সন্ত্রাসবাদীদের আর্থিক মদত আটকাতে প্যারিসে ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) বৈঠকের দু’দিন আগেই শীর্ষস্থানীয় জঙ্গি নেতাদের গ্রেফতারের বার্তা দিল ইমরান খানের সরকার। পাকিস্তান আজ জানিয়েছে, লস্কর-ই-তইবা/ জামাত-উদ-দাওয়ার শীর্ষস্থানীয় চার নেতাকে গ্রেফতার করেছে তারা। ভারতীয় কূটনীতিকেরা অবশ্য মনে করছেন, এ সবই ইসলামাবাদের নাটক, লোকদেখানো পদক্ষেপ।

রবিবার থেকে প্যারিসে এফএটিএফের প্লেনারি বৈঠক। চলবে তিন দিন। জঙ্গি মদতের প্রশ্নে সেখানে চাপের মুখে পড়তে হবে— তা বুঝেই লস্করের চার নেতা জাফর ইকবাল, মহম্মদ আশরফ, আব্দুল সালাম ও ইয়াহিয়া আজিজকে আজ গ্রেফতার করা হয়েছে। গত বছরের জুন মাসে এফএটিএফের ধূসর তালিকায় রাখা পাকিস্তানকে ২০১৯-এর অক্টোবরের মধ্যে জঙ্গি মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ করার কথা বলা হয়েছিল। না হলে ইরান কিংবা
উত্তর কোরিয়ার মতো কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাদের। এই পরিস্থিতিতেই শীর্ষস্থানীয় জঙ্গি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের আড়ালে তাদের কাজকর্মে লাগাম টানার বার্তা দিল পাকিস্তান।

ইসলামাবাদকে কোণঠাসা করতে গত কালও চাপ বাড়িয়েছিল নয়াদিল্লি। কিছু দিন আগে পাকিস্তান জঙ্গি হাফিজ সইদের দৈনন্দিন কাজ চালানোর মতো অর্থ তার বাজেয়াপ্ত করা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে তুলতে দিতে রাষ্ট্রপুঞ্জের সন্ত্রাসবাদ বিরোধী কমিটিকে অনুরোধ করেছিল। তাতে ছাড়ও মিলেছে। এই পরিস্থিতিতেই বুধবার রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভার একটি কমিটির বৈঠকে পাকিস্তানকে নিশানা করে ভারতের প্রতিনিধি ইয়েদলা উমাশঙ্কর বলেন, কোনও জঙ্গি কিংবা সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীকে সরাসরি অথবা ঘুরিয়ে অর্থসাহায্য করার চরম বিরোধী নয়াদিল্লি। জঙ্গিদের আর্থিক মদত আটকাতে এফএটিএফের সঙ্গে রাষ্ট্রপুঞ্জের সমন্বয় বাড়ানোর জন্য সওয়াল করেন তিনি।