বর্তমানের বিরুদ্ধে এ বার সরাসরি মুখ খুললেন প্রাক্তন। হোয়াইট হাউস ছাড়ার পরে এই প্রথম। নভেম্বরে মার্কিন কংগ্রেসের অন্তর্বর্তী নির্বাচন। শুক্রবার দলের হয়ে তার প্রচারে নেমেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিঁধে দেশে ‘স্বাস্থ্যকর গণতন্ত্র’ ফিরিয়ে আনার ডাক দিলেন বারাক ওবামা। ট্রাম্প অবশ্য তাতে বিশেষ পাত্তা দিলেন না। তিনিও  প্রচারমঞ্চ থেকেই বললেন, ‘‘টিভিতে হচ্ছিল বটে। কিন্তু আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।’’

ক্ষমতাবদলের পরে ট্রাম্প জমানার নানাবিধ নীতি নিয়ে মন্তব্য করলেও, এত দিন সরাসরি রাজনৈতিক মন্তব্য এড়িয়ে গিয়েছেন ওবামা। কাল ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে বললেন, ‘‘ডোনাল্ড ট্রাম্প সমস্যার কারণ নন। লক্ষণ মাত্র।’’ তা হলে আসল সমস্যাটা কোথায়? প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের মতে, দিনের পর দিন দেশের রাজনীতিকেরা যে ভাবে জনমানসের ক্ষোভের গোড়ায় হাওয়া দিয়ে এসেছেন, ট্রাম্প এখন তারই  ফল কুড়োচ্ছেন।

সমাধানের উপায় তাই নির্বাচনে সক্রিয় অংশগ্রহণ। বাড়িতে বসে ‘হ্যাশট্যাগ’ বা ‘টুইট-আন্দোলন’ নয়, গণতন্ত্রকে বাঁচাতে প্রত্যেক মার্কিন নাগরিককেই ভোটের লাইনে দাঁড়াতে ডাক দিলেন ওবামা। সব কিছুতেই দোষ দেখার মানসিকতা আর উদাসীনতাই গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় হুমকি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আর এই সূত্রে ওবামা এ দিন একহাত নেন ট্রাম্পের দলের রাজনীতিকেও। তাঁর কথায়, ‘‘রিপাবলিকানদের হলটা কী? কমিউনিজমের বিরুদ্ধে লড়াটাই এক সময় এই দলের মূল নীতি ছিল। অথচ আজ দেখছি, এরাই কেজিবি-র প্রাক্তন প্রধানের সঙ্গে (রুশ প্রেসি়ডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন) সখ্য বাড়াচ্ছেন।’’

সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছিল, স্বার্থপূরণ করতে রিপাবলিকানদের একটা অংশ ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসে রেখে দিতে চাইছেন। এর কড়া সমালোচনা করে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বলেন,  ‘‘এ ভাবে কোনও গণতন্ত্র চলতে পারে না।’’

তাঁর মতে, ট্রাম্প জমানায় ভয়াবহ এক রাজনৈতিক অন্ধকারের মধ্যে রয়েছে দেশ। কূটনীতিকদের একাংশ বলছেন, হোয়াইট হাউস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরে এ ভাবে আর কেউ এমন রাজনৈতিক আক্রমণ করেননি তাঁর পূর্বসূরিকে। ওবামা প্রথা ভাঙলেন। সংবাদমাধ্যমকে দেশের শত্রু বলা থেকে শুরু করে, এফবিআই-কে রাজনৈতিক স্বার্থে কাজে লাগানো, ইচ্ছেমতো ছাঁটাই— ট্রাম্পকে বিঁধতে গিয়ে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এ দিন প্রায় কিছুই বাদ দেননি। সম্প্রতি ট্রাম্পের বিপুল অঙ্কের করছাড় দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ওবামা। পরোক্ষে রিপাবলিকানদের কাছেই জানতে চান, এতে রাজকোষের যা ক্ষতি হল তা নিয়ে প্রশ্ন কোথায়?

এ সবের জবাব দিতে গিয়ে ট্রাম্প প্রথমটায় হাল্কা চালে বলেন, ‘‘ভালই তো বলছিলেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট। বেশ ভাল। ঘুমের পক্ষে তো ভাল বটেই।’’ পরে খানিক সুর চড়ান ফার্গোর জনসভায়। তাঁর আমলে যা কিছু উন্নতি হয়েছে, ওবামা তাঁর অকারণ কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন প্রেসিডেন্ট। সুর চড়িয়েছে তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টিও।  সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম টুইট করেন, ‘‘ওবামা এ ভাবে যত বেশি রাজনীতির মধ্যে ঢুকবেন, তত বেশি লাভ আমাদের। উনি যত বেশি কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করবেন, ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের পথ ততটাই মসৃণ হবে। কোন আমলে কী হয়েছে, জনতা সব হিসেব রাখে।’’