কথা যত, টুইট তত! দিনের বেশির ভাগ সময়টা দিব্যি কাটছে ফেসবুকেও। কিন্তু এই সোশ্যাল মিডিয়ারই দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহারে বিভ্রান্তি বাড়ছে সমাজে। আর ঠিক সেই কারণেই নেটিজেনদের এ নিয়ে সতর্ক করলেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সামাজিক কোনও ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে চাইলে শুধু ‘হ্যাশট্যাগ’-এর অংশ হলেই হবে না। নেটিজেনদের মাঠে নামার কথাও বললেন ওবামা। যদিও টুইটে দড় বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে একটি শব্দও খরচ করলেন না তাঁর পূর্বসূরি।
কথা হচ্ছিল ব্রিটেনের এক রেডিও স্টেশনে। টেবিলের ও-পারে ওবামার সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন চ্যানেলটির এক দিনের অতিথি সম্পাদক ব্রিটেনের রাজকুমার হ্যারি। তিনিই উপস্থাপক। সেপ্টেম্বরে শ্যুট করা ওই অনুষ্ঠানটি গত কাল সম্প্রচারিত হয়েছে। ওবামা-ঘনিষ্ঠদের দাবি, হোয়াইট হাউস ছাড়ার পরে প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের এটাই প্রথম খোলাখুলি সাক্ষাৎকার।
কী বললেন ওবামা? বড়দিন পার করে রেডিওয় কান পাততেই শোনা গেল তাঁর ‘সাবধানবাণী’। বিশেষত যাঁরা নেতৃত্বস্থানীয়, সোশ্যাল মি়ডিয়ার অপব্যবহার থেকে তাঁদের শতহস্ত দূরে থাকার পরামর্শ দিলেন শান্তির নোবেলজয়ী প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট। তাঁর কথায়, ‘‘ইন্টারনেটের অন্যতম বিপজ্জনক দিক হল, এতে প্রভাবিত হয়ে মানুষ বাস্তব থেকে সম্পূর্ণ আলাদা কোনও দুনিয়ায় গিয়ে পড়তে পারে। একেক জনের কাছে একেক রকম দুনিয়া। মনে হতে পারে, আমি যা শুনছি-দেখছি সেটাই ঠিক। বাকিরা ভুল। অথচ বাস্তবটা কিন্তু আদতে এমন খণ্ডিত নয়।’’ 
তাই ওবামার পরামর্শ, সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহারে আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। বিশেষত নেতাদের। প্রয়োজনে ‘অফলাইন’ বা মুখোমুখি সাক্ষাৎ-আলোচনাই নেতাদের পক্ষে অনেক বেশি কাজের বলে মন্তব্য করেন ওবামা। তাঁর মতে, বিভেদ তৈরি নয়, বরং নানাবিধ বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে তোলাই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের লক্ষ্য হওয়া উচিত। সমাজের উগ্র মতামত খণ্ডন করার সব চেয়ে ভাল উপায় হল সরাসরি মানুষের মুখোমুখি হওয়া।
আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আবার অভিযোগ, তিনি সাংবাদিক বৈঠকের থেকেও বেশি স্বচ্ছন্দ টুইটারে। সাংবাদিকদের দাবি, ক্ষমতায় আসা ইস্তক একাধিক বিতর্কিত ঘোষণা তিনি সোশ্যাল মিডিয়াতেই করেছেন। এক টুইটে বিতর্ক উস্কে দিতেও ট্রাম্পের জুড়ি মেলা ভার। তাঁর কি-বোর্ড থেকে ভুলে ভরা, অসম্পূর্ণ টুইটও এন্তার বেরিয়েছে। টের পেয়ে আগেরটি বাতিল করে হয়তো বা বদলেও নিয়েছেন টুইট-ভাষ্য। রেডিও সাক্ষাৎকারে ওবামা তাই আদতে নিজের উত্তরসূরিকেই বিঁধতে চাইলেন কি না, প্রশ্ন তুলছে সংবাদমাধ্যম। ওবামা নিজে যদিও এই প্রসঙ্গে একবারও ট্রাম্পের নাম করেননি।
তবু হ্যারির প্রশ্নে চলেই এল হোয়াইট হাউস প্রসঙ্গ। ভাল-মন্দ মেশানো মিশ্র অনুভূতির কথা জানালেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বললেন, এখন তিনি অবসর উপভোগ করছেন। নিজের কাজের প্রতি আরও বেশি করে মনোনিবেশ করতে পারছেন। আট বছর হোয়াইট হাউসে থাকাকালীন ফার্স্ট লেডি মিশেলকে যে ভাবে পাশে পেয়েছেন, তার ঢালাও প্রশংসা করলেন ওবামা। সঙ্গে উঠে এল খেদও। প্রাক্তনের কথায়, ‘‘অনেক কাজ বাকি ছিল।’’
তবে ‘ওবামা-কেয়ার’ নিয়ে তিনি যে তৃপ্ত সেটাও স্পষ্ট হয়ে গেল সাক্ষাৎকারে। হ্যারিকে তিনি বলেন, ‘‘আমেরিকার প্রায় দু’কোটি মানুষকে প্রথম বার স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনতে পারাটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।’’ কিন্তু ট্রাম্প যে এখন সেটাও তুলে দিতে চাইছেন? সাক্ষাৎকারে বিতর্কিত এই প্রসঙ্গটাও সযত্নে এ়ড়িয়ে গিয়েছেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট।