Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৮ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

বরুণের মুখে রাহুল-প্রশস্তি, অস্বস্তি দলে

ভোটের লড়াইয়ের মরসুমে দাদা তথা কংগ্রেসের মুখ রাহুল গাঁধীর প্রশস্তি করে নিজের দল বিজেপিকে তুমুল অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছেন বরুণ গাঁধী। রাহুল গাঁধ

নিজস্ব সংবাদদাতা
নয়াদিল্লি ০৩ এপ্রিল ২০১৪ ০৩:৩৩

ভোটের লড়াইয়ের মরসুমে দাদা তথা কংগ্রেসের মুখ রাহুল গাঁধীর প্রশস্তি করে নিজের দল বিজেপিকে তুমুল অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছেন বরুণ গাঁধী।

রাহুল গাঁধীর নির্বাচনী কেন্দ্র অমেঠীর পাশেই সুলতানপুর থেকে ভোটে লড়ছেন বরুণ। কিছু দিন আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, রাহুলের বিরুদ্ধে প্রচার করবেন না তিনি। কিন্তু গত কাল সুলতানপুরের এক অনুষ্ঠানে আরও এক ধাপ এগিয়ে বরুণ অমেঠীতে রাহুলের কাজের তারিফ করে বলেছেন, “যে ভাবে রাহুল গাঁধী অমেঠীতে ছোট শিল্প তৈরি করেছেন, এখানেও তেমন কাজ দরকার।” এমন সময়ে বরুণের মুখ থেকে রাহুলের তারিফ এল, যখন গোটা বিজেপি নেতৃত্ব রাহুল গাঁধীর বিরুদ্ধেই সরব হয়ে ভোট লড়ছেন। দলের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদী রোজ নিজের উন্নয়নের মডেল তুলে ধরে সনিয়া-রাহুলের ব্যর্থতার কথা বলছেন। রাহুল গাঁধীর বিরুদ্ধে স্মৃতি ইরানির মতো ওজনদার প্রার্থীও দেওয়া হয়েছে সরাসরি টক্কর নেওয়ার জন্য। অমেঠীর অনুন্নয়নই তাঁর ভোট-পুঁজি।

এই পরিস্থিতিতে বরুণ প্রতিপক্ষ দলের নেতার প্রশস্তি করে দলের অস্বস্তিই বাড়িয়ে তুলেছেন। কারণ, বরুণের মন্তব্যকে পুঁজি করে কংগ্রেস আসরে নেমে পড়েছে। খোদ রাহুল আজ বলেছেন, “বরুণ ঠিক কথাই বলেছে। আমি খুবই খুশি, অন্যরাও আমাদের কাজের তারিফ করছে। সুনির্দিষ্ট কৌশল মেনেই আমরা অমেঠীতে কাজ করেছি।” বিতর্কের পর দলের নির্দেশে বরুণ অবশ্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু অমেঠীতে রাহুলের প্রশস্তির অবস্থান থেকে সরে আসেননি। বরুণের মন্তব্য, “গত কাল শিক্ষক ও বেসরকারি সংস্থাদের অনুষ্ঠানে আমাকে প্রশ্ন করা হয়, অমেঠীতে রাহুল গাঁধীর কাজের ব্যাপারে আমি কী জানি? যদিও আমি সেখানকার কাজ দেখিনি, কিন্তু শুনেছি ভালই কাজ হয়েছে। তাই স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে আমি ক্ষমতায়নের কথা বলেছি। আমার মন্তব্য কোনও রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিকে সমর্থন করা হিসেবে দেখা উচিত নয়।”

Advertisement

সবেমাত্র দু’দিন আগে স্মৃতি ইরানিকে অমেঠীতে প্রার্থী করা হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সম্পর্কে নিজের দলের নেতারই এ হেন মন্তব্য বিড়ম্বনায় ফেলেছে স্মৃতিকেও। বরুণের তারিফের জবাব দিতে স্মৃতি আজ কেন্দ্রীয় সরকারের রিপোর্ট তুলে অমেঠীর অনুন্নয়নের দৃষ্টান্ত দেখাতে চেয়েছেন। তাঁর যুক্তি, “কেন্দ্রের রিপোর্টই বলছে, অমেঠীতে ছোট ও মাঝারি শিল্প রয়েছে ১৪৮টি। কিন্তু সেখানে কাজ পেয়েছেন মাত্র ৫৯৩ জন।” অমৃতসর থেকে মোদীর সেনাপতি অরুণ জেটলিও রাহুলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।

কিন্তু বারবার বরুণকে নিয়ে এই অস্বস্তিতে বিরক্ত বিজেপি নেতৃত্ব। গ্যাসের বরাত নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে দল কেন সরব হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রকাশ্যেই বরুণ মুখ খুলেছিলেন। উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে প্রচারেই যাননি তিনি। অনেক ক্ষেত্রেই দলের অবস্থানের বিপরীতে হেঁটেছেন তিনি। তবে এ বার সব কিছুই ছাপিয়ে গিয়েছে। আগেও অবশ্য তাঁর স্বজনদের সম্পর্কে নরম মনোভাবের ইঙ্গিত দিয়েছেন বরুণ। ২০০৪ সালে লোকসভা ভোটের প্রচারে মুম্বইয়ে প্রথম জনসভাতেই প্রমোদ মহাজন বরুণকে দিয়ে সনিয়াকে আক্রমণ করাতে চেয়েছিলেন। সেই সময় সনিয়ার বিরুদ্ধে ‘বিদেশিনি’ ইস্যু নিয়ে প্রচার করছিল বিজেপি। কিন্তু তখনও বরুণ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিলেন, “ওটা বাদ দিয়ে সব বলতে পারি। কিন্তু পারিবারিক আক্রমণ করা সম্ভব নয়।” এই প্রসঙ্গে বিজেপির এক নেতার কথায়, “পারিবারিক সম্পর্ক থাকলে তা বজায় রাখার মধ্যে কোনও অসুবিধে নেই। কিন্তু রাজনৈতিক পরিসরে সেটিকে আনা কখনওই কাম্য নয়। ভোটযুদ্ধে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল না করা হোক, তার প্রশস্তি কোনও ভাবেই করা উচিত নয়।”

দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দ জানে, সনিয়া ও বরুণের মা মেনকার মধ্যে সম্পর্ক মধুর না হলেও রাহুল-প্রিয়ঙ্কা ও বরুণের মধ্যে সম্পর্ক ভাল। বরুণের প্রতি বরাবরই স্নেহশীল সনিয়া। মেনকাও তাতে বাদ সাধেননি। রাহুল ও প্রিয়ঙ্কার সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে বরুণের। বিশেষ করে ঘনিষ্ঠতা প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে। প্রিয়ঙ্কার বিয়েতেও বরুণ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে অবশ্য মেনকা যাননি। গত লোকসভা নির্বাচনের সময় সনিয়া গাঁধী যখন দলের ইস্তাহার প্রকাশ করছিলেন, সেই সময় বরুণের বিতর্কিত সাম্প্রদায়িক মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও তা এড়িয়ে যান বরুণের জেঠিমা। প্রিয়ঙ্কা অবশ্য পরে মুখ খুলেছিলেন। কিন্তু কংগ্রেসের মতো উচ্চগ্রামে ভর্ৎসনার পরিবর্তে প্রিয়ঙ্কার গলায় ছিল দিদিসুলভ বকুনিরই আভাস। নিজের বিয়ের নেমন্তন্ন করতেও সনিয়ার কাছে দশ জনপথে গিয়েছিলেন বরুণ।

ফলে এখন কংগ্রেস নেতারা বলেছেন, “রাজনৈতিক বিরোধ যা-ই হোক, বরুণ পরিবারের ছোট ছেলে তো!” কিন্তু বিজেপির কাছে সেই পরিবারিক টানই এখন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন

Advertisement