Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২১ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

উচ্চতা বেড়েই চলেছে নাগাল্যান্ডের এই মেয়ের!

যে উচ্চতার জন্য তাঁর খ্যাতি, সেই উচ্চতাজনিত জটিল রোগের কারণেই প্রাণ সংশয়ে ভুগছেন নাগাল্যান্ডের মককচংয়ের ‘লম্বা মেয়ে’ থারুবালা সাংতাম। ৬ ফুট

গুয়াহাটি
রাজীবাক্ষ রক্ষিত ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৩:১২
Save
Something isn't right! Please refresh.
Popup Close

যে উচ্চতার জন্য তাঁর খ্যাতি, সেই উচ্চতাজনিত জটিল রোগের কারণেই প্রাণ সংশয়ে ভুগছেন নাগাল্যান্ডের মককচংয়ের ‘লম্বা মেয়ে’ থারুবালা সাংতাম। ৬ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার থারুবলা শুধু রাজ্য নয়, সম্ভবত গোটা উত্তর-পূর্বেই সবচেয়ে লম্বা মেয়ে। ১৯ বছরের থারুবালা এখনও বাড়ছেন। চিকিৎসকদের বক্তব্য, এর কারণ পিটুইটারি গ্ল্যান্ডের টিউমার ও অতিরিক্ত হরমোন ক্ষরণ। ‘অ্যাক্রোমেগালি’ নামের জটিল রোগে আক্রান্ত তিনি। দিন আনা, দিন খাওয়া পরিবারের পক্ষে এই রোগের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। সে কারণেই স্থানীয় ডাক্তারের জোড়াতালি চিকিৎসাতেই কাজ চালাচ্ছে তাঁর পরিবার।

বাবা জে চোখাসে সাংতাম, মা রেবেকা এবং ছোট বোন—সকলেই স্বাভাবিক। ১০ বছর বয়স পর্যন্ত থারুবলা স্বাভাবিকই ছিলেন। কিন্তু চতুর্থ শ্রেণিতে ওঠার পর থেকেই ক্লাসের সকলের মাথা ছাড়িয়ে ওঠেন তিনি। এক সময়ে শিক্ষকদের চেয়েও লম্বা হয়ে যান থারুবালা। হাত-পা, মুখের হাড়ও বাড়তে থাকে। তবু পড়া ছাড়েননি তিনি। অষ্টম শ্রেণিতে তার উচ্চতার পাশাপাশি হাড় মোটা হওয়া, শিরদাঁড়ার ব্যথা, জিভের জড়তা, শ্বাসকষ্ট, স্নায়বিক সমস্যা, লিভার, থাইরয়েড গ্ল্যান্ড, কিডনি, হৃদযন্ত্র সবই বাড়তে থাকায় থারুবালা শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। জ্বরের ঘোরে অধিকাংশ সময়েই তিনি অজ্ঞান থাকতেন। নাগাল্যান্ডের চিকিৎসকরা
জানান, তাঁর মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্ল্যান্ডে টিউমার হয়েছে। অবিলম্বে অস্ত্রোপচার করা দরকার। অস্ত্রোপচারের পরেও প্রতি মাসে অন্তত ৩০-৪০ হাজার টাকার ওষুধ-ইঞ্জেকশন লাগতে পারে বলে চিকিৎসকরা জানান। তার বাবা জানান, দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা করা সম্ভব নয়।

দশম শ্রেণিতে পড়ার সময়ে বাধ্য হয়েই থারুবালার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। থারুবালার কথায়, “একটা দিন স্কুলে কাটালে গোটা সপ্তাহ শুয়ে কাটাতে হচ্ছিল। আমি পশুপ্রেমী। স্বপ্ন দেখতাম পশু চিকিৎসক হব। কিন্তু আমার সব স্বপ্ন শেষ।” অন্য গ্রামবাসীর অবাক চোখ আর হাসি সহ্য করতে না পেরে বাড়ি থেকেও বড় একটা বেরোতে চান না এখন। নিজের উপরেই এখন খুব রাগ হয় তাঁর। তার বক্তব্য, ‘‘আমিও তো অন্যদের মতোই স্বাভাবিক হতে পারতাম!” এখন তার সঙ্গী এক দল পোষা বিড়াল।

Advertisement

আরও পড়ুন: গুগলে সার্চ করে বিষ খেয়ে আত্মঘাতী আইপিএস অফিসার

স্থানীয় সমাজসেবী ইমচাওতি কিচু থারুবালার সঙ্কোচ কাটাতে তাকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন। কিন্তু গাড়িতে চড়তে পারেন না ‘লম্বা মেয়ে।’ ঘরের ৬ ফুট খাটে বেঁকে শুয়ে থাকতে হয়। এখনও উচ্চতা বাড়ছে তার। পায়ের পাতা এক ফুট চার ইঞ্চি। তবু খুশি থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। আশপাশের কিশোর-কিশোরীরা, যারা আগে তাঁকে অবাক চোখে দেখত, এখন ছুটির দিন হলেই থারুবালার বাড়িতে লজেন্স ও খাবার-দাবার নিয়ে হাজির হয়ে যায়। সঙ্গ দেয় তাদের লম্বা বন্ধুকে।



Something isn't right! Please refresh.

আরও পড়ুন

Advertisement