হাতে মেহন্দি দিয়ে হিন্দিতে লেখা ‘জীবন সুখের হোক’। বিয়ের ঠিক ছ’মাস পরে সেই তরুণীর দেহ উদ্ধার হল শ্বশুরবাড়িতে। ভোপালের ত্বিশা শর্মার মৃত্যুর ঘটনার পুনরাবৃত্তি উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে। পণের জন্য তরুণীকে খুনের অভিযোগ তুলল পরিবার। মৃতের নাম শ্বেতা সিংহ। সোমবার তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ভোপালের তরুণী ত্বিশার মৃত্যু নিয়ে যখন শোরগোল চলছে, দেশের আর এক প্রান্তে আরও এক তরুণীর মৃত্যু প্রকাশ্যে এল।
শ্বেতার বাবা উমেশ কুমার সিংহের দাবি, বিয়ের সময় সাধ্যমতো যৌতুক দেওয়া হয়েছিল। টাকা তো বটেই, গাড়ি এবং গয়নাও দেওয়া হয়। কিন্তু বিয়ের কিছু দিন পর থেকে আরও টাকা দাবি করে শ্বেতার উপর চাপ সৃষ্টি করে। গত বছরের নভেম্বরে ভূপেন্দ্র সিংহের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল শ্বেতা। পরিবারের অভিযোগ, শ্বেতার শ্বশুরবাড়ি থেকে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু সেই টাকা জোগাড় করার মতো সামর্থ্য ছিল না পরিবারের। শ্বশুরবাড়িতে তার জন্য শ্বেতাকে নানা রকম হেনস্থার সম্মুখীন হতে হয়েছিল বলে অভিযোগ।
শুধু শ্বেতার স্বামীই নন, তাঁর শাশুড়ি এমনকি আত্মীয়েরাও শ্বেতা নানা ভাবে হেনস্থা করতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন শ্বেতা। অভিযোগ, সেই চাকরি ছাড়তে বাধ্য করেন তাঁর স্বামী এবং শাশুড়ি। শুধু তা-ই নয়, বাপের বাড়ির লোকেদের সঙ্গেও দেখা করতে দিতেন না। এমনকি ফোনেও যোগাযোগ করতে দেওয়া হত না। শ্বেতার গতিবিধির উপর সর্ব ক্ষণ নজরদারি চালানো হত। ত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন শ্বেতা। কিন্তু সেই সময় স্বাভাবিক ভাবে কথা বলেছিলেন বলে দাবি পরিবারের। তার কিছু ক্ষণ পরেই খবর আসে শ্বেতার মৃত্যু হয়েছে। এর পরই শ্বেতার শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে পণের জন্য খুনের মামলা রুজু করেছে তাঁর পরিবার। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে শ্বেতার স্বামী, শাশুড়ি-সহ কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রদেশের ভোপালে ত্বিশা শর্মার মৃত্যু গিরে গত কয়েক দিন ধরেই শোরগোল চলছে। পণের জন্য ত্বিশাকে খুন করা হয়েছে বলে শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে তাঁর পরিবার। সেই মামলা গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। তদন্ত করছে সিবিআই।