Advertisement
E-Paper

অবশেষে জুড়ে গেল জ়োজিলা সুড়ঙ্গের দুই প্রান্ত, পাক নজর এড়িয়ে কাশ্মীরের সঙ্গে এ বার যোগাযোগ লাদাখের

ভারতের প্রতিরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে জ়োজিলা টানেল একটি কৌশলগত দুর্বলতায় ইতি টানবে। যে দুর্বলতাকে ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের সময় পাকিস্তান কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছিল।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬ ১৬:৩০
The final rock barrier inside the Zojila Tunnel broken

জ়োজিলা টানেল। ছবি: সংগৃহীত।

এক দিকে, জম্মু ও কাশ্মীরের গন্ডেরবাল জেলার সোনমার্গ। অন্য দিকে, লাদাখের কার্গিল জেলার দ্রাস। জ়োজিলা গিরিপথ বরাবর পাহাড়ের নীচে নির্মীয়মাণ ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ঘোড়ার নালের আকৃতির সুড়ঙ্গপথের (সিঙ্গল টিউব বাই-ডিরেকশনাল রোড টানেল) দু’দিক থেকে খোঁড়া দু’টি অংশ পাথরের বাধা সরিয়ে পরস্পরের সঙ্গে মিলে গেল মঙ্গলবার। কাশ্মীর উপত্যকার সঙ্গে লাদাখের সহজতর যোগাযোগের ক্ষেত্রে একে ঐতিহাসিক পদক্ষেপের সূচনা বলেই মনে করা হচ্ছে।

ভারতের প্রতিরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে জ়োজিলা টানেল একটি কৌশলগত দুর্বলতায় ইতি টানবে। যে দুর্বলতাকে ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের সময় পাকিস্তান কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছিল। কৌশলগত উঁচু অবস্থানে থেকে জ়োজিলা গিরিপথে ভারতীয় সেনার কনভয়ে ধারাবাহিক গোলাবর্ষণ চালিয়ে সে সময় প্রতিরোধের সময়সীমা বাড়াতে সক্ষম হয়েছিল দখলদার পাক বাহিনী। কিন্তু নতুন সুড়ঙ্গপথে পাক নজরদারি এড়িয়ে ধারাবাহিক ভাবে লাদাখে সেনা, অস্ত্র এবং রসদ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

নতুন সুড়ঙ্গে যান চলাচল শুরু হলে জ়োজিলা গিরিপথের ঘণ্টা দেড়েকের যাত্রা কমে দাঁড়াবে ১৫ মিনিটে। তা ছাড়া, শীতকালে জ়োজিলা গিরিপথ কয়েক ফুট উঁচু বরফের নীচে চাপা পড়ে। সে কারণে ওই সড়ক দিয়ে গাড়ি চলাচল খুব বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। সর্ব ক্ষণ বরফ পরিষ্কারের জন্য লোক নিয়োগ করতে হয়। তা ছাড়া অত উচ্চতায় পাহাড়ের বাঁকগুলি খুব বিপজ্জনক। বরফ পরিষ্কার করলেও ভিজে রাস্তা দিয়ে চলার সময় বাঁক ঘুরতে গিয়ে খাদে পড়ে বহু গাড়ি। অত্যাধিক তুষারপাতের কারণে শীতকালে অনেক সময়ই ওই সড়কপথে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিতে হয়। জ়োজিলা সুড়ঙ্গ সেই সমস্যারও সমাধান করবে। অস্ট্রিয়ায় ব্যবহৃত সুড়ঙ্গ খননের আধুনিক প্রক্রিয়া, যা ‘নিউ অস্ট্রিয়ান টানেলিং মেথড’ নামে পরিচিত, তার সাহায্যেই তৈরি করা হবে এই সুড়ঙ্গ। ভিতরে থাকবে সিসিটিভি নজরদারি, সর্ব ক্ষণের বিদ্যুৎ সংযোগ, বেতার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, এবং বাতাস চলাচলের সুব্যবস্থা।

তবে ১১,৫৭৮ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই সুড়ঙ্গ এখনই চালু হচ্ছে না। সরকারি সূত্রের খবর, ২০২৮ সাল নাগাদ এই সুড়ঙ্গ দিয়ে গাড়ি যাতায়াত করতে পারবে। সুড়ঙ্গ নির্মাণের ক্ষেত্রে সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে জানিয়ে কেন্দ্রীয় সড়ক যোগাযোগ মন্ত্রী নিতিন গডকরি বলেন: “আমরা জ়োজিলা টানেল ৭,০০০ কোটি টাকায় নির্মান করব। যেখানে আনুমানিক বাজেট ছিল ১২,০০০ কোটি টাকা। আমরা ৫,০০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করেছি। বহু বছর আগে আমি যখন বিজেপির সভাপতি ছিলাম, তখন ভেবেছিলাম এই টানেল হওয়া উচিত, কারণ বছরে ছ’মাস রাস্তা বন্ধ থাকত। ২০১৪ সালে যখন আমি কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী হলাম, তখন আমরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অনুমোদনে জ়োজিলা প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।” প্রসঙ্গত, সীমান্তে মোট ৩১টি সুড়ঙ্গ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে ভারতের। তার মধ্যে একটি এই জ়োজিলা টানেল। সব ক’টি সুড়ঙ্গের মধ্যে দীর্ঘতম হতে চলেছে এই সুড়ঙ্গপথটিই।

Ladakh Kashmir Kargil War Kargil Zoji-la Tunnel
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy