নিজের হার মেনে নিয়ে নতুন সরকার গঠনের পথ মসৃণ করে দেশে-বিদেশে বাহবা কুড়িয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দু’দিনও পেরোল না, শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হবে বলে জানিয়ে দিল মৈত্রীপালা সিরিসেনার নতুন সরকার।

মাহিন্দা রাজাপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ? গদি হারাচ্ছেন দেখে তিনি নাকি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করেছিলেন। নতুন সরকারের মুখপাত্র মঙ্গলা সমরবীরা আজ স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছেন, নতুন মন্ত্রিসভা সব চেয়ে প্রথমে যেটা করবে, সেটা হল সামরিক অভ্যুত্থান নিয়ে রাজাপক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত।”

গত ৯ জানুয়ারি শেষ ভোটটা গোনার আগেই হার স্বীকার করেছিলেন পরাজিত প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে। শ্রীলঙ্কার সরকার বদলের প্রাক্কালে এমন এক সদর্থক ভূমিকা নেওয়ার জন্য সে দিন দেশ-বিদেশ থেকে রাজনীতিকরা রাজাপক্ষের প্রশংসা করেছিলেন। সেই তালিকায় ছিল মার্কিন বিদেশসচিব জন কেরির নামও। কিন্তু এর রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন রাজাপক্ষে। সমরবীরার বক্তব্য, সেনা অভুত্থানের সম্ভাবনা নেই দেখেই সে দিন নিজের হার স্বীকার করে নেন রাজাপক্ষে।

তবে সরকারের হাতে বিদায়ী প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে বলেই দাবি করেছেন সিরিসেনার প্রধান মুখপাত্র রজিতা সেনারত্নে। নতুন মন্ত্রিসভায় সেনারত্নে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হবেন বলে কানাঘুঁষো শোনা যাচ্ছে। সেই সেনারত্নে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সেনা প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল দয়া রত্নায়েককে সেনা মোতায়েনের জন্য প্রবল চাপ দিয়েছিলেন রাজাপক্ষে। কিন্তু সেনাপ্রধান গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোর উপর আস্থা রেখে রাজাপক্ষের অনুরোধ মানতে অস্বীকার করেন। সেনারত্নের কথায়, “শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উনি (রাজাপক্ষে) ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করেছিলেন। যখন দেখলেন আর কিছু করার নেই, তখন সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।” সেই সঙ্গেই তাঁর বক্তব্য, “সেনা কম্যান্ডার, পুলিশের আই জি এবং নির্বাচন কমিশনের সততার আমরা প্রশংসা করি। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে আস্থা রেখে গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য বজায় রাখতে ওঁরা সাহায্য করেছেন।”