Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৫ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

রাজনৈতিক ঘোষণা, দাবি বিরোধীদের

ভোটমুখী কেন্দ্র সায় দিল একগুচ্ছ প্রকল্পে

নিজস্ব সংবাদদাতা
নয়াদিল্লি ০১ মার্চ ২০১৪ ০৮:৩৬

লোকসভা ভোটে যাওয়ার আগে ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বাড়ানো ছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারী কর্মচারীদের আর কোনও সুরাহা কেন্দ্র দিল না ঠিকই। কিন্তু সেই নির্বাচনের দিকে তাকিয়েই এক গুচ্ছ প্রস্তাবে অনুমোদন দিল মনমোহন সিংহের মন্ত্রিসভা। বিশেষ করে কর্মচারী ভবিষ্যনিধি প্রকল্পের (ইপিএফ) আওতায় ন্যূনতম পেনশন এক হাজার টাকা করা বা প্রতিবন্ধীদের আর্থিক সুরাহার ব্যাপারে ঘোষণা রাজনৈতিক বলেই অভিযোগ বিরোধীদের।

লোকসভা ভোটের আগে আজই মন্ত্রিসভার শেষ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কারণ, অল্প দিনের মধ্যেই ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। আর সেই নির্ঘণ্ট প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হয়ে যাবে। তখন নতুন কোনও সিদ্ধান্ত সরকারের পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয়। সে দিক থেকে আজকের বৈঠকে মূলত দু’টি বিষয়ের দিকে নজর ছিল। এক, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক সুরাহার জন্য সরকার কী ঘোষণা করবে? এবং দুই, রাহুল গাঁধীর দাবি মতো দুর্নীতি মোকাবিলা সংক্রান্ত চারটি বিল-সহ বেশ কিছু অর্ডিন্যান্স জারি করার ব্যাপারে মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেয় কি না।

মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্ত জেনে আজ অবশ্য কিছুটা হতাশই হয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা। তাঁদের আশা ছিল, সপ্তম বেতন কমিশনের শর্তাবলীতে অনুমোদন দেওয়ার পাশাপাশি ভোটে যাওয়ার আগে কিছু অন্তর্বর্তী সুরাহাও দেবে সরকার। কিন্তু মহার্ঘ ভাতা ১০ শতাংশ বাড়ানো ছাড়া অতিরিক্ত কোনও সুবিধাই কেন্দ্র ঘোষণা করেনি।

Advertisement

এ দিন মহার্ঘ ভাতা ১০ শতাংশ বাড়ানোর পর তা এখন মূল বেতনের সমান হয়ে গিয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের দাবি ছিল, এই অবস্থায় ৫০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা মূল বেতনের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হোক। সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের অবসরের বয়স বর্তমানের ৬০ থেকে বাড়িয়ে ৬২ বছর করা হোক।

কিন্তু মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে, মহার্ঘ ভাতার ৫০ শতাংশ মূল বেতনের সঙ্গে মেশানোর প্রস্তাব থাকলেও স্থির হয়েছে, কর্মীদের অন্তর্বর্তী সুরাহা দেওয়ার বিষয়টি স্থির করবে সপ্তম বেতন কমিশন। আর অবসরের মেয়াদ ৬০ থেকে বাড়িয়ে ৬২ বছর করার ব্যাপারে কোনও আলোচনাই এ দিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে হয়নি।

একই ভাবে দুর্নীতি মোকাবিলা সংক্রান্ত অর্ডিন্যান্সগুলিতেও মন্ত্রিসভায় আজ অনুমোদন দেওয়া হয়নি। সেই সঙ্গে পাশ হয়নি সেবি সংশোধন বিল সংক্রান্ত অর্ডিন্যান্স। সূত্রের খবর, এ ব্যাপারে মন্ত্রিসভায় আলোচনার সময় কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী কপিল সিব্বল জানান, দুর্নীতি দমন সংক্রান্ত চারটি বিল অর্ডিন্যান্স হিসেবে জারি করার রাজনৈতিক যৌক্তিকতা থাকতে পারে। কিন্তু আইনত দেখতে গেলে এ ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করার কোনও প্রয়োজন নেই। তেমন কোনও জরুরি অবস্থাও তৈরি হয়নি। কপিলের কথা শুনেই মন্ত্রিসভার অনেক সদস্য পাল্টা সওয়াল করেন। তাঁরা বলেন, রাহুল এ ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই অর্ডিন্যান্সগুলি না জারি করলে রাজনৈতিক ভাবে কংগ্রেসের মুখ পুড়বে। কিন্তু সেই যুক্তি খারিজ করে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শরদ পওয়ারও বলেন, অর্ডিন্যান্সের কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই। এক মাত্র সেবি সংশোধন বিল অর্ডিন্যান্স হিসেবে জারি করা যেতে পারে। কারণ, এর সঙ্গে বহু লক্ষ স্বল্প সঞ্চয়কারীর স্বার্থ জড়িত রয়েছে।

পরে সরকারি সূত্রে বলা হয়, আজ রাতে কংগ্রেস কোর গ্রুপের বৈঠকে অর্ডিন্যান্স জারির বিষয়ে সবিস্তার আলোচনা হবে। তার পর প্রয়োজনে অর্ডিন্যান্স অনুমোদন করাতে কাল বা পরশু মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক ডাকা হতে পারে।

দুর্নীতি-বিরোধী অর্ডিন্যান্সে আজই ছাড়পত্র দেওয়া না হলেও রাহুলের দাবি মেনে প্রতিবন্ধীদের আর্থিক সুরাহার জন্য একাধিক সিদ্ধান্ত আজ নেওয়া হয়েছে মন্ত্রিসভার বৈঠকে। কারণ, সম্প্রতি সংসদ চত্বরে ধর্ণায় বসা প্রতিবন্ধীদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের আর্থিক সুরাহার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন রাহুল। তা ছাড়া তাঁর প্রস্তাব মেনেই তথ্যপ্রযুক্তি ও চিকিৎসাক্ষেত্রে গবেষণার সুযোগ বাড়াতে নতুন প্রকল্পে আজ অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সরকারের শীর্ষ সূত্রে বলা হচ্ছে, কর্মচারী ভবিষ্যনিধি প্রকল্পের আওতায় ন্যূনতম পেনশন এক হাজার টাকা করার সিদ্ধান্তের নেপথ্যেও রাহুলের ভূমিকা রয়েছে। সম্প্রতি শ্রমিক সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনায় এ ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।



আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এ দিন নিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাব মেনে প্রার্থীদের ভোট খরচের ঊর্ধ্বসীমা বাড়ানোর ব্যাপারে সায় দিয়েছে মন্ত্রিসভা। যার ফলে এখন থেকে লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ৭০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে পারবেন। বিধানসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই সীমা বেড়ে হল ২৮ লক্ষ টাকা। আদিবাসী এলাকায় কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্পে একশো দিনের পরিবর্তে এ বার থেকে দেড়শো

দিন কাজ দেওয়া হবে বলেও এ দিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। সরকারের এই দু’টি সিদ্ধান্তেরই কড়া সমালোচনা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফেসবুকে তাঁর অভিযোগ, ভোট খরচ বাড়ানোয় দুর্নীতি ও কালো টাকার ব্যবহার প্রশ্রয় পাবে। আর কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্পে একশো দিনের পরিবর্তে দেড়শো দিন কাজ দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি লিখেছেন, “এটা তামাশা ছাড়া কিছুই নয়!” তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র একশো দিনের কাজে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে কেবল মাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

মন্ত্রিসভার এ দিনের বৈঠকে অন্ধ্রপ্রদেশে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে রাজ্য ভাগের পর অন্ধ্রপ্রদেশের মানুষকে খুশি করতে বিজয়ওয়াড়ায় একটি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডিজাইন গড়ে তোলার ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মজার বিষয় হল, মন্ত্রিসভার বৈঠকে আজ বাণিজ্য মন্ত্রকের তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, ওই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হোক হায়দরাবাদে। কিন্তু তা শুনেই বৈঠকে রে রে করে ওঠেন চিরঞ্জীবী, কে এস রাও, পল্লম রাজু-সহ সীমান্ধ্র এলাকার কংগ্রেসের মন্ত্রীরা। শেষ পর্যন্ত তাঁদের দাবি মেনেই হায়দরাবাদের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানটি বিজয়ওয়াড়ায় গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়। সব মিলিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আজ গুচ্ছ সিদ্ধান্ত হল ঠিকই। কিন্তু এটাই মনমোহনের শেষ মন্ত্রিসভার বৈঠক কি না, তা অস্পষ্টই রইল। কারণ, সরকার অর্ডিন্যান্স জারির সিদ্ধান্ত নিলে দু’-এক দিনের মধ্যে ফের বসতে পারে মন্ত্রিসভা।

মমতার তোপ

নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাব মেনে শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রার্থীপিছু প্রচার-খরচের ঊর্ধ্বসীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লোকসভা ভোটে এই সীমা ৪০ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ লক্ষ টাকা করা হচ্ছে। বিধানসভা ভোটের ক্ষেত্রে টাকার অঙ্ক বেড়ে হচ্ছে ২৮ লক্ষ। এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, এর ফলে দুর্নীতি ও কালো টাকার ব্যবহার প্রশ্রয় পাবে। ছোট দলগুলি অসুবিধায় পড়বে। মমতার প্রশ্ন, “আমাদের মতো গরিব রাজনৈতিক দলগুলি কী করবে?” মমতা ফেসবুকে লিখেছেন, “এ রকম নীতিগত বিষয়ে বিদায়ী সরকারের মনোভাবে আমি শুধু বিস্মিত নই, স্তম্ভিতও।”

মমতার বক্তব্য, দীর্ঘ দিন ধরে ভোটের খরচকে রাষ্ট্রীয় তহবিলে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। বিশ্বের প্রায় দশটি দেশে এই ব্যবস্থা চালু রয়েছে বলেও তাঁর দাবি। কিন্তু কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত “বড় দলগুলিকে সাহায্য করবে, যাদের প্রচুর টাকা আছে এবং যারা নির্বাচনে কোটি কোটি টাকা খরচ করে।” দ্ব্যর্থহীন ভাষায় মমতা লিখেছেন, “এই সিদ্ধান্ত জঘন্য, জঘন্য ও জঘন্য...আমি নিন্দা করছি, নিন্দা করছি এবং নিন্দা করছি...।”

আরও পড়ুন

Advertisement