E-Paper

‘বিদ্রোহীদের’ বিলে ভোট দিতে বললেন ভূপেন্দ্র

তাৎপর্যপূর্ণ হল, তৃণমূলের মুর্শিদাবাদ জেলার দুই সংখ্যালঘু সাংসদ আবু তাহের ও খলিলুর রহমান বিদ্রোহীদের দলে নাম লিখিয়ে ভূপেন্দ্রের বাড়ির বৈঠকে যান।

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬ ০৮:৪২
ভূপেন্দ্র যাদব।

ভূপেন্দ্র যাদব। ফাইল চিত্র।

তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের সমর্থন নিয়ে মোদী সরকার যে ভবিষ্যতে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস, ‘এক দেশ এক ভোট’-এর মতো সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে চাইবে, তা বুঝিয়ে দিলেন বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদেরা সরাসরি বিজেপিতে যোগ না দিলেও, তাদের ছাতার তলায় আসার ফলে রাজ্যে যাতে কংগ্রেস, সিপিএমের শক্তিবৃদ্ধি না হয়, তা নিয়েও সতর্ক থাকছে বিজেপি।

সোমবার সকালে মোদী সরকারের বন ও পরিবেশমন্ত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় বিজেপির হয়ে ভোট পরিচালনা করে আসা ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে তৃণমূলের জনা পনেরো বিদ্রোহী সাংসদদের বৈঠক হয়েছে। তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়করা দল ভেঙে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করেছিলেন। তখন বিজেপি নেতৃত্ব সরাসরি তাঁদের সঙ্গে বৈঠক করেননি। কিন্তু সোমবার সকালে কোনও রাখঢাক না রেখেই ভূপেন্দ্র তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে নিজের বাড়িতে বৈঠক করেন। বিজেপির ভবিষ্যতের রণকৌশল নিয়ে আলোচনাও করেন। তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংসদদের এনডিএ-র ছাতার তলায় এনে বিজেপি যে সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যা জোগাড় করতে চাইছে, তা-ও ভূপেন্দ্র স্পষ্ট করে দেন। বাদল অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ বিলে ভোটাভুটির সময় হাজির থেকে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের সরকারের পক্ষে ভোট দিতে বলেছেন ভূপেন্দ্র। শুভেন্দু সন্ধ্যায় শতাব্দী রায়ের বাড়িতে গিয়েও ওই সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

তাৎপর্যপূর্ণ হল, তৃণমূলের মুর্শিদাবাদ জেলার দুই সংখ্যালঘু সাংসদ আবু তাহের ও খলিলুর রহমান বিদ্রোহীদের দলে নাম লিখিয়ে ভূপেন্দ্রের বাড়ির বৈঠকে যান। তৃণমূল সূত্রের দাবি, শুভেন্দু তাঁদের বলেছেন, মানুষের ভোট যেন মুর্শিদাবাদে কংগ্রেসের দিকে সরে না যায়। সে জন্য তাঁদের এলাকায় কাজ করতে বলেছেন শুভেন্দু।

রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, তৃণমূলের বেশ কিছুলোকসভার সাংসদ তাঁদের এলাকায় জনরোষ, বিজেপির স্থানীয় নেতাদের উদ্যোগে হামলা, প্রশাসনের তোপের মুখে পড়তে হচ্ছে বলেঅভিযোগ করেন শুভেন্দুরকাছে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের কোনও আশ্বাস না দিয়ে বলেছেন, স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ রয়েছে। বিজেপির স্থানীয় নেতাদের ক্ষোভওঅন্যায্য নয়। তাই প্রয়োজনে লোকসভার সাংসদদের দিল্লিতেই বেশি সময় কাটানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

সূত্রের খবর, বৈঠকে ভূপেন্দ্র ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে ফেরমহিলা সংরক্ষণ তথা আসন পুনর্বিন্যাস বিল তো বটেই, এক দেশ-এক ভোট চালু করতেও সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে হবে। তার আগে বাদল অধিবেশনেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করানো হবে। ভূপেন্দ্র তখন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের সকলকে হাজির থাকতে বলেছেন। এপ্রিলে আসন পুনর্বিন্যাস বিল পাশে ব্যর্থ হয়েছিল বিজেপি। রাজনৈতিক শিবির মনে করছে, এখন পাঁচ বিধানসভার ভোটের পরে এনডিএ-র পক্ষে কত সংখ্যা রয়েছে, তা বাদল অধিবেশনে বুঝে নেওয়া হবে। ভূপেন্দ্র এ দিন সেটাই স্পষ্ট করেছেন। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের কটাক্ষ, ‘‘কেন্দ্রীয়বিজেপির হয়ে পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ভূপেন্দ্র যাদব এ দিন চোরাশিকারে ব্যস্ত ছিলেন। বন-পরিবেশমন্ত্রীর কাজ চোরাশিকার ঠেকানো, নিজেই চোরাশিকারি হয়ে ওঠা নয়!’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy