পহেলগাঁওয়ে হামলার সময় জঙ্গিদের হাতে ছিল উন্নত প্রযুক্তির ক্যামেরা। সেই ক্যামেরা আবার এসেছিল আমেরিকা থেকে! পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে এমনটাই জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। রবিবার সংশ্লিষ্ট ঘটনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আমেরিকা থেকে ওই ক্যামেরা গিয়েছিল চিনে। সেখান থেকে ওই ক্যামেরা পাক সেনার কাছে যেতে পারে। সেখান থেকে ফের হাতবদল হয়ে তা পৌঁছে যায় সন্ত্রাসবাদী সংগঠন লশকর-এ-ত্যায়বার হাতে।
গত জুলাই মাসে কাশ্মীরের দচিগামের জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে নিহত হন পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিন জঙ্গি। তাঁদের কাছ থেকে অস্ত্রশস্ত্রের পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছিল উন্নত প্রযুক্তির ক্যামেরা। সাধারণত নিজেদের অভিযানের ছবি-ভিডিয়ো দেখিয়ে অন্যদের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে উদ্বুদ্ধ করতে ক্যামেরা ব্যবহার করে জঙ্গিরা।
তবে পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের কাছে উন্নত প্রযুক্তির ক্যামেরা পেয়ে নড়েচড়ে বসেন তদন্তকারীরা। দেশের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) ক্যামেরাটির প্রস্তুতকারক, আমেরিকার ‘গো প্রো’ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে। মার্কিন সংস্থাটির তরফে জানানো হয়, চিনের একটি সংস্থার কাছে ক্যামেরা বিক্রি করেছিল তারা। চিন থেকে কী ভাবে সেই ক্যামেরা জঙ্গিদের কাছে গেল, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারীদের অনুমান, চিন থেকে ক্যামেরা গিয়েছিল পাক সেনার কাছে। তার পর তা লশকরের হ্যান্ডলারদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
গত বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় হামলা চালিয়েছিল জঙ্গিরা। চার্জশিটে এনআইএ জানিয়েছে, তার আগে গত বছরের ১৫-১৬ এপ্রিল এলাকা রেকি করেছিলেন তিন জঙ্গি— ফয়জ়ল জাট ওরফে সুলেমান, হাবিব তাহির ওরফে ছোটু এবং হামজ়া আফগানি। পাকিস্তানে বসে থাকা সইফুল্লাই তাঁদের ওই এলাকা রেকি করার জন্য পাঠিয়েছিলেন। গত সপ্তাহেই পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট জমা দিয়েছে এনআইএ। ২০২৫-এর এপ্রিলের ওই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আগেই উঠে এসেছিল পাকিস্তানি জঙ্গি সইফুল্লা ওরফে সাজিদ জাট ওরফে ‘ল্যাংড়া’-র নাম। তিনি পাক জঙ্গিগোষ্ঠী লশকর-এ-ত্যায়বা এবং তার ছায়া সংগঠন দ্য রেজ়িস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ)-এর অন্যতম নেতা বলে সন্দেহ। এনআইএ-র চার্জশিটে এই সইফুল্লাকেই হামলার ‘মূল অভিযুক্ত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।