সূত্র বলতে বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়া জঙ্গিদের ছিন্নবিচ্ছিন্ন দেহ। দেহগুলি এতটাই বিকৃত যে ঠিক ভাবে পরিচয় জানা মুশকিল। প্রায় অন্ধকারে হাতড়াতে হাতড়াতেই মিলল একটি পার্কিং টিকিট। বাতাক্লাঁ কনসার্কের বাইরে রাখা গাড়ি থেকে মেলে টিকিটটি। আপাত নিরীহ এই পার্কিং টিকিটই তদন্তকারীদের বেলজিয়াম যোগের কাছে পৌঁছে দিল। এই সূত্র ধরেই হামলার ২৪ ঘণ্টা পার হতে না হতেই ক্রমশ জোরদার হচ্ছে বেলজিয়াম যোগ।

তবে কী বেলজিয়ামে বসে প্ল্যান করা হয়েছিল বর্বরচিত এই হামলার ব্লু-প্রিন্ট?

এখনই এই প্রশ্নের উত্তর এত দৃঢ় ভাবে দেওয়া না গেলেও, গ্রেফতারি এবং বিভিন্ন তথ্য প্রমাণ থেকে তদন্তকারীদের ধারণা বেলজিয়ামের আইএস সংগঠনের সঙ্গে বড় যোগ আছে প্যারিস হামলার।

ফ্রান্সের সঙ্গে এক যোগে এই হামলার তদন্ত চালাচ্ছে বেলজিয়াম, গ্রিস এবং জার্মানি। হামলার পর বাতাক্লাঁ থিয়েটারের সামনে পাওয়া যায় একটি ধূসর রঙের পোলো গাড়ি। এই গাড়ির ভিতর পাওয়া পার্কিং টিকিট দেখেই তদন্তকারীরা জানতে পারেন, গাড়িটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল বেলজিয়ামে। প্রশাসন সূত্রে খবর, শুক্রবার বেলজিয়ামের নম্বর প্লেটওয়ালা এই গাড়িতে চড়েই হামলা চালাতে আসে জঙ্গিরা। বেলজিয়ামে বসাবসকারী এক ব্যক্তি ভাড়া নেয় গাড়িটি। পুলিশের দাবির সত্যতা মেলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানেও। বেলজিয়ামের প্লেট লাগানো এই গাড়িতে করেই কালো পাোশাকে তিন জনকে এসে হলের ভিতর ঢুকতে দেখেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। হাতে ধরা অটোমেটিক রাইফেলের গুলিবর্ষণে খতম করে ৮৭ জনকে।

এই সংক্রান্ত আরও খবর...

হানাদারদের একজন প্যারিসেরই ওমর!
যত পারো লোক মারো, তিন দলে ভাগ হয়ে টার্গেট ছিল জঙ্গিদের
গোটা বিশ্বই এখন ফ্রান্স

বেলজিয়ামের এক সংবাদ সংস্থার দাবি, হামলাকারীদের মধ্যে অন্তত তিন জনের আস্তানা বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেল্‌সের মোলিনব্রিক এলাকা। এই শহর থেকে অনেকেই আইএসের হয়ে লড়তে সিরিয়া এবং ইরাক পাড়ি দিয়েছে। তাই মোলিনব্রিকের কথা তদন্তে উঠে আসতে আর দেরি করেননি গোয়েন্দারা। ইতিমধ্যেই ওই এলাকায় তল্লাশি শুরু করেছে বেলজিয়াম পুলিশ। নিরাপত্তা জোরদার করা হয় ফ্রান্স-বেলজিয়াম সীমান্তে। হামলার পর বেলজিয়াম সীমান্তের কাছে একটি গাড়িতে কয়েক জনকে উদ্দেশ্যহীন ভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখে পুলিশ। গোয়েন্দাদের দাবি, এক ফরাসী ব্যক্তির নামে রেজিস্টার্ড গাড়িটি থেকে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। প্যারিসে হামলার জন্য গাড়িটি ব্যবহার করা হয় বলে সন্দেহ। সম্ভবত হামলার ঘটনার পর গাড়িটি মোলিনব্রিকে ফিরছিল। গাড়িতে থাকা তিন জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতেরা সকলেই ফরাসি নাগরিক। গ্রেফতারির কথা জানিয়েছেন বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী শার্ল মিশেলও।

বেলজিয়ামকে হঠাত্ কেন বেছে নিল জঙ্গিরা?

পশ্চিম ইউরোপের দেশ বেলজিয়ামকে ঘিরে আছে জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস এবং লুক্সেমবার্গ। বেলজিয়ামের নাগরিকদের মধ্যে ৪১ শতাংশই ফরাসি ভাষাভাষি। তাই তদন্তকারীদের সন্দেহ, অবস্থানগত এবং ভাষাগত সুবিধের কারণেই বেলজিয়ামকে নিরাপদ আস্তানা হিসেবে বেছে নিয়েছে জঙ্গিরা। ফ্রান্সের সীমান্তরেখা অত্যন্ত ছিদ্রবহুল। তাই এমনটা হতেই পারে, সহজ পথ হিসেবে বেলজিয়াম থেকে প্যারিসে এসে হামলা চালিয়েছে জঙ্গিরা। জানুয়ারি মাসে শার্লি এবদো-য় হামলার সময়ও বেলজিয়াম থেকে অস্ত্র আনা হয়েছিল বলে পরে জানতে পেরেছে ফরাসি প্রশাসন।