পাকিস্তানের নানকানা সাহিবে এক শিখ তরুণীকে অপহরণ করে জোর করে ধর্মান্তরিত  করার অভিযোগ উঠেছিল। সেই তরুণীকে উদ্ধার করে ঘরে ফেরাল পুলিশ। এই ঘটনায় আট জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তানকে ‘উপযুক্ত পদক্ষেপ’ করতে বলা হয়েছিল বলে জানিয়েছে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক। তবে জগজিৎ কৌর নামে ওই তরুণীর আইনজীবী জানিয়েছেন, তাঁর মক্কেল স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে এক মুসলিম যুবককে বিয়ে করেছেন। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, পরিবারের হাতেই খুন হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন জগজিৎ। 

বছর আঠারোর ওই তরুণী নানকানা সাহিবের বাসিন্দা। তাঁর বাবা স্থানীয় একটি গুরুদ্বারের গ্রন্থি (পুরোহিত)। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে তরুণীর পরিবার জানায়, বাড়িতে ঢুকে জগজিৎকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গিয়েছে এক দল দুষ্কৃতী। জোর করে তাঁকে ধর্মান্তরিত করিয়ে স্থানীয় এক মুসলিম যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা অভিযোগ করেন, সব জেনেও সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে না পুলিশ। বোনকে না ফেরালে সপরিবার গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার হুমকি দেন তরুণীর দাদা। 

এক দিকে গুরু নানকের ৫৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পাকিস্তান করতারপুর করিডর খুলে দেওয়ার কথা বলছে। তখন নানকানা সাহিবে (গুরু নানকের জন্মস্থান) এই ঘটনায় ভারত সরকারের কাছেও দরবার শুরু করে শিখ সংগঠনগুলি। আজ ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক জানায়, ঘটনাটি নিয়ে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা। পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরেন্দ্র সিংহও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপের আর্জি জানান। তার পরেই দ্রুত পদক্ষেপ করে পাক পুলিশ। গত কাল কোর্টের নির্দেশে প্রথমে তরুণীকে একটি হোমে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে বাড়িতে ফেরানো হয়। 

জগজিতের আইনজীবী শেখ সুলতানের অবশ্য দাবি, স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন তাঁর মক্কেল। সুলতান জানান, জগজিতের পরিবার ও পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ এনে ইতিমধ্যেই লাহৌর হাইকোর্টে আর্জি পেশ করা হয়েছে। তাতে জগজিৎ জানিয়েছেন, তিনি স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মহম্মদ হাসান নামে এক মুসলিম যুবককে বিয়ে করেছেন। পরিবারের সদস্যেরা তাঁকে খুন করতে পারেন বলেও আর্জিতে আশঙ্কা জানিয়েছেন তিনি।