দক্ষিণ সীমান্তে প্রাচীর তোলার জন্য মরিয়া হয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বার তাঁর সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এককাট্টা হয়েছে ১৬টি প্রদেশ। ক্যালিফর্নিয়ার ফেডারেল কোর্টে মামলা দায়ের করে তারা বলেছে, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ সংবিধান বিরোধী। সরকারি অর্থ কোন খাতে কী ভাবে খরচ হবে, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে মার্কিন কংগ্রেসই। 

গত শুক্রবার সকালে হোয়াইট হাউসের রোজ় গার্ডেনে সাংবাদিকদের সামনে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন, মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর তৈরি বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থ আদায় করতে জরুরি অবস্থা জারি করছেন তিনি। যার ফলে কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই দেওয়ালের জন্য রফা হওয়া অর্থের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট তাঁর নিজস্ব ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ ৩৬০ কোটি ডলার দেওয়াল তৈরিতে ব্যবহার করতে পারবেন। অন্য খাতের অর্থও নিতে পারেন।

আর এখানেই আপত্তি জানিয়েছে ১৬টি প্রদেশ। প্রথম এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন ক্যালিফর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট অ্যাটর্নি জেনারেল জ়েভিয়ার বেকেরা। তিনি বলেন, তাঁর প্রদেশ এবং অন্য প্রদেশে সামরিক খাত, বিপর্যয় মোকাবিলা-সহ অন্য সব ক্ষেত্রে যে অর্থ ধার্য করা থাকে, এ বার তাতে টান পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘সাধারণ মানুষের জন্য করদাতাদের যে অর্থ রাখা আছে, তা লুট করতে চলেছেন প্রেসিডেন্ট। তাই আইনি পথেই এর বিরুদ্ধে লড়ার কথা ভাবা হয়েছে।’’ ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের নিন্দা করেছেন সাত জন রিপাবলিকান সেনেটরও। তাঁদের মতে, ‘‘এটা বিপজ্জনক নজির। প্রেসিডেন্ট তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। নিজের সিদ্ধান্তের জেরে সাংবিধানিক সঙ্কটের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন দেশকে।’’

প্রাচীর তৈরিতে ৫৭০ কোটি ডলার চেয়েছিলেন তিনি। কংগ্রেসের সঙ্গে বাজেট চুক্তির পরে দর কষাকষি করে শেষমেশ ১৪০ কোটি ডলারে রফা হয়। এড়ানো যায় দ্বিতীয় দফার শাটডাউন। কিন্তু জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে চাইলে ট্রাম্প ৬৭০ কোটি ডলারও জোগাড় করে ফেলতে পারেন, যা কংগ্রেসের অনুমোদিত অর্থের তুলনায় অনেকটাই বেশি।