যা নিয়ে জুনের মাঝামাঝি থেকে অশান্ত হংকং, বিতর্কিত সেই অপরাধী প্রত্যর্পণ বিল এখন ‘মৃত’ বলে ঘোষণা করলেন হংকংয়ের প্রশাসনিক প্রধান ক্যারি ল্যাম। বিক্ষোভ মাত্রা ছাড়াচ্ছে দেখে এর আগে তিনি ক্ষমা চেয়েছিলেন। আপাতত বিল স্থগিত রাখার কথাও ঘোষণা করেছিলেন। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে ল্যাম স্পষ্ট বললেন, ‘‘আইনে পরিবর্তন চেয়ে সরকার যে ভাবে এগিয়েছিল, তা ব্যর্থ হয়েছে।’’

তা হলে কি বিল প্রত্যাহার করা হচ্ছে? প্রশ্নটা এড়িয়ে গেলেন ‘বেজিং-পন্থী’ হিসেবে পরিচিত ল্যাম। হংকংবাসীদের একাংশও তাই অনড় রইলেন বিক্ষোভে। বিল প্রত্যাহারের পাশাপাশি তাঁদের দাবি, সাম্প্রতিক বিক্ষোভ-আন্দোলনের জেরে যাঁরা গ্রেফতার হয়েছেন, তাঁদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।

আইনে ল্যাম যে বদল আনার প্রস্তাব দেন, তাতে ছিল— কোনও অপরাধীকে মামলার প্রয়োজনে অন্য দেশের হাতে প্রত্যর্পণ করা যাবে। এই দেশগুলির মধ্যে যে হেতু চিনও রয়েছে, তাই গোড়াতেই এ নিয়ে আপত্তি তোলেন বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য ছিল, এই আইন পাশ হলে ফের ‘দাদাগিরি’ শুরু করবে চিন। তার পর ১ জুলাই ব্রিটেন থেকে চিনের হাতে হংকংয়ের ক্ষমতা হস্তান্তরের ২২তম বর্ষপূর্তিতে ফের অশান্ত হয় পরিস্থিতি। সেই প্রেক্ষিতে ল্যামের আজকের সাংবাদিক বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন একাংশ। রয়েছে বিরুদ্ধ মতও।

হংকংয়ে শান্তি ফিরুক, চাইছে ভারতও। সম্প্রতি মৈত্রীর সুরেই চিনের কাছে এমন বার্তা দিয়েছে কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকার। বেজিংয়ে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিক্রম মিস্রী সম্প্রতিই দেখা করেছেন হংকংয়ের প্রশাসনিক প্রধান ক্যারি ল্যামের সঙ্গে। কিন্তু আমেরিকা অযথা হংকং নিয়ে জলঘোলা করছে বলে মনে করছে বেজিং। এ নিয়ে আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তারা। সূত্রের খবর, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ও বিদেশসচিব সম্প্রতি হংকংয়ের এক প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমের কর্তার সঙ্গে বৈঠক করে গিয়েছেন। আজ এর পাল্টা লিখিত কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়েছে বেজিং।

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও।সাবস্ক্রাইব করুনআমাদেরYouTube Channel - এ।