E-Paper

জনমত চেয়ে নয়া কর্মসংস্থান প্রকল্পের খসড়া বিধি প্রকাশ

আধিকারিকদের বক্তব্য, জনমত চাওয়ার লক্ষ্যই হল অংশগ্রহণমূলক প্রশাসন নিশ্চিত করা এবং রাজ্য সরকার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বিশেষজ্ঞ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ মানুষের মতামত গ্রহণ করা।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২৪ মে ২০২৬ ০৯:১৪
নরেন্দ্র মোদী।

নরেন্দ্র মোদী। — ফাইল চিত্র।

প্রথম ইউপিএ সরকারের আমলের গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প বাতিল করে নতুন প্রকল্প চালুর কথা গত বছরই ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। তৈরি হয়েছিল ‘বিকশিত ভারত-গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ) আইন, ২০২৫’ বা ভিবি-জি রাম-জি। শনিবার এই নয়া প্রকল্পের খসড়া বিধি জনগণের মতামতের জন্য প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। আগামী ১ জুলাই থেকে দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই আইন কার্যকর করার বিজ্ঞপ্তি জারির পরেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। এই খসড়া নিয়মাবলি চূড়ান্ত করার আগে বিভিন্ন মহলের মতামত নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এটি প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।

তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় ফেরার পরেই প্রথম ইউপিএ সরকারের আমলের মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন (মনরেগা) বাতিল করে নতুন বিল আনতে সক্রিয় হয় মোদী সরকার। ভিবি-জি রাম-জি প্রকল্প তৈরির পরে বিরোধীরা অভিযোগ করেন, মনরেগা থেকে মহাত্মা গান্ধীর নাম সরাতেই নতুন প্রকল্প চালু করতে চায় মোদী সরকার। প্রস্তাবিত নিয়মে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা, জাতীয় স্তরের পরিচালন কমিটি, কেন্দ্রীয় গ্রামীণ রোজগার নিশ্চয়তা কাউন্সিল, প্রশাসনিক খরচ, অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, মজুরি ও বেকার ভাতা প্রদান এবং নির্ধারিত বরাদ্দের অতিরিক্ত ব্যয়ের মতো বিষয়গুলি। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির খরচের বিষয়ও এতে রাখা হয়েছে। নতুন প্রকল্পে গ্রামীণ পরিবারের জন্য বছরে নিশ্চিত কর্মসংস্থানের সীমা ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে। পাশাপাশি, গ্রাম পরিকল্পনা, গ্রামীণ সম্পদ তৈরি এবং আরও বেশি ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রকের আধিকারিকদের দাবি, এই খসড়া নিয়মাবলি চূড়ান্ত হলে তার মাধ্যমে সারা দেশে আইনটি কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক, প্রশাসনিক, আর্থিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। খসড়া অন্তর্বর্তী বিধিতে বর্তমানের মনরেগা থেকে নতুন প্রকল্পে রূপান্তরের রূপরেখাওদেওয়া হয়েছে।

আধিকারিকদের বক্তব্য, জনমত চাওয়ার লক্ষ্যই হল অংশগ্রহণমূলক প্রশাসন নিশ্চিত করা এবং রাজ্য সরকার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বিশেষজ্ঞ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ মানুষের মতামত গ্রহণ করা। নয়া খসড়া বিধি অনুযায়ী, চলতি প্রকল্পের কাজ, বকেয়া দায় মেটানো, নথিপত্র হস্তান্তর, ই-কেওয়াইসি যাচাই হওয়া জব কার্ডের বৈধতা এবং রাজ্যগুলি নতুন প্রকল্প চালু না করা পর্যন্ত শ্রমিকদের অধিকার বজায় থাকবে।

গত বুধবার কংগ্রেস সাংসদ সপ্তগিরি উলাকার নেতৃত্বাধীন সংসদের গ্রামীণ উন্নয়ন ও পঞ্চায়েত রাজ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ১ জুলাই থেকে সারা দেশে নতুন গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প কার্যকর করার প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। জানা গিয়েছে, বৈঠকে গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রকের সচিব রোহিত কানসাল কমিটির সদস্যদের জানান, ইতিমধ্যেই ২৫টি রাজ্য নতুন প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও নীতিগত পদক্ষেপ শুরু করেছে। তিনি আরও জানান, দেশের অধিকাংশ বড় রাজ্য ১ জুলাই থেকে প্রকল্প চালুর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করেছে।

রোহিত কানসালের নেতৃত্বে নতুন প্রকল্প চালুর বিষয়টি নিয়ে বৈঠকের পরে কেন্দ্র জানিয়েছে, ১ জুলাই থেকে নতুন আইন চালু না হওয়া পর্যন্ত মনরেগা প্রকল্পের কাজ স্বাভাবিক ভাবেই চলবে। গ্রামীণ পরিবারগুলির কাজের সুযোগ যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ করা-সহ একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, নতুন প্রকল্প কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত মনরেগা নির্বিঘ্নে চলবে এবং গ্রামীণ পরিবারগুলির কর্মসংস্থানের সুযোগে কোনও বিঘ্ন ঘটবে না।

বিরোধীদের অভিযোগ, এই আইন মনরেগা-র অধিকারভিত্তিক নিশ্চয়তাকে দুর্বল করছে। নতুন ব্যবস্থায় প্রকল্পটি বরাদ্দনির্ভর হয়ে উঠতে পারে। ফলে অর্থের অভাব হলে কাজ পাওয়ার নিশ্চয়তা কমে যেতে পারে। পাশাপাশি বিরোধীদের আশঙ্কা, কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে নতুন ৬০:৪০ ভাগাভাগির নিয়ম আর্থিক ভাবে দুর্বল রাজ্যগুলির উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের বক্তব্য, এই নয়া আইনে ডিজিটাল ব্যবস্থায় জোর দেওয়ার ফলে বহু শ্রমিক সমস্যায় পড়বেন।


(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Government of India

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy