Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৯ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

বৃষ্টিতে একা কেঁদেছিলেন চার্লি

০৬ জুলাই ২০১৪ ০০:০০
আবার এসেছে আষাঢ় আকাশ ছেয়ে। আষাঢ়-সন্ধ্যার ছবি তুলেছেন দেবাশিস ভাদুড়ি।

আবার এসেছে আষাঢ় আকাশ ছেয়ে। আষাঢ়-সন্ধ্যার ছবি তুলেছেন দেবাশিস ভাদুড়ি।

আকাশে ভিড় জমাচ্ছে ঘন কালো মেঘের দল। বৃষ্টিরা আসছে হাওয়ার আঁচল উড়িয়ে। একের পর এক স্বপ্ন বোনা হয়ে যাচ্ছে জলছবির আড়ালে। কোথা হতে আসে এই কালো মেঘের দল? কেন এরা মনের জানালা খুলে এই ঘোর সংসারী মনটাকে উথাল পাতাল করে তোলে? একটু একা হওয়ার জন্য ছটফট করে মনটা। বলে, ওগো মেঘ, আমি তোমার সঙ্গে একলা হতে চাই। আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে চলো দূরে, দূরে—আরও দূরে.....

ঘরসংসারের রান্নাবাটি পুতুলখেলার সব দায়িত্ব সমাপনের পর যেটুকু সময়, সে শুধু তোমার আর আমার নিভৃত ক্ষণ, ওগো মেঘ। এ আমি কারও সঙ্গেই ভাগ করে নিতে পারব না। তাই আজ দেখো, আমি এই বৃষ্টিধোয়া মেঘমাখানো সকালে বসেছি বর্ষার গান নিয়ে।

মেঘের ভেলায় চড়ে বর্ষার গানের সুর ছড়িয়ে দিতে দিতে কোথায় ভেসে চলে যাব তা কে জানে। সুরেরা মেঘেদের মতোই মন আজ বাঁধন হারা। রামধনুর সাত রং নিয়ে সাত সুর খেলা করছে জলতরঙ্গের তালে তালে। আমি আর আমাতে নেই। ‘এই মেঘলা দিনে একলা ঘরে থাকে না কো মন/কাছে যাবো কবে পাবো ওগো তোমার নিমন্ত্রণ’। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে এই গানের সুর কতকালের চেনা। কিশোরী বেলায় কোন্ মেঘলা দুপুরে কার প্রত্যাশায় যেন বসে থাকতাম। জানলার গরাদে মুখ ঠেকিয়ে দেখতাম আকাশ আকুল করে বৃষ্টি নামছে। ‘শুধু ঝরে ঝরঝর আজ বারি সারাদিন/আজ যেন মেঘে মেঘে হল মন যে উদাসীন’। হেমন্তর গলায় সাত সুরের খেলায় ঝরে পড়ত প্রেমিকের গভীর আর্তি। প্রেমিকের সেই না পাওয়ার বেদনার সঙ্গে আমরাও মিলিয়ে দিতাম নিজেদের।

Advertisement

বর্ষার মেঘের সঙ্গে বিরহের এক অন্তরঙ্গ সাযুজ্য রয়েছে। হেমন্তর রোম্যান্টিক গলায় ঝরে পড়ে বিষাদের সুর— ‘মনের জানলা ধরে উঁকি দিয়ে গেছে, যার চোখ তাকে আজ মনে পড়ে না/চেয়ে চেয়ে কত রাত দিন কেটে গেছে, আর কোনও চোখ তবু মনে ধরে না’। সেই কিশোরীবেলায় আকাশ জুড়ে স্বপ্নমায়া ছড়িয়ে দিত ভাসা ভাসা উদাসী দুই চোখ। আজ এতকাল পেরিয়েও সেই আঁখি রয়ে গেল অধরাই। ‘মালা গেঁথে কবে থেকে নিয়ে বসে আছি, আবার কখনও যদি করে সে ভুল/ভুলেও কভু তো সে ভুল করে না...’। সারা জীবন ধরেই কী চলবে এই মালা গাঁথা! প্রতিটি বর্ষারাতে অপেক্ষায় থাকা ‘গহন মেঘের ছায়া ঘনায় সে আসে ওই আসে/বসেছিলাম যার আশে, ওই আসে, ওই সে আসে...’। কিংবদন্তী শিল্পী মান্না দে’র কণ্ঠের গভীর কারুকাজে মূর্ত হয়ে ওঠে সে।



জীবন অনিত্য, পদ্মপাতায় জল।

নেচে ওঠে আমার হৃদয়। তবে কি সে এল? সে কি এল? আকাশের কোণে কোণে ছেয়ে আসা বর্ষামেঘের ভেলায় চড়ে কোন অচিনপুর থেকে এল কি সে? ‘বাদলের মাদল বাজে গুরু গুরু গুরু গুরু/বর্ষার স্বপ্নে ভিজে উঠল দু’নয়ন...’। সুমন কল্যাণপুরের মিষ্টি গলার সুর ঝরে পড়ে আমার অঙ্গ বেয়ে। সে সুর কি শুধুই সুর, না কি সুরের ঝরনাধারা।

‘মেঘমল্লারে সারা দিনমান/বাজে ঝরনার গান/মন হারাবার আজি বেলা,/পথ ভুলিবার খেলা—মন চায়/মন চায় হৃদয় জড়াতে কার চিরঋণে...আজি ঝরঝর মুখর বাদল দিনে’। রবিকবির গানে খুঁজে ফিরি আমার প্রিয়তমকে। আমার কবিকে বাদ দিয়ে কী বৃষ্টির সুর সৃষ্টি হয়? তিনি যে জড়িয়ে রয়েছেন বর্ষাপ্রকৃতির অঙ্গে অঙ্গে। ‘যে মধু হৃদয়ে ছিল মাখা কাঁটাতে কি ভয়ে দিলি ঢাকা।/বুঝি এলি যার অভিসারে মনে মনে দেখা হল তারে,/আড়ালে আড়ালে দেয়া-নেওয়া...ছায়া ঘনাইছে বনে বনে গগনে গগনে ডাকে দেয়া’।

মনে প্রশ্ন জাগে কে আমি? কৃষ্ণবিরহাতুরা রাধিকা? যার কাছে কৃষ্ণ তনু মন প্রাণ, কৃষ্ণ জীবন সঞ্জীবন। আকাশে ঘনকালো মেঘ কেন তাকে শ্যামকেই স্মরণ করায়। কৃষ্ণ যে চিরপ্রেমিক আর এ হেন প্রেমিকের বিরহে রাধিকারা যে জন্ম জন্মান্তর ধরেই বিরহকাতর। বর্ষাপ্রকৃতির মাঝেও রাধাকৃষ্ণের চিরন্তন প্রণয়গাথা ফুটে ওঠে নজরুলের গানে। ‘গগনে কৃষ্ণমেঘ দোলে, কিশোর কৃষ্ণ দোলে বৃন্দাবনে।/থির সৌদামিনী রাধিকা দোলে নবীন ঘনশ্যাম সনে/দোলে রাধেশ্যাম ঝুলন দোলায়, দোলে আজি শাওনে’



এমন ছিল না আষাঢ শেষের বেলা।

কী আছে বৃষ্টির বুকের মাঝে? ঝিরিঝিরি শব্দে যার অনিঃশেষ উন্মোচন। বৃষ্টি কি বন্ধু? বৃষ্টি কি চোখের জল? কেন বৃষ্টির গভীরে আমরা লুকোই কান্না, যন্ত্রণা। মনের কোণে জমাটবাঁধা মেঘই কি জটলা করে আকাশ জুড়ে? ঝরে পড়ে ফোঁটায় ফোঁটায় সব বেদনা নিংড়ে নিয়ে। “আই ওয়াক ইন রেন, বিকজ নো ওয়ান ক্যান সি মি ক্রাইং।” কী অসাধারণ উক্তি না! অমর স্রষ্টা ছাড়া কে এমন করে বলতে পারে? চার্লি চ্যাপলিন বৃষ্টি-জলে হাঁটতে হাঁটতে চোখের জল ফেলতেন! কী ভাবে তিনি বুঝেছিলেন সব প্রেমিকের অনেক যন্ত্রণা!

‘বৃষ্টি মানে কথা বৃষ্টি কোনও ব্যথা বৃষ্টি যন্ত্রণা বৃষ্টি সুখে/আমি বৃষ্টি চাই আমি বৃষ্টি চাই বার বার সুখে যন্ত্রণায় এই ঠিকানায় বাঁচবার’। বৃষ্টিঘন আকাশের নীচে পাখির ডানার মতো ছড়িয়ে দিই আমার দু’হাত। শুভমিতার গান বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে আমার চোখের পাতায়, চুলে, সারা শরীর জুড়ে...‘আমি বৃষ্টি চাই আমি বৃষ্টি চাই বার বার সুখে যন্ত্রণায় এই ঠিকানায় বাঁচবার...’

যাকে জীবনভর খুঁজে বেড়ালাম অথচ যে অধরাই রয়ে গেল, তার জন্য এই বৃষ্টিকে সাক্ষী রেখে করে ফেলি অলীক অঙ্গীকার। শ্রীকান্ত আচার্যর স্বপ্নজড়ানো কণ্ঠে বাজে..‘আমার সারাটা দিন মেঘলা আকাশ বৃষ্টি তোমাকে দিলাম, শুধু শ্রাবণসন্ধ্যাটুকু তোমার কাছে চেয়ে নিলাম ...’। মনে মনে ভাবি এ গানের লিপিকার কি আমাদের মনের কথা পড়তে পারেন? তা না হলে কী করে ভাষায় রূপ দিলেন আমাদের মনের ভাবনাগুলোকে! ‘তোমার হাতেই হল রাত্রি রচনা, এ আমার স্বপ্ন সুখের ভাবনা/চেয়েছি পেতে যাকে চাই না হারাতে তাকে, বৃষ্টি তোমাকে তাই ফিরে চাইলাম...আমার সারাটা দিন মেঘলা আকাশ বৃষ্টি তোমাকে দিলাম।’

এই মেঘলা আকাশ বৃষ্টি মনে করিয়ে দেয় আদিগন্ত ধানখেতের ওপর মেঘের ছায়া। ধূসর হয়ে আসা দিকচক্রবাল বৃষ্টিজলে ভেজা। ভিজছে তালগাছের সারি, কুঁড়েঘর। অবিশ্রান্ত জলের ধারাস্নানে সে যেন এক জলজ ছায়াছবি। চিত্রকর বসেছে রং ছোপাতে বর্ষামোহিনীর ধানি-রং ঘাগরা আর মেঘ-রং ওড়নায়। যত বার তুলি বোলায়, তত বার সে মোহিনী খিলখিল হেসে জল ঢালে। জল শুধু জল— মোহিনী দু’নয়নে বিদ্যুৎ হেনে বলে, আমাকে বৃথা রাঙিও না, সব রং ধুয়ে যাবে। বরং রাখো আমায় তোমার রঙের পাত্রে। দেখো সেখানে আমি কেমন সবুজে সবুজ, নীলিমায় নীল। চিত্রকর ভাবে, এ কে? কোন মোহিনী মায়া? বর্ষা মোহিনী ডাকে তাকে— বলে, এসো আমায় গ্রহণ করো...।

আবার বেজে ওঠে সুর— সমর্পণের সুর। ‘দিগন্তলীন মাঠের ওপর থাকছি আমি শুয়ে/এই কপালের সমস্ত তাপ বর্ষা দেবে ধুয়ে...আজ শ্রাবণের বাতাস বুকে এ কোন সুরে যায়/আজ বরষা নামল সারা আকাশ আমায় পায়’। রূপঙ্করের গভীর কণ্ঠ আর অনুভবে ধরা পড়ে বর্ষার রূপ। চোখের ওপর ভেসে ওঠে দিগন্তজোড়া মাঠ আর তার বুকে অজস্র বৃষ্টিকণার চুম্বন।

কিন্তু যাকে আজীবন চেয়েছি, তাকে কি পেলাম? এই দিগন্তলীন মাঠের মাঝে শুয়ে বৃষ্টিধারায় স্নাত হতে হতে ভাবি এ কি স্বপ্ন? এ কি মায়া? কোথায় সে যাকে খুঁজে চলেছি অবিরাম। করুণ এক বিষাদময়তা ভর করে আমায়। মনে হয়, এ জীবন কি বৃথা গেল! বিষাদবেদনার জাল বুনতে বুনতে সে কখন আমাকে গ্রাস করে, তা জানতেও পারি না। ঘরের জানলায় বসে দেখি গভীর রাতের শ্রাবণধারা। দু’চোখের বৃষ্টিভেজা সুর হৃদয়ের তারে তোলে অনুরণন— ‘বিষাদবিধুর মনের স্মৃতির আনাগোনা/অধীর আকাশ আজ ছাড়াল সীমানা...’। নচিকেতার শ্রাবণগানের আকুল করা কথায় দু’চোখের বাঁধ ভেঙে বৃষ্টি আসে—‘শ্রাবণ ঘনায় দু’নয়নে, আকাশের মতো আঁখি মগন বরিষণে...’।

কেটে যায় দিন, কেটে যায় রাত। কত আষাঢ় শ্রাবণ চলে যায়। শেষ হয় না সেই অন্তহীন খুঁজে ফেরা। কার সন্ধানে আমার রাত দিন হয়েছে, দিন হয়েছে রাত। আমি কি খুঁজে চলেছি আমাকেই? এ কি আত্মঅনুসন্ধান! আমার আত্মার মধ্যে যে ঈশ্বর তাঁর সন্ধানেই কি ঘুরে মরেছি এতকাল। এই বর্ষাপ্রকৃতির সবুজের মধ্যে, মেঘের মধ্যে, বারিধারার মধ্যে, বিদ্যুতের মধ্যে, ঝড়ের মধ্যে তাঁকেই খুঁজেছি আমি। তাই একা হতে চেয়েছি বার বার। একা না হলে নিজের আত্মা, নিজের ঈশ্বরের কাছে নিজেকে সমর্পণ করব কী করে? তাঁকে যেমন চেয়েছি সৌন্দর্যের মধ্যে, তেমনই তাঁকে চেয়েছি দুঃখের নিশীথে ভয়াল ভয়ঙ্করের মধ্যেও। এই অনুভবে আবার আসে রবীন্দ্রনাথ।

‘আজি ঝড়ের রাতে তোমার অভিসার/পরাণ সখা বন্ধু হে আমার।/আকাশ কাঁদে হতাশসম, নাই যে ঘুম নয়নে মম—/দুয়ার খুলি হে প্রিয়তম, চাই যে বার বার’। প্রিয় শিল্পী দেবব্রত বিশ্বাসের মেঘমন্দ্রস্বরে এ গান বাজতে থাকে হৃদয়ের গভীরে।

অপেক্ষায় থাকি আমার প্রিয়তমের। হয়তো কোনও ঝড়ের নিশীথে তিনি এসে দাঁড়াবেন আমার দুয়ারে। আমার সকল তিক্ততা, শূন্যতা গ্রহণ করে ভরিয়ে তুলবেন আমাকে। সে ক্ষণ জীবনের পরম ক্ষণ— তার মধ্যেই জীবনের সকল দুঃখ সুখের সমাপ্তি।

মনে পড়ে ঋত্বিক ঘটকের ‘মেঘে ঢাকা তারা’র সেই রবীন্দ্রগান— ‘যে রাতে মোর দুয়ারগুলি ভাঙল ঝড়ে/জানি নাই কো তুমি এলে আমার ঘরে’? দাদা গাইছে আর নীতা গলা মেলাচ্ছে দাদার সঙ্গে। নীতা অনেক মানুষের ভিড়ে মিশে থাকা আপাত দৃষ্টিতে এক অতি সাধারণ কিন্তু অসাধারণ মেয়ে। সে মেয়ে সংসারের জন্য খেটে চলে, বলি দেয় নিজের প্রেমকে তবু তার জীবনের সব চেয়ে কঠিন দিনগুলোয় সবাই তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। তার শরীরে যে বাসা বেঁধেছে ক্ষয়রোগ। কাশির সঙ্গে উঠে আসছে রক্ত। সে জানে মৃত্যুই তার জীবনের সব গতিপথের চরম সমুদ্র তবু এই পৃথিবীর রূপ রস গন্ধ বর্ণের মধ্যে সে বেঁচে থাকতে চায়। নীতা চিৎকার করে বলে: দাদা আমি বাঁচতে চাই।

আমরাও প্রতিনিয়ত জীবনের এই ভাঙাগড়ার খেলার মধ্যেও স্বপ্নের জাল বুনে চলি। জানি, এক দিন চলে যেতে হবে তবু এই মাটির পৃথিবীর বর্ষণমুখর সন্ধ্যা, আকাশের পুঞ্জ পুঞ্জ মেঘ, ঝিরঝিরে বৃষ্টির ধারাপাত বড় ভাল লাগে। মনে হয় এই আমি যেন সব কিছুতেই মিশে আছি। এই বিশ্বপ্রকৃতির বিশাল আয়োজনে আমিও এক অতিথি।

সুধীজন, এ বার এ লেখা শেষ করার পালা। বর্ষাগান নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু লিখব বলে বসিনি। আমি সঙ্গীত বিশেষজ্ঞ নই বা সে রকম ভাবে শাস্ত্র মেনে চলা সমঝদারও নই। তবে ছোটবেলা থেকে ভাল গান বা গানের সুর আকর্ষণ করে খুব। সেই ভাবেই জীবনের পথ চলতে চলতে কুড়িয়ে নিই কিছু সুর, কিছু গান। এমনই কিছু বর্ষাগান দিয়ে আজকের ডালি সাজিয়েছি। বর্ষা নিয়ে অসংখ্য গান রয়েছে। তবে ওই যে বললুম, পরিকল্পনা করে কিছু লিখিনি। যখন যেমন মনের ভাব হল সেই মতো গানের ফলগুলি তুলে সাজিতে রাখলাম। এমন করতে গিয়ে দুটো একটা দলছুট গানও এল চলে। এ সবই হল মনের অনুভূতিকে ব্যক্ত করতে গিয়ে। সুধীজন, এই প্রবাসে মন যখন একলা হতে চায় বিশেষ করে বৃষ্টিদিনে, সঙ্গীতের চেয়ে ভাল সঙ্গী আর কে আছে?

আরও পড়ুন

Advertisement