তাঁর দমবন্ধ হয়ে আসছে। মৃত্যুর আগে মাকে এমনই মেসেজ পাঠিয়েছিলেন ত্বিশা শর্মা। ত্বিশার পাঠানো সেই মেসেজই এখন সিবিআইয়ের নজরে। সূত্রের খবর, ত্বিশা তাঁর পরিবারের কাছে শ্বশুরবাড়ির অসুস্থ পরিবেশের কথা জানিয়েছিলেন। তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসার জন্যও বলেন। ত্বিশার দাদা মেজর হর্ষিত শর্মার দাবি, গত ১২ মে ত্বিশা রাত ১০টা ৫ মিনিটে মাকে ফোন করেছিলেন। তাঁর অবস্থার কথা জানান।
হর্ষিত আরও বলেন, ‘‘মায়ের সঙ্গে কথা বলতে বলতেই আচমকা ফোন কেটে যায় ত্বিশার। ওর সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পাওয়া যায়নি। ত্বিশার স্বামী সমর্থ এবং শাশুড়ি গিরিবালা সিংহকেও ফোন করা হয়েছিল। কিন্তু ধরেননি।’’ হর্ষিতের দাবি, কয়েক ঘণ্টা পরে ত্বিশার শাশুড়ি ফোন করেন এবং জানান ত্বিশা আত্মহত্যা করেছেন।
ত্বিশার স্বামী সমর্থ সিংহকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর সাত দিনের পুলিশি হেফাজত হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন সমর্থ। তার পর জবলপুরে আত্মসমর্পণ করেন। তাঁকে গ্রেফতার করে ভোপালে নিয়ে আসা হয়। ত্বিশার শাশুড়ি আগাম জামিন নিয়ে রেখেছেন। পুলিশের অভিযোগ, তদন্তে সহযোগিতা করছেন না সমর্থ এবং তাঁর মা গিরিবালা। সূত্রের খবর, জেরায় সমর্থ দাবি করেছেন, ত্বিশার মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে রাজস্থানের অজমেরে ঘুরতে যাওয়া নিয়ে তাঁদের দু’জনের মধ্যে অশান্তি হয়েছিল। তার কিছু ক্ষণ পরেই ত্বিশা আত্মহত্যা করেন। সমর্থ আরও দাবি করেন, গত ১৭ এপ্রিল অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই ত্বিশার আচরণে অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েছিল। যদিও সমর্থের দাবির মধ্যে সত্যতা কতটা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
প্রসঙ্গত, গত ১২ মে ত্বিশার দেহ উদ্ধার হয় ভোপালে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে। পরিবারের অভিযোগ, ত্বিশাকে খুন করা হয়েছে পণের জন্য। ত্বিশার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই।