Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৪ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

বিরোধী নেতার পদ নিয়ে নাছোড় সনিয়াও

নিজস্ব সংবাদদাতা
নয়াদিল্লি ০৮ জুলাই ২০১৪ ০৩:২৫

আর রাখ-ঢাক নয়। কংগ্রেস যাতে লোকসভায় বিরোধী দলনেতার পদ পায়, তার জন্য জোর গলায় সওয়াল শুরু করলেন খোদ সনিয়া গাঁধী। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আজ বলেন, “কংগ্রেসের এই পদ অবশ্যই পাওয়া উচিত। লোকসভায় কংগ্রেস বৃহত্তম বিরোধী দল এবং ইউপিএ হল দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাক-নির্বাচনী জোট। তাই সঙ্গত ভাবেই কংগ্রেস বিরোধী দলনেতার পদ পাওয়ার যোগ্য।” যদিও বিজেপি তথা মোদী সরকার এখনও কংগ্রেসকে ওই পদ না দেওয়ার ব্যাপারে অনমনীয়।

শাসক দল বা স্পিকারের সচিবালয় থেকে সরকারি ভাবে অবশ্য এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে বিজেপি প্রথম থেকেই তাদের যুক্তিতে অনড়। তা হল, কংগ্রেস লোকসভার ১০ শতাংশ আসনও পায়নি। বিরোধী দলনেতার পদ পাওয়ার যোগ্যতা নেই তাদের। সরকারের শীর্ষ নেতারা বলছেন, এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজন।

কংগ্রেস বা ইউপি-এ এ নিয়ে স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও আর্জি এখনও জানায়নি। কংগ্রেস মুখপাত্র আনন্দ শর্মা আজ জানিয়েছেন, স্মারকলিপির খসড়া চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। তাতে কংগ্রেস-সহ ইউপিএ-র সব সাংসদ স্বাক্ষর করবেন। এর পর কাল-পরশু ওই স্মারকলিপি স্পিকারকে দেওয়া হবে।

Advertisement

বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে কংগ্রেস জোর সওয়াল চালালেও জনার্দন দ্বিবেদীর মতো বর্ষীয়াণ অনেক নেতাই মনে করেন, একটা পদের জন্য ভিক্ষাবৃত্তি করার অর্থ হয় না। দলের দশ জনপথ-ঘনিষ্ঠ নেতারা অবশ্য বলছেন, এ ব্যাপারে সনিয়া-রাহুলের কৌশল স্পষ্ট। তা হল, সরকার-বিরোধিতার জমি তৈরি করা। মূল্যবৃদ্ধিই হোক বা লোকসভায় বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে বিতর্ক, সুযোগ পেলেই শাসক দলকে চেপে ধরে গুটিয়ে যাওয়া কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের মনোবল ফেরাতে চান সনিয়া-রাহুল। বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে সনিয়া আজ সুর চড়িয়েছেন সে কারণেই। পাশাপাশি, মূল্যবৃদ্ধির প্রশ্নে সরকার-বিরোধিতায় সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গেছে রাহুল গাঁধীকেও।

কংগ্রেস নেতৃত্বের মতে, বিরোধী পদটি নিয়ে চাপাচাপির অন্য কারণও আছে। লোকসভায় কংগ্রেসের সাংসদ এখন মাত্র ৪৪ জন। সংসদীয় রাজনীতিতে আগামী ৫ বছর প্রাসঙ্গিক থাকতে গেলে বিরোধী দলনেতার পদ পাওয়াটা তাই খুবই জরুরি। কংগ্রেস ওই পদ পেলে ভবিষ্যতে সরকার-বিরোধিতায় তারা সমমনোভাবাপন্ন দলগুলিকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাবে। নয়তো কংগ্রেস ও জয়ললিতার এডিএমকে বা তৃণমূলের মধ্যে বিশেষ কোনও ফারাক থাকবে না।

তাই সনিয়া মুখ খোলার পর, আনন্দ শর্মা আজ বলেন, “সাংসদদের বেতন ও ভাতা সংক্রান্ত সংশোধন আইন (১৯৭৭) অনুযায়ী এ ব্যাপারে নিজে থেকেই স্পিকারের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল। ওই আইনে স্পষ্ট বলা আছে, বিরোধী দলগুলির মধ্যে যাদের সাংসদ সব থেকে বেশি, তাদের নেতাকে প্রধান বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দিতে পারেন স্পিকার।” আনন্দ শর্মা এ-ও বলেন, “অতীতে ১৯৫৪ সালে ১০ শতাংশের যে সূত্র তৎকালীন স্পিকার দিয়েছিলেন, এখন আর তা খাটে না। স্পিকারের সিদ্ধান্ত কখনওই আইনের ঊর্ধ্বে যেতে পারে না।”

এ ক্ষেত্রে অরুণ জেটলিদের পাল্টা যুক্তি, তা-ই যদি হয়, তবে ১৯৮০ থেকে ১৯৮৯ পর্যন্ত লোকসভায় কোনও বিরোধী দলনেতা ছিল না কেন? তখন কেন চন্দ্রবাবু নায়ডুকে বিরোধী দলনেতা করা হয়নি। এর জবাবে আনন্দ শর্মাদের বক্তব্য, সে সময় তেলুগু দেশম পার্টি বা অন্য কোনও রাজনৈতিক দলই স্পিকারের কাছে এই মর্মে আবেদন জানায়নি।

প্রশ্ন হল, শেষ পর্যন্ত যদি স্পিকার সুমিত্রা মহাজন কংগ্রেসকে এই পদ না দেন, কংগ্রেস কি আদালতে যাবে?

বিজেপির বক্তব্য, স্পিকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে আদালতে যাওয়া যায় না। এ ব্যাপারে আদালতের কোনও এক্তিয়ারই নেই। কিন্তু কংগ্রেসের আইন-বিশেষজ্ঞ নেতারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, অতীতে স্পিকারের অনেক সিদ্ধান্তই উল্টে দিয়েছে আদালত। শাকিল আহমেদ, কমলনাথরা আগে থেকেই আদালতে যাওয়ার হুমকি দিয়ে রাখলেও সনিয়া কিন্তু আজ এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান। আর আনন্দ শর্মা শুধু বলেন, “কংগ্রেস সব বিকল্প খতিয়ে দেখবে।”

সব মিলিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতার পদটি নিয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষে লড়াই ক্রমেই উচ্চগ্রামে পৌঁছচ্ছে। কাদের যুক্তি বেশি সঙ্গত, তা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই কংগ্রেস এই দাবি নিয়ে লোকসভায় যথাসম্ভব সরব থাকার কৌশল নিয়েছে এখন। আজ তারই সুর বেঁধে দিলেন দলনেত্রী।

আরও পড়ুন

Advertisement