Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৭ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

জরুরি অবস্থা স্মরণ মোদীর, পাল্টা বিঁধলেন বিরোধীরাও

প্রতি বছরই নিয়ম করে জরুরি অবস্থার ঘোষণার বর্ষপূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কংগ্রেসকে নিশানা করেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা
নয়াদিল্লি ২৬ জুন ২০২১ ০৬:২৪
ইন্দিরা গাঁধী ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

ইন্দিরা গাঁধী ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

প্রতি বছরই নিয়ম করে জরুরি অবস্থার ঘোষণার বর্ষপূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কংগ্রেসকে নিশানা করেন। তাঁর বিরুদ্ধে কংগ্রেস সারা বছর ধরে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ, সমালোচকদের দেশদ্রোহী বলে দাগিয়ে দেওয়ার মতো যে সব নালিশ করে, এক দিনেই সুদে-আসলে তার প্রতিশোধ নেন মোদী।

এ বার ‘এমারজেন্সি’ নিয়ে তিরের জবাবে সাত বছর ‘মোদী-জেন্সি’ চলছে বলে পাল্টা জবাব দিল কংগ্রেস। মোদী জমানায় কার্যত জরুরি অবস্থার মতোই পরিস্থিতি, তা বোঝাতে কংগ্রেস পাল্টা মোদী সরকারের সামনে আয়না ধরল।

জরুরি অবস্থা ঘোষণার ৪৬তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার ফের কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন মোদী। টুইটে লিখেছেন, ‘জরুরি অবস্থার সেই অন্ধকার দিনগুলি কখনওই ভোলা সম্ভব নয়।’ জরুরি অবস্থায় কী কী নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তার তালিকা দিয়ে মোদী আজ ‘গণতন্ত্র এবং সংবিধানকে’ মজবুত করার ডাকও দিয়েছেন।

Advertisement

অন্যান্য বার এই আক্রমণের মুখে কংগ্রেস দ্বিধাগ্রস্ত থাকে। কিন্তু মাত্র তিন মাস আগে খোদ রাহুল গাঁধী বলেছেন, জরুরি অবস্থা জারি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। রাহুল নিজেই ইন্দিরা গাঁধীর ভুলের কথা মেনে নেওয়ায় কংগ্রেসের দ্বিধা অনেকটাই কেটে গিয়েছে। তাতে ভর করেই আজ দলের মুখপাত্র রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালা প্রধানমন্ত্রীকে পাল্টা আক্রমণে বলেছেন, একের পর এক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে, সংবিধানকে অগ্রাহ্য করে, বিরোধীদের মুখ বন্ধ করে গত সাত বছর ধরে যা চলছে, তা ‘মোদী-জেন্সি’! পাশে দাঁড়িয়েছে কংগ্রেস ভেঙে তৈরি এনসিপি-ও। মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখের বাড়িতে ইডি-র তল্লাশির দিকে আঙুল তুলে শরদ পওয়ার-কন্যা সুপ্রিয়া সুলে বলেছেন, ‘বিজেপি জরুরি অবস্থা নিয়ে কংগ্রেসকে নিশানা করে! কিন্তু এখন যা দেখছি, তা সম্ভবত আগে কখনও দেখা বা শোনা যায়নি।’

জরুরি অবস্থা ১৯৭৫

মোদী-শাহের অভিযোগ

• পরিকল্পিত ভাবে সমস্ত প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়

• গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পায়ে পিষে দেওয়া হয়

• নিষিদ্ধ করা হয় প্রতিবাদ-বিক্ষোভ

• জেলবন্দি করা হয়েছিল বিক্ষোভকারীদের

• লাগাম পরানো হয় সংবাদমাধ্যমে

• নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়

• সংসদ, আদালতকে মূক দর্শকে পরিণত করা হয়

‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’

কংগ্রেসের অভিযোগ

• সরকারের সমালোচনা করলেই দেশদ্রোহীর তকমা

• সরকারি নীতির বিরোধিতা করলেই সন্ত্রাস দমন আইন

• সমাজকর্মীদের ‘শহুরে নকশাল’ বলে দাগিয়ে দেওয়া

• বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে সিবিআই-ইডি-কে কাজে লাগানো

• সুপ্রিম কোর্টে সরকারের প্রভাব খাটানোর অভিযোগে বিচারপতিদের বিদ্রোহ

• নির্বাচন কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ

• সংসদে সংখ্যার জোরে তিন কৃষি আইনের মতো বিল পাশ

• সংসদীয় কমিটিতে বিল না পাঠানো

• তথ্যপ্রযুক্তি আইনের নতুন বিধিতে সরকারের ইচ্ছে মতো পোর্টাল-ওয়েবসাইট থেকে সংবাদ সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা

ইতিহাসবিদ তনিকা সরকারও বলছেন, ‘‘গত সাত বছরে যা চলছে, তা জরুরি অবস্থার থেকেও খারাপ। এখন তো সরকারের নিন্দা করা মানে দেশের নিন্দা করা! তাঁকে সন্ত্রাসবাদীর তকমা দেওয়া! অথচ কোথায়, কোন আইনে এমনটা বলা রয়েছে?”

আজ প্রধানমন্ত্রী টুইটারে লিখেছেন, ‘‘১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সাল প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পিত ধ্বংসলীলার সাক্ষী থেকেছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে পদদলিত করেছিল কংগ্রেস।’’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও বলেন, ‘‘অসংখ্য সত্যাগ্রহীকে জেলে কয়েদ করে সংবাদমাধ্যমে শিকল পরানো হয়েছিল। মানুষের মৌলিক অধিকার ছিনিয়ে সংসদ-আদালতকে মূক দর্শক করে রাখা হয়েছিল।”

কংগ্রেসের বক্তব্য, মোদী-শাহ এ সব বলে নিজেদেরই বিদ্রুপ করছেন। মনে হচ্ছে, তাঁরা নিজেদের জমানার কথাই বলছেন। এই জমানাতেই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে প্রবল আঘাত করা হয়েছে। সংসদ, সংবিধানকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে। সমালোচকদের মুখ বন্ধ করতে কড়া আইন প্রয়োগ হয়েছে। সমালোচনা শুনলে বিনা বিচারে হাজতে পুরে দেওয়াটাই মোদী সরকারের নীতি।


ইতিপূর্বে আর-কোনো রাজা সিংহাসনে চড়িয়া বসিয়া রাজত্বের পেখম সমস্তটা ছড়াইয়া দিয়া এমন অপূর্ব নৃত্য করে নাই। প্রজারা চারি দিকে অসন্তোষ প্রকাশ করিতে লাগিল– ছত্রমাণিক্য তাহাতে অত্যন্ত জ্বলিয়া উঠিলেন; তিনি মনে করিলেন, এ কেবল রাজার প্রতি অসম্মানপ্রদর্শন। তিনি অসন্তোষের দ্বিগুণ কারণ জন্মাইয়া দিয়া বলপূর্বক পীড়নপূর্বক ভয় দেখাইয়া সকলের মুখ বন্ধ করিয়া দিলেন; সমস্ত রাজ্য নিদ্রিত নিশীথের মতো নীরব হইয়া গেল।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রাজর্ষি


ভীমা কোরেগাঁও মামলায় সমাজকর্মীদের জেলবন্দি করা থেকে সংখ্যার জোরে তিন কৃষি আইন পাশ, সিএএ-বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেওয়া পড়ুয়া, সমাজকর্মীজের জেলে পোরা, সমালোচনামূলক খবর লেখার জন্য সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধের চেষ্টা এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলার পাহাড়ের কথা মনে করিয়ে বিরোধীরা বলছেন, এটা জরুরি অবস্থারই নামান্তর। সুরজেওয়ালা বলেন, “নির্বাচন কমিশন, সিএজি, ভিজিল্যান্স কমিশনের মতো সমস্ত সরকারি কাজে নজরদারি সংস্থা সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। সিবিআই, ইডি এখন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে বিজেপির বদলা নেওয়ার অস্ত্র। মানুষের রায় অগ্রাহ্য করে রাজ্যে নির্বাচিত সরকার ফেলে দেওয়া হচ্ছে। আইন, সংবিধান অমান্য করে, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, দুই ব্যক্তি মিলে স্বৈরতন্ত্র চালাচ্ছেন। এই সরকার নাৎসি জমানার কথা মনে পড়িয়ে দেয়। তার পরেও প্রধানমন্ত্রী জরুরি অবস্থার কথা বলেন!” কংগ্রেসের মতে, মোদী জমানায় যা চলছে, তা অষোঘিত জরুরি অবস্থা ছাড়া কিছু নয়।

ইন্দিরার জরুরি অবস্থা ও মোদী জমানার মধ্যে একটাই ফারাক দেখছেন ইতিহাসবিদ তনিকা সরকার। তাঁর বক্তব্য, “জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে সে সময় প্রতিবাদ, আন্দোলন করার মতো পরিস্থিতি এবং নেতৃত্ব ছিল। সেই ভারত আজ নষ্ট হয়ে গিয়েছে।”

আরও পড়ুন

Advertisement