Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ই-পেপার

মুম্বই মনতাজ

শ্রাবণ-আতঙ্ক

মিলন মুখোপাধ্যায়
০৩ অগস্ট ২০১৪ ০০:৩০

“শ্রাবণের গগনের গায়/বিদ্যুৎ চমকিয়া যায়/ক্ষণে ক্ষণে” ইত্যাদি গান শোনার রোমান্টিক সময় হল শ্রাবণ। আষাঢ়ের গোড়ায় মনতাজ-এ শুনিয়েছি প্রেম-পিরিতির একান্ত ঢলোঢলো রসের তরজা। নেমে এসেছে ঢালো-ঢালো শ্রাবণ। বড় পুজোর আগে মহালয়ার মতনই প্রায় ঢাকঢোল বাজিয়ে স্রেফ রিহার্সালের আগাম নমুনাতেই ত্রাহি ত্রাহি রব চতুর্দিকে।

‘শাওন গগনে ঘোর ঘনঘটা’র ছিরিতেই কালিদাসের আষাঢ়ী প্রেমের ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’ দশা। ‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল’ ইত্যাদি জুত-মতন গুছিয়ে ‘দান’ করবার আগেই উথালপাথাল জলের স্রোতে হাবু খায়, ডুবু খায়। আহা বেচারি কদম ফুল। সে যাকগে! কবি-সাহিত্যিক-শিল্পীরা সব ‘আহা-বাহা’ করতে করতে হাঁ করে আকাশের দিকে চেয়ে থাকেন। হৃদয়-টিদয় নাচে নাকি মযূরের মতন আকাশে মেঘের খেলা দেখে, রঙের বাহার দেখে। বিদ্যুতের চমকিত খেলা, বজ্রের ডাকে আকাশেই দিওয়ালি-কালীপুজো লেগে যায়। গান পায় গায়েনদের, আনন্দের আতিশয্যে!

“ভরুক গগন, ভরুক কানন, ভরুক নিখিল ধরা”।

Advertisement

হলও তাই। এমন ভরভরাট ভরে গেল ধরণী...ভাসমান খাট-পালংক-আলমারি বাঁচাতে এবং হাঁড়ি-কড়া-থালাবাসন সমেত গোটা রান্নাঘর যাতে ভেসে না যায় তারই চেষ্টা করতে করতে হা-ক্লান্ত পুরবাসীর তখন একটাই গানের কলি মনে পড়তে পারে, সামান্য বদলে “গগনে গরজে মেঘ ঘন বরষা/গলাজলে ডুবে আছি, নাহি ভরসা”। ভাবুন, সেই জলে ভাসতে ভাসতে নাভিশ্বাস নিচ্ছে যোগেশ্বরী খাটাল-গোয়ালের দড়িছেঁড়া গরু-মোষ। সেই জলেই হাজার হাজার ভাসমান, মরণভয়ে ভীত কুকুর-বেড়াল-মানুষ, তথা তাবৎ শহর-পোষা পশুপক্ষীর মলমূত্র-গোবরচোনা ও লক্ষকোটি রোগজীবাণু হা-হা করে আশ্রয় বা শিকারের গায়েগতরে ঢুকে পড়ছে। ময়ূরদের খেদিয়ে এরাই মহানন্দে ধেইধেই নেত্যং শুরু করে দিয়েছে অঙ্গে অঙ্গে। গত সপ্তাহে তিন-চার দিনের বর্ষায় ৩৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। জ্বর, গ্যাস্ট্রো, লেপ্টোসিরোসিস, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি রোগ সমেত শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে রোগী ভর্তি হয়েছেন ৬৪৫ জন। দালানবাড়ি গলে, ধসে পড়েছে অঝোরঝরনের ঠ্যালায় প্রায় হাজার ছয়েক।

ফাঁকা মাঠময়দান, ডোবা-পুকুর বা খেতখামারে জল নেমে যায় বলে অনুন্নত গ্রামে তেমন কোমরজল, ডুবজল জমে কালেভদ্রে। আর কলকাতা-মুম্বইয়ের মতন তথাকথিত উন্নত শহরে অপরিকল্পিত ‘উন্নতি’র বাড়বৃদ্ধির ফলে জল-নিকাশের নালা-নর্দমা দমবন্ধ হতে হতে রুদ্ধ হয়ে যায়। শহর উথলে শহরতলিও যায় ডুবে। কলকাতায় শুধু কলেজ স্ট্রিট-আমহার্স্ট স্ট্রিট-ঠনঠনিয়া ডোবে না, একটু ভারী বৃষ্টি হলেই অভিজাত আলিপুর-বালিগঞ্জও ডোবে।

