Advertisement
E-Paper

‘কয়েক ঘণ্টায় গোটা বিশ্ব একটা সুখবর পেতে চলেছে’! দিল্লিতে জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের পরে রুবিয়োর ইঙ্গিত কি ইরান নিয়ে?

রবিবার সকালে দিল্লিতে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মার্কো রুবিয়ো। সেই বৈঠকের পরেই তিনি ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সমঝোতা নিয়ে মুখ খোলেন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ মে ২০২৬ ১৩:০৯
দিল্লিতে রবিবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি (বাঁ দিকে) মার্কো রুবিয়ো এবং এস জয়শঙ্কর (ডান দিকে)।

দিল্লিতে রবিবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি (বাঁ দিকে) মার্কো রুবিয়ো এবং এস জয়শঙ্কর (ডান দিকে)। ছবি: রয়টার্স।

আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গোটা বিশ্ব একটা সুখবর পেতে চলেছে। দিল্লিতে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের পরে এমনটাই জানালেন আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো। মনে করা হচ্ছে, তাঁর ইঙ্গিত ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সমঝোতা নিয়েই। প্রসঙ্গত, রবিবারের বৈঠকে জয়শঙ্করের সঙ্গেও পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে রুবিয়োর। তার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত। অপেক্ষা শুধু ঘোষণার।

চার দিনের ভারত সফরে এসেছেন রুবিয়ো। রবিবার সকালে দিল্লিতে ভারতীয় বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। তার পরে যৌথ ভাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন জয়শঙ্কর এবং রুবিয়ো। সেখানে জয়শঙ্কর বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ দমন’ দুই দেশের কাছেই চ্যালেঞ্জ। পশ্চিম এশিয়ার অশান্তি নিয়েও দু’জনের কথা হয়েছে বৈঠকে। তার পরেই রুবিয়ো সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ‘‘আমার মনে হয়, আর কয়েক ঘণ্টায় গোটা দুনিয়া সুখবর পেতে পারে। সেই সম্ভাবনা রয়েছে।’’ মনে করা হচ্ছে ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সমঝোতার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন তিনি।

রবিবার নিজের ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ট্রাম্প জানান, শান্তিচুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা অনেকটাই হয়ে গিয়েছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে শুধু কিছু বিষয় চূড়ান্ত হওয়া বাকি মাত্র। তার পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, ‘‘চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার দিকে। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলছে। শীঘ্রই তা ঘোষণা হবে। চুক্তিতে অনেক বিষয় আছে। তবে তার মধ্যে অন্যতম বিষয়ই হল হরমুজ় প্রণালী। চুক্তির অংশ হিসাবে ওই প্রণালী খুলে দেওয়া হবে।’’ তার পরেই দিল্লিতে বসে রুবিয়োর ঘোষণা সেই সমঝোতার দিকেই ইঙ্গিত করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিভিন্ন বিষয়ে জয়শঙ্করের সঙ্গে দিল্লির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে রুবিয়োর। বৈঠকের পরে রুবিয়ো বলেন, ‘‘ভারত এবং আমেরিকা শুধু সহযোগী নয়, কৌশলগত অংশীদারও, যা গুরুত্বপূর্ণ।’’ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কেন বিশেষ, তা-ও বুঝিয়ে দেন রুবিয়ো। তিনি বলেন, ‘‘সারা দুনিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আমরা কাজ করি। কিন্তু কৌশলগত অংশীদারিত্ব (ভারতের সঙ্গে) এই সম্পর্ককে আলাদা করেছে। এটা শুধু এই অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নয়।’’ রুবিয়োর কথায়, ‘‘এর পরিধি এতটাই বিস্তৃত যে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষত পশ্চিম গোলার্ধে সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করে দেয়। আমি শনিবার রাতেও বলেছিলাম।’’

রুবিয়ো সুইডেনে ছিলেন। শনিবার সকালে সেখান থেকে সোজা আসেন কলকাতায়। কলকাতা বিমানবন্দরে নেমে চলে যান তালতলার মাদার হাউসে। সেখানে ঘণ্টাখানেক থাকার পর রুবিয়ো যান নির্মলা শিশুভবনে। বেশ কয়েকটি কর্মসূচি সেরে শনিবার দুপুরেই দিল্লি উড়ে যান মার্কিন বিদেশসচিব। দিল্লিতে নেমেই তাঁর কনভয় চলে যায় সেবাতীর্থে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এক ঘণ্টার বেশি বৈঠক হয় তাঁদের। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তরফে হোয়াইট হাউসে যাওয়ার জন্য মোদীকে আমন্ত্রণ জানান রুবিয়ো। মোদী এর পরে এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট দিয়ে লেখেন, ‘‘আমরা ভারত ও আমেরিকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা করেছি। শুধু তা-ই নয়, আলোচনায় উঠে এসেছে বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলিও।’’

Marco Rubio
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy