আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োর সঙ্গে বৈঠকে সে দেশের ভিসা নীতির প্রসঙ্গও তুলেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। আমেরিকার নতুন ভিসা নীতির কারণে সমস্যায় পড়ছেন সেই সব ভারতীয়েরা, যাঁরা বৈধ ভাবে সে দেশে যেতে চাইছেন। রুবিয়োকে বৈঠকে জানান জয়শঙ্কর। পরে সাংবাদিক বৈঠকে রুবিয়ো জানান, ভারতীয়দের নিশানা করে ওই নিয়ম চালু করা হয়নি।
রুবিয়োর সঙ্গে বৈঠকের পরে জয়শঙ্কর রবিবার বলেন, ‘‘মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগই (ভারত-আমেরিকা) এই সম্পর্কের কেন্দ্রে। বৈধ পর্যটকেরা ভিসা পেতে যে সমস্যার সম্মুখীন হন, আমি সে বিষয়ে রুবিয়োকে জানিয়েছি। বেআইনি যাতায়াত নিয়ে যেমন আমরা পরস্পরকে সহযোগিতা করছি, তেমন আমাদের প্রত্যাশা হল, এই কারণে যেন বৈধ যাতায়াত কোনও ভাবেই প্রভাবিত না হয়। ব্যবসা, প্রযুক্তি, গবেষণা নিয়ে আমাদের যে পারস্পরিক সমঝোতা রয়েছে, সেই দিক থেকে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’’
এর পরে এইচ-১বি, এফ১, জে১ ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থায় বদল নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন রুবিয়ো। তিনি বলেন, ‘‘ভারতকে নিশানা করে এই ব্যবস্থা তৈরি হয়নি। সারা পৃথিবীর জন্য এই একই ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা রূপান্তরের পর্যায়ে রয়েছি। কিছু তো ধাক্কা লাগবেই।’’ তিনি জানান, আমেরিকা আসলে অভিবাসন নীতির আধুনিকীকরণ করছে। তাঁর কথায়, ‘‘আমেরিকায় আমাদের অভিবাসন নিয়ে একটা সঙ্কট ছিল। এটা ভারতের জন্য নয়। ২ কোটি মানুষ গত কয়েক বছরে অবৈধ ভাবে আমেরিকায় প্রবেশ করেছিলেন। সেটাই আমাদের কাছে এখন চ্যালেঞ্জ।’’ রুবিয়ো জানিয়েছেন, এক বার আধুনিকীকরণ হয়ে গেলে নতুন যে ব্যবস্থা হবে, তা অনেক বেশি কার্যকর হবে। সেই ব্যবস্থায় ভারত থেকে যাঁরা বৈধ ভাবে আমেরিকায় কাজ করতে যাবেন, বা উদ্ভাবনের জন্য যাবেন, তাঁদের আরও বেশি সুবিধা হবে।
আরও পড়ুন:
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দফতরের অধীনস্থ নাগরিকত্ব এবং অভিবাসন পরিষেবা বিভাগ সম্প্রতি নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে, বিদেশিদের আমেরিকায় স্থায়ী ভাবে বসবাসের পথ আরও জটিল হয়ে উঠল। এ বার থেকে আমেরিকায় বসে আর ‘গ্রিন কার্ড’-এর জন্য আবেদন করা যাবে না। গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে হলে আগে তাঁদের আমেরিকা ছাড়তে হবে। ফিরে যেতে হবে নিজ নিজ দেশে। তার পর সেখান থেকে কনসুলার পরিষেবার মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে হবে।
গ্রিন কার্ড হল কোনও বিদেশি নাগরিকের আমেরিকায় স্থায়ী ভাবে বসবাসের সরকারি পরিচয়পত্র। এর মাধ্যমে কোনও বিদেশি নাগরিক আমেরিকার নাগরিকত্ব পান না ঠিকই, তবে তাঁকে স্থায়ী ভাবে আমেরিকায় থাকতে এবং কাজ করতে দেওয়া হয়। অনেকে এই গ্রিন কার্ডকে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার আগের পর্যায় হিসাবেও ব্যাখ্যা করেন।