পুরবাসী দোষারোপ করছেন কর্তৃপক্ষকে, পুরসভা ও সরকারকে। সরকার বা পুরকর্তারা বলেন, “প্রকৃতি হুড়মুড়িয়ে একসঙ্গে এত জল ঢাললে সামলানো অসম্ভব।” “আহা! বোঝার ওপর শাকের আঁটির মতো জোয়ারও তো এসে পড়ল কিনা!”

মুম্বইয়ের শতকরা ৯৩ জন বাসিন্দা ঘোষণা করেছেন, “বিভিন্ন খাতে আমরা যা কর দিই, তার পরিবর্তে প্রাপ্তি জোটে লবডংকা।”

তা অস্বীকার করা যায় না। মুখুজ্জের মনতাজ-এর এ শহর ভারতবর্ষের অর্থনৈতিক রাজধানী তো ছিলই, এ বার গত তিন বছরের হিসেবে মুম্বইয়ের মাথায় এখন নতুন মুকুট জুটেছে পৃথিবীর বর্ষা-রাজধানী। বার্ষিক গড় হিসাবে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি দেখা গেছে মুম্বইতে। ২,১২০ মিলিমিটার। তালিকায় দু’নম্বরি, তিন নম্বরি মুকুট যথাক্রমে টোকিও এবং ব্যাংককের শিরে। আহা-হা, নিদারুণ সম্মানে ভূষিত শহর। আনন্দে জনসাধারণের নৃত্য অসম্ভব, অবান্তর। কারণ, গোটা ভারতবর্ষের সমস্ত শহর, টাউন তথা গ্রামগঞ্জ মিলিয়ে যত কর বা রাজস্ব জমা পড়ে কর্তৃপক্ষের সিন্দুকে, তার তিন ভাগের এক ভাগই দেয় মুম্বই শহরবাসীরা। যাদের এই ঘোর বর্ষাকালে কাকভেজা শরীর নিয়ে, উঁচু তক্তপোশ, ফ্রিজ, আলমারির মাথায় উঠে, গালে হাত দিয়ে বসে, বেডরুম-হলঘরের জলস্রোতের দিকে চেয়ে গাইতে হয়“অঝোর ঝরন শ্রাবণ জলে/তিমির মেদুর বনাঞ্চলে ফুটুক শোলার কদম্বফুল নিবিড় হর্ষণে”।

বাধ্যতামূলক ভাবে উচ্চাসনে বসে সপরিবার যখন সবাই প্রথমে দোষারোপ করছেন মুম্বই পুরসভা ও তাবৎ কলকাঠির বোতাম-হাতে অকর্মণ্য কর্মকর্তাদের এবং পরে আপন পোড়াকপাল ও এই দুর্যোগের মূল হোতা প্রকৃতিকে। তাঁদের কথা ভাবতে ভাবতে নানাবিধ প্রাকৃতিক ত্যাগের প্রসঙ্গ মনে পড়ল। গত সপ্তাহের একটি ঘটনা মনতাজ-এর পড়ুয়াদের উপহার দেবার লোভ সামলানো যাচ্ছে না।

টিভি তথা খবরের কাগজের মাধ্যমে মোটামুটি সকল দেশেই গেল হপ্তার ‘ভাসমান মুম্বই’-এর সংবাদ প্রচারিত হয়েছে। দিনটি ছিল জল থইথই। শহরের পূর্বাঞ্চল থেকে পশ্চিমাঞ্চলের দিকে অটোরিকশায় আসছিলুম। অতি সন্তর্পণে, ইঞ্জিনকে জলে ডোবার হাত থেকে বাঁচিয়ে, চালকভায়া এগোচ্ছিল। ঘণ্টাখানেক ধরে প্রায় কুঁথে-ককিয়ে তিন-চার কিলোমিটার চলার পর দুর্যোগের লক্ষণ মালুম হল। ডবল দুর্যোগ। দুটিই প্রাকৃতিক। অটোর বাইরে আকাশ ভার। ভেতরে যাত্রীর তলপেট। চালকভায়া মরাঠি-তনয়। দত্তারাম।

