দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পাল হত্যাকাণ্ডে নয়া তথ্য উঠে এল। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, খুব আটঘাট বেঁধে এসেছিলেন অভিযুক্ত দম্পতি রামপ্রসাদ দাস এবং বনশ্রী। রামপ্রসাদের সঙ্গে একটি ছোট ব্যাগ ছিল। সেই ব্যাগে ধারালো অস্ত্র এবং রেজ়র ছিল।
দেবস্মিতার ফ্ল্যাটে ঘটনার দিন রামপ্রসাদ, তাঁর স্ত্রী এবং পুত্রের মুখ মাস্কে ঢাকা ছিল। পুলিশ সূত্রের খবর, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, রামপ্রসাদের সঙ্গে লাল রঙের একটি ছোট ব্যাগ ছিল। আবাসনে ঢোকার সময় রামপ্রসাদের পরনে ছিল সাদা জামা এবং স্ত্রী বনশ্রীর পরনে ছিল কালো-সাদা সালোয়ার-কামিজ। কিন্তু যখন তাঁরা বেরিয়ে আসেন তখন দেখা যায়, রামপ্রসাদের পরনে রয়েছে লাল জামা এবং বনশ্রীর পরনে লাল রঙের সালোয়ার-কামিজ। অধ্যাপিকা খুনের আগের এবং পরের প্রতিটি মুহূর্ত জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তকারী সূত্রে খবর, রামপ্রসাদ এবং বনশ্রী যেহেতু পরিচিত ছিলেন, তাই খুব একটা সন্দেহ হয়নি দেবস্মিতার। ফ্ল্যাটে ঢুকে দেবস্মিতার কাছে জল চান দম্পতি। দেবস্মিতা তাঁদের জল দেন। তাঁর সঙ্গে স্বাভাবিক ভাবেই কথা বলেন অভিযুক্তেরা। সেই কথোপকথনের মাঝে আচমকাই ব্যাগ থেকে ধারালো অস্ত্র বার করেন রামপ্রসাদ। তার পরই দেবস্মিতার মাথায় আঘাত করেন। তিনি পড়ে যেতেই রামপ্রসাদের স্ত্রী বনশ্রী রেজ়র ব্লেড দিয়ে দেবস্মিতার হাতের শিরা কাটেন বলে অভিযোগ। দেবস্মিতার মৃত্যু নিশ্চিত হতেই ঘর ছাড়েন অভিযুক্ত দম্পতি। ফ্ল্যাট থেকে বার হওয়ার সময় রামপ্রসাদের মুখ ঢাকা থাকলেও বনশ্রী এবং তাঁদের নাবালক সন্তানের মুখে কোনও মাস্ক ছিল না। সেই সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরেই ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে চাইছেন তদন্তকারীরা।
পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান থেকে অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করছে পুলিশ। প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার পূর্ব দিল্লির বসুধারা এনক্লেভের সত্যম অ্যাপার্টমেন্টের ফ্ল্যাট থেকে দেবস্মিতার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর দিদি দেবারতি পুলিশে খবর দেন। জানান, ফ্ল্যাটের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ ছিল। বারবার ফোন করা সত্ত্বেও বোন সাড়া দিচ্ছেন না বলে দেবারতি দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকেছিলেন। দেবস্মিতার দেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। তাঁর মাথায় গভীর ক্ষত ছিল। এ ছাড়া, হাতের শিরাও কাটা ছিল।
দিল্লিতে একাই থাকতেন দেবস্মিতা। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন শিবাজি কলেজে পড়াতেন তিনি। বিয়ের পাঁচ বছরের মাথায় ২০২২ সালে স্বামীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিন্ন হয়। বিচ্ছেদের মামলা চলছিল বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। তাঁর স্বামী থাকেন বেঙ্গালুরুতে। বর্ধমানে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বাড়ি ছিল দেবস্মিতার। সেখানেই অভিযুক্ত দম্পতি ভাড়াটে হিসাবে থাকতেন। পুলিশ জানতে পেরেছে, দীর্ঘ দিন ধরেই সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার ছক কষছিলেন তাঁরা। ওই বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য দেবস্মিতা তাঁদের চাপ দিচ্ছিলেন বলেও অভিযোগ।