ত্বিশা শর্মার মৃত্যু যে রাতে হয়েছিল, তার ঠিক আগের মুহূর্তগুলি কী ভাবে কাটিয়েছিলেন দু’জনে, জেরায় পুলিশের কাছে তা নিয়ে মুখ খুলেছেন স্বামী সমর্থ সিংহ। ত্বিশার মৃত্যুর ঘটনায় সাত দিনের পুলিশি হেফাজত হয়েছে তাঁর। প্রসঙ্গত, গত ১২ মে ত্বিশার দেহ উদ্ধার হয় ভোপালে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে। ইতিমধ্যেই তাঁর স্বামী এবং শাশুড়ির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তবে ত্বিশার শ্বশুরবাড়ির দাবি, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। আর এখানেই একটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই। মামলা পৌঁছেছে সুপ্রিম কোর্টেও।
তবে তদন্তকারী সূত্রের খবর, জেরায় ত্বিশার স্বামী সমর্থ জানিয়েছেন, গত ১২ মে সন্ধ্যা ৬টায় পার্লার থেকে বাড়ি ফেরেন ত্বিশা। ইতিমধ্যে পার্লারে যাওয়ার সেই ফুটেজও প্রকাশ্যে এসেছে। সমর্থের দাবি, ওই দিন সাড়ে ৬টা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে কাছেই একটি পার্কে যান দু’জনে। সেখানে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত হাঁটেন তাঁরা। তার পর বাড়িতে ফেরেন। একসঙ্গে খাবার খান। খাওয়াদাওয়া শেষে ত্বিশাকে নিয়ে বাড়ির বাইরে বসেছিলেন। রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ দু’জনে মিলে ঘরে গিয়ে টিভি দেখেন।
সমর্থের আরও দাবি, আধঘণ্টা পর ত্বিশা বাড়ির নীচের তলায় চলে যান। সেখানে গিয়ে ওঁর মা-বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন। ত্বিশা নীচে চলে যাওয়ার পর খুব ক্লান্তির কারণে তিনি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বলে দাবি সমর্থের। কিছু ক্ষণ পরে তাঁর মা গিরিবালা সিংহ আসেন বলে দাবি সমর্থের। তার পর তাঁকে জানান যে, ত্বিশাকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। ফোনেও পাওয়া যাচ্ছে না। তত ক্ষণে ত্বিশার মায়েরও ফোন আসে। তিনি জানান, ত্বিশাকে অত্যন্ত বিচলিত লাগছিল। এর পরই সমর্থ তাঁর মাকে বলেন যে, ছাদে গিয়ে এক বার দেখে আসতে। হয়তো সেখানে রয়েছেন ত্বিশা। গিরিবালা ছাদে যান, সেখানে গিয়ে ত্বিশার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। দু’জনে একসঙ্গে হাঁটতে গেলেন, খাবার খেলেন, টিভি দেখলেন, তার পর কী এমন হল যে, ত্বিশার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হল? এই মাঝের সময়েই কিছু হয়েছিল কি না, এখন সেটাই জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।