আপন অবস্থা জানান দিতেই দত্তা সঙ্গে সঙ্গে তীব্রবেগে মাথা ঝাঁকিয়ে বললে, “আম্মুও সেই কখন থেকে চেপে আছি, সাব। হালকা হবার জন্য একটা জায়গা পাচ্ছি না।”

হাঁটু ছুঁইছুঁই জল চতুর্দিকে। তদুপরি ট্র্যাফিক জ্যামে যানবাহন তথা ‘জলচর’ পথিকদের অথৈ ভিড়। নামার ঠাঁই কই? নামলেও ‘দাঁড়াবার’ কথা ভাবাই যাচ্ছে না।

এহেন অবস্থায় আরও খানিকক্ষণ, আরও খানিকটা পথ এগোবার পর রাস্তার জল কমল। ডান ধারে অল্প দূরে একটি একতলা ঘর। চকচকে সাদা টালির দেওয়াল। মনে হল, বর্ষার জলে ধুয়েই অ্যাতো ঝকঝকে তকতকে দেখাচ্ছে। ওদিকেই স্থির লক্ষ রেখে ছটফটিয়ে এগোচ্ছে অটোরিকশা। এ-গাড়ি সে-ট্যাক্সির পাশ কাটিয়ে মাঝপথের খানা-গর্ত অগ্রাহ্য করে যে প্রক্রিয়ায় এবং বেগে বাহনটি এগোচ্ছে, তাতে বোঝা গেল, চালকের বেগ যাত্রীর থেকে কোনও অংশে কম নয়।

টালির উক্ত পোক্ত কাঠামোটির কাছে পৌঁছবার আগেই ললাটে ঘূর্ণায়মান লালবাতি এবং তৎসঙ্গে যথোচিত প্যাঁ-পোঁ-প্যাঁ-পোঁ সংকেতসমেত মোটরগাড়িটি প্রায় উড়ে এল ঊর্ধ্বশ্বাসে। থামল একতলা ঘরের সামনে সশব্দে ব্রেক কষে। দু’জন ভিআইপি নামলেন তিরবেগে। দত্তা এবং মুখুজ্জেও কাছাকাছি পৌঁছে গেল। ততক্ষণে একজন ভিআইপি পড়ি-কি-মরি করে অপেক্ষমাণ ব্যক্তির হাতের থালা থেকে কাঁচিটি প্রায় ছিনিয়ে নিলেন। নিয়ে, মুহূর্ত বিলম্ব নয় (ভিআইপিদের অবশ্যই তাড়া থাকে, সদাব্যস্ত বলেই না ভেরি ইম্পর্ট্যান্ট!) খচাত করে ‘আনুষ্ঠানিক ফিতে’টি কেটে ফেললেন। ভাগ্যিস কাঁচিটা যথেষ্ট ধারালো ছিল! নইলে যে কী হত, কে জানে? অতিব্যস্ততায়, মনে হচ্ছিল, দাঁত দিয়ে কেটে (নকল কপাটি হলে অবশ্যই অবর্ণনীয় দৃশ্যের সম্ভাবনা!) অথবা গায়ের জোরেই টেনে ছিঁড়ে ফেলতেন, হয়তো বা! কর্তব্য সমাধা করা নিয়ে কথা!!

অমন মহাতৎপরতার মূল কারণ টের পাওয়া গেল পরমুহূর্তেই। ফিতে কেটে, পটাপট দু’জনেই লাগোয়া দু’টি খোপে ঢুকে পড়লেন। মিনিট কয়েক বাদে বেরিয়ে এলেন মহাতৃপ্তি, প্রশান্তি, একগাল হাসি নিয়ে। পুরপিতা, পুরপতি নাকি পুরপাল (সম্বোধনে বৈয়াকরণিকগণ শোরগোল তুললে ‘পুরোপুরি যিনি পুরের হিত করায় তৎপর’-গোছের কোনও আর্ষ প্রয়োগ করলেই বা ক্ষতি কি!) সোজা ‘বাংলায়’ মেয়রের অধস্তন পুরকর্তা বা মন্ত্রিমণ্ডলীর অন্তর্গত স্থানীয় কেউকেটা দু’জনে শৌচাগারের উদ্বোধন করবার আমন্ত্রণ রাখতেই আসছিলেন।

জানা গেল ক্রমশ জল-যানজট ইত্যাদি কারণে মুখুজ্জে-দত্তারাম গোছের সাধারণ দু’পেয়ে জীবের ন্যায় গাড়ির মধ্যেই আটক ছিলেন দু’জনে, প্রায় ঘণ্টা দেড়-দুই। কপালে লাল আলোর টিপ পরা গাড়ি তো আর ‘উড়ালবাহন’ বা হেলিকপটার নয় যে তাবৎ জ্যামের মাথার ওপর দিয়ে আসবে। বাহন বেগবান হতে পারেনি বলেই আপন-আপন প্রাকৃতিক বেগ বাধ্য হয়েছিলেন চেপেচুপে রাখতে। যে মুহূর্তে ‘অকুস্থলে পা’ রেখেছেন, সামলে রাখা দায় হয়েছে ব্লাডার প্রেশার! সেই কারণেই ‘মূলত শৌচালয়’ দর্শনমাত্রই একটি পলও বৃথা ব্যয় করতে চাননি!

তা, যে যাই বলুন না কেন, মুখুজ্জের মতে, স্রেফ আনুষ্ঠানিক ফিতে কেটেই নয়, ‘সুলভ শৌচালয়ে’র রীতিমতন খাঁটি উদ্ঘাটন করেছেন জনসাধাণের হিতার্থে দুই নেতা বা লিডার অর্থাৎ যে ব্যক্তি অগ্রসর হইয়া আম-জনতাকে পথ দেখায়!

ঘটা করে উদ্ঘাটনের আরও ঘনঘটা তখনও কিঞ্চিৎ বাকি। ত্যাগের আনন্দে গালভরা হাসি নিয়ে তো বেরিয়ে এলেন দু’জনে, প্রতীক্ষারত জনগণ তথা পুরবাসীদের কিঞ্চিৎ ‘ভাষণ’ দিতে হবে না? অত্যন্ত সুস্বাস্থ্যবান নেতা কথা বলতে যাবেনপাশ থেকে একজন স্থানীয় চামচ বিনীত ভাবে আঙুল তুলে ওনাদের দু’জনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দিল। সমবেত জনতা মাইকের সৌজন্যেই শুনতে পেল, “স্যার,আপনারা ভুল করেই ‘লেডিজে’ ঢুকে পড়েছিলেন!”

প্রসঙ্গত, মুম্বইতে জনসাধারণের কল্যাণে, তাদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষার্থে প্রথম ‘সুলভ শৌচালয়’ নির্মাণ করেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাম নায়েক, বছর পনেরো আগে, তাঁর আপন মহল্লা বোরিভলিতে দুই মহলা শৌচাগার। বেশ বড়সড় সমস্যার সমাধান হল, ধরে নিয়ে বিষয়টি যথেষ্ট আলোচিত হয়েছিল তখন সারা শহর জুড়ে। হায়! লোকবসতি গত পনেরো বছরে যে হারে বেড়েছে, তাতে কি আর কুলোয়?

কবির কাছে মাপ চেয়ে তাঁরই ভাষায় ঘুরিয়ে বলা যায়“দেওয়ালে দেওয়াল, কার্নিশে কার্নিশ” ভেসে যায় কলকাতা-মুম্বইয়ের মতো শহর। কলকাতায় এসপ্লানেড ট্রাম গুমটির তলায় ছিল এমনই ‘ত্যাগের আগার’। পাতাল রেল হওয়ার পর এখনও আছে কি না ঘ্রাণশক্তি পরখ করে দেখিনি অবিশ্যি। শহরের হরেক স্টেশনেই প্রায় ‘পাকা’ ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও দেওয়াল ভেসে যেতে দেখেছি। মুখুজ্জেও যে সর্বত্র নিম্নচাপের নিয়মকানুন মানতে পেরেছে সে কথা হলপ করে বলতে পারবে না।

কলকাতায় বঙ্গবাসীর সান্ধ্য কলেজ মনে পড়ে, পাশের লেনে, যেখানে বিশেষ করে সাইনবোর্ড লাগানো থাকত ‘এখানে প্রস্রাব করিও না’, হালকা হবার সেরা ঠাঁই হিসেবে আমরা, ছাত্ররা, সে দিকেই আকর্ষিত হতুম প্রায় মাধ্যাকর্ষণের টানে। অনেকটা সেই নিষিদ্ধ ফলের আদিম অভ্যেস মতন। এ ছাড়া, যুক্তিও ছিল বইকি! কলকাতা-নৈহাটি-কাঁচড়াপাড়া-হাবড়া-বারাসতের সকল অলিগলিতেই, মনে পড়ে, তাবৎ সাইনবোর্ডের “না” হরফটি ঘষে বা চুণ দিয়ে মুছে ফেলার মরণ-পণ চেষ্টা ছিল নগরবাসীর। ‘রাখাল’হেন দুষ্টু বালক তো ভারতবর্ষের কোনও শহরেই তো কম নেই। ফলে, শিষ্ট-মিষ্ট বহু ‘প্রেশারাক্রান্ত’ বা বহুমূত্র-রুগিদের ‘সুলভ শৌচালয়’ যত্রতত্র মুক্তাঙ্গনে মুক্তির উপায় হিসেবে বিরাজমান।

শৌচাগারের গায়ে লেখা (‘মাছ ভাত পাওয়া যায়’ অথবা সিনেমা হলের গায়ে ‘চলিতেছেরাইস প্লেট চালু হ্যায়’ গোছের)‘লু ইজ রানিং’প্রস্রাবখানা দৌড়াইতেছে!!....

সুতরাং, হে মুম্বই পুরবাসীগণ! এ শহরে প্রাকৃতিক জলত্যাগের এ হল গিয়ে নান্দীমুখ। সামনের কয়েক দিন বাদেই আরও বহু ভাসমান খেলার ঠ্যালার ভোগার জন্যে প্রস্তুত হোন। কারণ, কিছু দিন পরে আবহাওয়া দফতরের ঘোষণা শুরু হতে থাকবে: “আগামী তিন দিন মুষলধারে বৃষ্টি-ঝড়-জোয়ার-বন্যা হবার সম্ভাবনা মুম্বই শহরে। নৌকো-ভেলা-খেয়া-লঞ্চ-বজরা এবং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মাঝি-সারেংদের ঘরে ঘরে তৈরি রাখুনতার পরেও লাগাতার বৃষ্টি” ইত্যাদি। কারণ মুম্বইতে আষাঢ়-শ্রাবণ-আশ্বিন-কার্তিক সব গোলে হরিবোল.....।

পুজোয় ভ্রমণ

মহাবালেশ্বর-মাথেরান-পঞ্চগনি- লোনাভালা সত্যি সুন্দর। মুম্বই তথা মহারাষ্ট্রবাসীর এটা জানা। কিন্তু ক’জন জানেন, পশ্চিমবঙ্গে হিমালয়ের কোলে ডুয়ার্স-তরাই অপরূপা? ডুয়ার্স-এর গরুমারা অরণ্য! মেটেলি-সামসিং-জুরন্তি-চাপড়ামারি-ধূপঝোড়া-রকি আইল্যান্ড কী সুন্দর না-গেলে বোঝা যাবে না। গরুমারা জাতীয় অরণ্যের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মূর্তি নদী। বর্ষায় মূর্তি দুরন্ত। তিস্তা পেরিয়ে যেতে হয়। ঐশ্চর্যা রাইয়ের চোখের মতো রং তিস্তার জলের! তিস্তা বিরল রূপসী। পাহাড়ি নদী মূর্তির পাশেই এলিফ্যান্টা রিসর্ট। সেখানে ১৪-১৭ অগস্ট ইলিশ উৎসব। গভীর অরণ্যে আশ্চর্য বিশ্রাম-আবাস, দুরন্ত মূর্তি এবং রাতে গরুমারা অরণ্যে সাফারি, তমালের সঙ্গে। জঙ্গলটা তমাল হাতের তালুর মতো চেনে। যে কোনও বিষাক্ত সাপ তাঁর বশ মানে মুহূর্তে। তমালের মেয়ে কুর্চি। ছোট্ট মেয়ে, তবে জঙ্গলটা চেনে, অকুতোভয়। তাই বলি, পুজোয় চলুন ডুয়ার্স। আমরা এখন থেকে ভ্রমণের ঠিকানা জানাব।

যোগাযোগ: তমাল৯৭৩৫০৭৫৮৩১।

আরও পড়ুন

More from My Kolkata
Advertisement