Advertisement
E-Paper

কর্নাটকের কুর্সি ঘিরে কংগ্রেসের কোন্দল মিটছে না! মুখ্যমন্ত্রী ডিকে-র বিরুদ্ধে নালিশ করতে দিল্লি পৌঁছে গেলেন দুই নেতা

মন্ত্রিত্ব না-পেয়ে দিল্লি দরবারে গিয়েছেন কর্নাটকের এক কংগ্রেস বিধায়ক। আবার মন্ত্রী হয়েও সন্তুষ্ট নন শিবকুমার মন্ত্রিসভার এক সদস্য। কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করতে দিল্লি গিয়েছেন তিনিও।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬ ১১:৫০
(বাঁ দিকে) লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

নতুন মন্ত্রিসভা গড়েও কর্নাটকে স্বস্তিতে নেই কংগ্রেস। ‘বিদ্রোহ’ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্নাটকের নয়া মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারকেও। এ বার মন্ত্রিত্ব না-পেয়ে দিল্লি দরবারে গিয়েছেন কর্নাটকের এক কংগ্রেস বিধায়ক। আবার মন্ত্রী হয়েও সন্তুষ্ট নন শিবকুমার মন্ত্রিসভার এক সদস্য। কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করতে দিল্লি গিয়েছেন তিনিও।

নিজের ক্ষোভের কথা জানাতে দিল্লি গিয়েছেন কর্নাটকের মন্ত্রী কৃষ্ণ বাইর গৌড়া। তাঁকে বেঙ্গালুরু উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কৃষ্ণের দাবি, বেঙ্গালুরু উন্নয়ন পর্ষদ (বিডিএ) এবং বেঙ্গালুরু মেট্রোপলিটন উন্নয়ন পর্ষদ (বিএমআরডিএ)-কে তাঁর অধীনস্থ দফতরের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। কৃষ্ণ মনে করছেন, এই দুই সরকারি সংস্থা তাঁর দফতরের আওতায় না-এলে বেঙ্গালুরু এবং সংলগ্ন এলাকায় উন্নয়নের বিষয়ে তাঁর কোনও ভূমিকা থাকবে না।

অন্য দিকে, মন্ত্রী করার আর্জি জানিয়ে দিল্লি গিয়েছেন কর্নাটকের কংগ্রেস বিধায়ক রিজ়ওয়ান আরশাদ। একটি সূত্রের দাবি, তাঁকে মন্ত্রী করার বিষয়ে কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছেন তিনি। সেই কারণেই তিনি দিল্লি গিয়েছেন বলে খবর। এই পরিস্থিতিতে কর্নাটকের মন্ত্রিসভায় ফের রদবদল হবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।

কয়েক দিন আগেই দফতর বণ্টন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন কর্নাটকের আর এক মন্ত্রী রামলিঙ্গ রেড্ডি। শিবকুমার তাঁকে বড়় এবং মাঝারি সেচ দফতরের দায়িত্ব দিয়েছেন। কিন্তু রামলিঙ্গের দাবি, তাঁকে বেঙ্গালুরু উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। পছন্দের দফতর না-পেয়ে মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দেন তিনি। পরে অবশ্য রামলিঙ্গের সঙ্গে বৈঠকে বসে সমস্যার সমাধান করেন শিবকুমার। কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রামলিঙ্গ রেড্ডি আমার বন্ধু। সব সমস্যার সমাধান হয়ে গিয়েছে। অহেতুক গল্প তৈরি করবেন না। ইস্তফা সংক্রান্ত বিষয়টিও মিটে গিয়েছে।” পরে রামলিঙ্গও সমস্যা মিটে যাওয়ার কথা জানান। সেই সময় দফতর বণ্টন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে পরে বিদ্রোহে ইতি টেনেছিলেন শিবকুমার মন্ত্রিসভার আরও দুই সদস্য কেএইচ মুনিয়াপ্পা এবং কেজে জর্জ-ও। সে যাত্রায় সমস্যা মিটে গেলেও নতুন ‘বিদ্রোহ’ দেখা দিল কর্নাটকে।

সিদ্দারামাইয়ার পদত্যাগের পর বুধবার বিকেলে বেঙ্গালুরুর লোকভবনের গ্লাস হাউসে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন শিবকুমার। রাজ্যপাল থাবরচাঁদ গহলৌত তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। শিবকুমারের সঙ্গে বুধবার উপমুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন দলিত নেতা জি পরমেশ্বর। শপথ নেন ১২ জন মন্ত্রীও।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ২০২৩ সালের রফাসূত্র মেনে শিবকুমারকে মুখ্যমন্ত্রিত্বের কুর্সি ছেড়ে দিলেও তিনি সক্রিয় রাজনীতিতেই থাকছেন। সেই সঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘‘জাতীয় রাজনীতি নয়, আমার মূল মনোযোগ রাজ্য রাজনীতিতেই থাকবে।’’ কংগ্রেস সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়ার বিনিময়ে সিদ্দারামাইয়াকে হাইকমান্ডের তরফে কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি (ঘটনাচক্রে, যে পদে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী পদে সিদ্দারামাইয়ার উত্তরসূরি ডিকে শিবকুমার) অথবা রাজ্যসভা সাংসদের পদ বেছে নিতে বলা হয়েছিল। সিদ্দা স্পষ্ট করে দেন, সংসদের উচ্চকক্ষে যাচ্ছেন না তিনি।

Karnataka Congress
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy