E-Paper

সমন্বয়ের অভাব, বৈঠকে প্রশ্নের মুখে কংগ্রেস

সূত্রের খবর, জবাবে রাহুল বলেছেন, রাজ্যের নেতারা তাঁকে যেখানে যেমন বলতে বলেন, তিনি তেমনই বলেন। সিপিএম বা পিনারাই বিজয়নের উপর তাঁর কোনও ক্ষোভ নেই।

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬ ০৮:৫৩
ইন্ডিয়া-র বৈঠকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের সঙ্গে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। পিটিআই

ইন্ডিয়া-র বৈঠকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের সঙ্গে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। পিটিআই

বিরোধী মঞ্চ ‘ইন্ডিয়া’-য় সমন্বয় ও ঐক্যের অভাব নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ল কংগ্রেস। বিরোধী জোটের বৃহত্তম দল হিসেবে কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আঞ্চলিক দলের নেতারা। জবাবে আঞ্চলিক দলগুলির কংগ্রেসকে আক্রমণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেনরাহুল গান্ধী।

রাহুল বলেছেন, তিনি যখন ‘ভোট চুরি’-র অভিযোগ তুলেছেন, তখন সব বিরোধী দলের থেকে সমর্থন মেলেনি। আবার বামেরা অভিযোগ করেছেন, রাহুল কেন কেরলে ভোটের প্রচারে গিয়ে সিপিএমের সঙ্গে বিজেপির আঁতাঁত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন? কেন তিনি কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, সিপিএম নেতা পিনারাই বিজয়নের বিরুদ্ধে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে যোগসাজশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন?

সূত্রের খবর, জবাবে রাহুল বলেছেন, রাজ্যের নেতারা তাঁকে যেখানে যেমন বলতে বলেন, তিনি তেমনই বলেন। সিপিএম বা পিনারাই বিজয়নের উপর তাঁর কোনও ক্ষোভ নেই। কংগ্রেসের সাংগঠনিক সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল বলেছেন, পিনারাই প্রথমে কংগ্রেসকে বিজেপির বি-টিম বলেছিলেন। তার পরেই রাহুল পাল্টা নিশানা করেন। শরিকদের ক্ষোভের মুখে রাহুল এ-ও বলেছেন, বিজেপিকে হারানো মোটেই কঠিন কাজ নয়। লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি একার জোরে সরকার গড়তে পারেনি। বিজেপিকে হারাতে হলে বিরোধী দলগুলির পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াই করা বন্ধ করতে হবে। কারণ, তাতে জোট দুর্বল হচ্ছে।

সোমবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বিরোধী মঞ্চ ইন্ডিয়া-র বৈঠক বসেছিল। পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ বিধানসভা নির্বাচনের পরে বিরোধীদের প্রথম বৈঠকে ‘ভোট চুরি’-র অভিযোগ, এসআইআর, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। বৈঠকের শেষে লোকসভার বিরোধী দলনেতা ‘ভোট চুরি’-র চ্যালেঞ্জের কথা বলেন রাহুল। সিপিআই-এমএল লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য মনে করিয়ে দেন, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে যে সব মানুষ বাদ পড়ছেন, তাঁদের সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।

মমতার প্রস্তাব ছিল, নির্বাচন কমিশনের কাছে দরবার করা। কিন্তু কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, রাজ্যসভার নির্দল সাংসদ কপিল সিব্বল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি পাঠানোর প্রস্তাব দেন। সেই সিদ্ধান্তইচূড়ান্ত হয়েছে।

বৈঠকে ডিএমকে যোগ দেয়নি। কারণ, তামিলনাড়ুর ভোটের পরে কংগ্রেস পুরনো শরিক ডিএমকে-র সঙ্গ ছেড়ে টিভিকে-র সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল। তাই দিনের শুরুতেই কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে বলেন, কোনও ভুল বোঝাবুঝি থাকলে বলুন। সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব বলেন, কংগ্রেস বড় দল। তাদের সবাইকে নিয়ে চলতে হবে। জাতীয় স্তরে কংগ্রেসের সঙ্গে বাকি সব দলগুলি একজোটে কাজ করছে। কিন্তু রাজ্যে রাজ্যে প্রদেশ কংগ্রেস নেতারা বিরুদ্ধ মনোভাব নিয়ে চলছেন। তার ফলে জাতীয় স্তরে বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্য রাজ্য বা স্থানীয় স্তরে কাজ করছে না। বিহারে দেখা গিয়েছে, কী হয়েছে। ডিএমকে এই বৈঠকে কেন নেই, সেটাও কংগ্রেস বলতে পারবে।

অখিলেশকে সমর্থন জানিয়ে আরজেডি-র তেজস্বী যাদব রাজ্য স্তরে সমন্বয়ের সমস্যা ও প্রদেশ কংগ্রেস নেতাদের ভূমিকা নিয়ে সরব হন। তিনি বলেন, এখন স্পষ্ট যে লোকসভা নির্বাচনের আগে নীতীশ কুমারকে ‘ইন্ডিয়া’ থেকে বেরিয়ে যেতে দেওয়া ভুল ছিল। বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ২০২৯-এর আগে রাস্তায় নামতে হবে বলেও সওয়াল করেন তিনি।

শিব সেনার উদ্ধব ঠাকরে, জেএমএম-এর হেমন্ত সরেন অনলাইনে বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন। উদ্ধব প্রশ্ন তুলেছেন, বিরোধীদের জোটে কে সমন্বয়ের কাজ করবেন? এই সমন্বয়ের অভাব মেটাতে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এখন থেকে প্রতি দু’মাস অন্তর ‘ইন্ডিয়া’-র বৈঠক হবে। পরবর্তী বৈঠক হবে অগস্টে, হায়দরাবাদে। সংসদের বাদল অধিবেশনে বিরোধীদের বৈঠক হবে।

বৈঠকে ফরওয়ার্ড ব্লকের জাতীয় সম্পাদক জি দেবরাজন ককরোচ জনতা পার্টি তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেন। তিনি যুক্তি দেন, এই তরুণদের সমর্থন জানিয়ে বিরোধী শিবিরেরও উচিত এককাট্টা হয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা দাবি করা। ন্যাশনাল কনফারেন্সের ওমর আবদুল্লা তা সমর্থন করেন। তার পরেই ইন্ডিয়া-র তরফে শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবি তোলার সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকের আগেই সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি চিঠি লিখে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গেকে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, রাহুল সিপিএম-বিজেপির আঁতাতের অভিযোগ তুলেছেন। এ নিয়ে কংগ্রেসের অবস্থান স্পষ্ট হওয়া দরকার। ব্রিটাস বলেন, কেরলে কংগ্রেস, সিপিএমের বাকযুদ্ধ চলবে। কিন্তু রাহুল গান্ধী বা মল্লিকার্জুন খড়্গে সিপিএম-বিজেপির আঁতাঁতের অভিযোগ তুললে তা অন্য মাত্রা পেয়ে যায়। সিপিআইয়ের সাধারণ সম্পাদক ডি রাজার অভিযোগ, কংগ্রেস নিজের প্রয়োজন হলে বিরোধীদের বৈঠক ডাকবে, না হলে ডাকবে না, এটা ঠিক নয়। সিপিআই-এমএল লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘ইন্ডিয়া জোট এখনও ‘আইডিয়া’ হয়ে রয়েছে, তার ‘আইডেন্টিটি’ প্রয়োজন। সমাজমাধ্যমে ইন্ডিয়া-র উপস্থিতি বাড়ানো প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি।

বৈঠকের শেষে প্রায় ১৫ মিনিট ধরে রাহুল কংগ্রেসের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, দেশের স্বার্থে, সংবিধানের স্বার্থে সবাইকে এককাট্টা হতে হবে। বিজেপির বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়তে হবে। কংগ্রেস এ ক্ষেত্রে কারও উপরে দাদাগিরি করবে না বলেও রাহুল আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, মানুষের ক্ষোভকে কাজে লাগাতে হবে। ২০২৯-এ বিজেপি হারবে। দেশে আর্থিক বিপর্যয় আসছে। তার ধাক্কা মোদী সরকারকে সামলাতে হবে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

INDIA Alliance Rahul Gandhi Mallikarjun Kharge

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy