‘আগমবাগীশ পুজো পদ্ধতি। কথিত আছে শ্যামা মায়ের পরম সাধক রামপ্রসাদ সেন ও এই আগমবাগীশ পুজো পদ্ধতিতে তাঁর আরাধনা করতেন। প্রসঙ্গত রামপ্রসাদ সেনের লিখিত—

“আর কাজ কি আমার কাশী?

মায়ের পদতলে পড়ে আছে,

গয়া গঙ্গা বারাণসী

হৃদকমলে ধ্যানকালে,

আনন্দসাগরে ভাসি

একে কালিপদ কোকনদ,

তীর্থ রাশি রাশি”

কালী তথা ভবতারিণীর পরম উসাপক শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব শাক্ত মন্ত্রে দীক্ষালাভ করেছিলেন। কেনারাম ভট্টাচার্যের কাছে। পরবর্তীতে রানি রাসমণির আনুকূল্যে ও অর্থে সৃষ্ট দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ির পূজারি রূপে সাধনজীবন শুরু করেন। দেবী ভবতারিণীর পাষাণপ্রতিমাকে ‘মা মা’ বলে আপন খেয়ালে তিনি কথা বলতেন। নিজ কণ্ঠে গান শোনাতেন। কখনও তাঁর ‘ভাব-সমাধি’ হত। রামকৃষ্ণের সেই ভাবসমাধি মুহূর্তে মনে করা হত তিনি স্বয়ং মা-কে প্রত্যক্ষ করছেন। রামকৃষ্ণের অলৌকিক কাণ্ডকারখানা ও তাঁর ভাবসমাধি জনশ্রুতি সৃষ্টি করেছিল।

শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত’ গ্রন্থে শ্রীম জানিয়েছেন, ঠাকুর বলতেন,

“এমনি মহামায়ার মায়া

রেখেছ কী কুহক করে

ব্রহ্মা বিষ্ণু অচৈতন্য

জীবে কি তা জানতে পারে।”

হিন্দু পুরাণ মতে দুষ্টের দমন ও সত্যসুন্দরের জয় সূচিত করতেই সমস্ত দেশে লক্ষ্মীপুজো, দীপান্বিতা কালীপুজো বা শ্যামাপুজো বিশেষ জনপ্রিয়। আশ্বিন মাসের অমাবস্যা তিথিতে দীপান্বিতা কালীপুজো ছাড়াও আমাদের বাংলায় মাঘ মাসের কৃষ্ণা চতুদর্শীতে রটন্তী কালীপুজো এবং জৈষ্ঠ মাসের কৃষ্ণা চতুদর্শীতে ফলহারিণী কালীপুজো বিশেষ ভাবে উল্লিখিত।



সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে অবশ্য এই কালীপুজোর দিনটিতে ‘দেব দিওয়ালি’ তথা লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়। সমগ্র বিশ্বলোক ‘লক্ষ্মী পঞ্চায়তন’ দ্বারা প্রজ্জ্বোলোমানা। এই ‘লক্ষ্মী পঞ্চায়তন হল—‘মহালক্ষ্মী’ (স্বর্গীয় শক্তি), ‘বিষ্ণুলক্ষ্মী’ (সন্তোষ ও সুখ), ‘ইন্দ্রলক্ষ্মী’ (ঐশ্বর্য ও ধনসম্পদ, ‘গজেন্দ্রলক্ষ্মী’ (প্রাচুর্য), ‘কুবেরলক্ষ্মী’ (সমৃদ্ধ)। পুরাণে বর্ণিত এই লক্ষ্মী স্বর্গলোকে ‘সম্পদলক্ষ্মী’ ও সৌভাগ্য লক্ষ্মী’ রূপে বিরাজ করেন। লক্ষ্মীর সঙ্গে গণেশ মূর্তিও অঞ্চলভেদে পূজিত হন। লক্ষ্মী ধনসম্পদ ও ঐশ্বর্যের দেবী এবং গণেশ হলেন বিঘ্নবিনাশী।

দ্বীপান্বিতার দিন ঘরে মহালক্ষ্মীর আবাহন করা হয়। কার্তিকের আকাশে জ্বলে ওঠে আকাশপ্রদীপ। ঘরগৃহস্থালি সজ্জিত হয় আলোকসজ্জায়। কথিত আছে, মহালয়ার তর্পণের মাধ্যমে শ্রাদ্ধ গ্রহণের জন্য যে পিতৃপুরুষরা যমলোক থেকে মর্তে এসেছিলেন তাঁদের ফিরে যাওয়ার পথ দেখানোর জন্যই ‘আকাশপ্রদীপ’ জ্বালানো হয়। এই দ্বীপান্বিতা উত্‌সবকে দীপাবলি, দীপলিকা, দেওয়ালি, মুখরাত্রি, সুখসুপ্তিকা, যক্ষরাত্রি প্রভৃতি নামেও ভূষিত করা হয়। আলোকমালায় সজ্জিত থাকে সমস্ত চরাচর। আতসবাজির জৌলুসে নিশিযাপন বাঙ্ময় হয়ে ওঠে। পুজোমণ্ডপে ধ্বনিত হয় শ্বাশ্বত মাতৃমন্ত্র

“জয়ন্তী মঙ্গলকালী ভদ্রকালী কপালিনী

দুর্গা শিবা ক্ষমাধাত্রী স্বাহাস্বধা নমোহ

ওঁ কালীকালীমহাকালী কালিকে

পরমেশ্বরী সর্বনন্দকরে দেবী নারায়ণী নমোহস্তুতে।।”

Advertisement